আইসিস (ISIS)-এ এখন ক্রাইসিস !
July 11, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

আইসিস (ISIS)-এ এখন ক্রাইসিস !

নানা জায়গায় নানা রকমের নোংরা নাশকতা আর নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে হত্যা করে তার ক্রেডিট নিয়ে আইসিস অনেক হম্বি তম্বি করলেও সত্যি কথা বলতে গেলে এই আইসিস এখন যথেষ্ট ক্রাইসিস এ আছে। আর ঠিক সে কারনেই ইদানীং তাদের ফাকা কলসী আরো বেশী বাজছে। কোথাও একটা পটকা বা টায়ার ফুটলেও আইসিস বিবৃতি পাওয়া যায় যে এটা তারা ফুটিয়েছে। তাদের তথাকথিত খিলাফত এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে আর সেই সাথে কিছু কিছু জায়গায় বা মানুষের কাছে তাদের সামান্যতমও গ্রহনযোগ্যতা ছিল বলে আগে মনে হতো এখন আর তাও নেই।

প্রথমেই রাশিয়া-আমেরিকা সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় বড় দেশের আক্রমনে তাদের যা শক্তি ছিল তার অর্ধেকেই নেমে গেছে কারন তেলের সাপ্লাই এখন বন্ধের পথে। আর অবৈধ উপায়ে দখল করা তেলের খনির তেল বিক্রি করাই আইসিস এর রোজগারের মূল উৎস ছিল এতদিন। তাদের ১২ টা বাজার আরো একটা কারন হলো শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে নাশকতা করা, নরহত্যা করা। ইসলাম যে একটি শান্তির ধর্ম সেটি পৃথিবীর সব ধরনের মানুষই কম বেশী বিশ্বাস করেন আর আইসিস ইসলাম নিয়ে ব্যবসা তাই লাটে উঠেছে। কারন মানুষ এখন অনেক সচেতন। আজকাল ফেসবুক টুইটারের যুগ। মানুষ অনেক ইনফর্মড থাকে। ঠিক এমনটাই বলছে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পত্রিকা দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট। তাদেরই একটা সার্ভেতে দেখা গেছে যারা আগে আইসিসের আইনে সিরিয়াতে থাকত এবং যারা সিরিয়ে থেকে পালিয়ে তুরস্কে চলে গিয়েছে, তাদের শতকরা ৮০ ভাগই মনে করেন আইসিস যা করছে তা শতকরা ১০০% ইসলাম পরিপন্থী। কিন্তু কিছুদিন আগেও এরা আইসিস এর মতাদর্শে একটু হলেও বিশ্বাস করত। আইসিস এর ধর্ম নিয়ে ব্যবসা এখন সবাই কমবেশী বুঝতে পারছে। আর তাছাড়া আইসিসকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছিল বা কারা তৈরী করেছিল এ নিয়ে এখন অনেক ধরনের দন্দ বিদ্যমান এবং নানা আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব কথা উঠে আসছে বার বার। দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট থেকে একটি উক্তি এখানে দেয়া যেতে পারে –

” Surrounded on three sides by Isis, a group of women from the town gathered last week to speak of their experiences at a rare focus group. “They are like a monster that suddenly appeared,” said one young mother, who like the other women at the meeting, did not want to be named. Another woman added: “Daesh [Isis] are the death that is stretching from the east. When you see them it is as if you are seeing the Angel of Death. They are the ugliest thing that has emerged from the most beautiful thing [Islam].”

খোদ সিরিয়াতেই, বিশেষ করে রাক্কা শহরে যার তিন দিক দিয়ে আইসিসের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ঘেরা, সেখানকার অনেক জায়গায় আইসিস বিরোধী নানা ফোকাস গ্রুপ গড়ে উঠছে যার বেশীরভাগই সাধারন নাগরিকদের নিয়ে। এরাই কিন্তু এক সময় আইসিসকে একটু হলেও সাপোর্ট করত। পরবর্তীতে আইসিসের সত্যিকার চেহারা দেখে, তাদের বীভৎস হিংস্রতা দেখে তাদের বোধদয় হয়। রাক্কা শহরের ৫৪% অধিবাসী এখন একটি নতুন সরকার চায় এবং চায় আইসিসকে যেকোন উপায়ে দমন করতে। আর আইসিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এখন আমেরিকা ছাড়াও আরও অনেক দেশ এমনকি রাশিয়া-জার্মানীও যোগদান করেছে। যদিও রাশিয়ার যোগদান করাটা আমেরিকা তেমন একটা পছন্দ করেনি কেন জানি, কিন্তু পুতিন সাহেব “সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে” আমেরিকাকে সাহায্য করার জন্যই এগিয়ে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন আর তার যুক্তি কেউ খন্ডাতে পারে নি। আর আইসিস এর উপর রাশিয়ার আক্রমনটাই আইসিস এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে অন্তত এখন পর্যন্ত। অনেকে বলেছেন “রাশিয়া আইসিস হটানোর জন্য বদ্ধ পরিকর”। আর কেন জানি আমেরিকা এধরনের তথাকথিত “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে” বার বার ফেল করে।

আইসিস শুধু মাত্র ত্রাস সৃষ্টি করার মাধ্যমেই মানুষের মাঝে একটা ভয় তৈরী করেছে। কিছু নিরীহ লোকজনকে কিডন্যাপ করে তাদের জবাই করে মেরে তার ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া তাদের প্রথম দিককার ত্রাস ক্যাম্পেইনের মধ্যে একটা। নিজেদের ইসলামের সৈন্য বললেও এখন মানুষ জানে তারা ইসলামের ঘোরতর শত্রু। কদিন আগে আমাদের দেশেও তাদের কাপুরুষোচিত আক্রমন এটাই কনফার্ম করে – তারা আসলে সামনাসামনি যুদ্ধে কিছুই না। তারা কেবল মাত্র নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপরেই আঘাত হানতে পারে আর এভাবেই তারা ভয় সৃষ্টি করছে।

এ বছরের শুরুতে আইসিস একটা ভিডিও মেসেজ এর মাধ্যমে ব্রিটেনকে অনেক হম্বিতম্বি একটা হুমকি দিয়েছিল যে তারা হেন করবে ত্যান করবে। ঠিক যেরকম বাংলাদেশকে কদিন আগে দিয়েছিল। কিন্তু আদপে তারা ধারেকাছেও যেতে পারে নি তারা। তাদের বীভতসতা আর হিংস্রতা মূলত তাদের দুর্বলতা ছাড়া আর কিছুই না। তাদের আর কিছুই নেই, তাই এসবকে পুজি করেই তাদের ধর্ম ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে আপাতত। এ পর্যন্ত ২০,০০০ আইসিস সন্ত্রাসীদের যৌথ আক্রমনে হত্যা করা হয়েছে গত কয়েকমাসে। রাশিরার ক্রেডিট এখানে একটু বেশী। তারা এব্যাপারে অন্যান্য দেশের তুলনায় একটু বেশী সিরিয়াস। আর তাদের মার্কেটিং বা রিক্রুটমেন্টের চালাকিও মানুষ এখন ধরে ফেলেছে। কিছুদিন আগে তারা ব্রেইনওয়াশ জাতীয়ক কাজগুলো ভাল করতে পারলেও এখন আর তেমন একটা করতে পারছে না। আইসিসে যোগদান করতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যাও কমে গেছে।

অনেকের মতে আইসিস একটা কন্সপিরেসি থিওরীর অংশ। পেছনকার কলকাঠিগুলো নাড়ছে হয়তো অন্য কোন জায়গা হতে। ইসরায়েলের দিকেই আংগুল বেশি উঠে এক্ষেত্রে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো আইসিসের কেন জানি ইসরায়েলের প্রতি অদ্ভুত একটা ‘এলার্জি’ আছে।

ইসলামের ঘোরতর শত্রুরাই আজ নিজেদের ইসলামের ‘সৈন্য’ বলে ব্যবসা করছে। আসলে এসবই একটা বড় ব্যবসা ছাড়া কিছু না। একটা জঙ্গী গ্রুপ বানিয়ে কোন এক জায়গায় একটা যুদ্ধ লাগিয়ে পৃথিবীকে অশান্ত করে রাখা। যুদ্ধে ব্যবহার করা অস্ত্র বিক্রি করা হলো আবার অনেক সম্পদও আরোহন করা হলো। আসলে আমরা যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা আছি নানা দেশে, তাদের মধ্যে তেমন কোন ইউনিটি নেই। এক মুসলিম দেশ আরেক মুসলিম দেশের পেছনে লেগে থাকে। হাজারো শ্রেণী বিভেদ আর ডিস্ক্রিমিনেশন। বাংলাদেশী মুসলমান হয়ে যান ডুবাই, কুয়েত বা সৌদি-আরবে! আপনাকে তারা না দেখবে একজন মুসলমান হিসেবে, আর না দেখবে একজন মানুষ হিসেবে। তারা আপনাকে দেখবে একজন “মিসকিন” হিসেবে। আমাদের ভেতরকার দুর্বল ঐক্যের জন্যই আজ আমরা নানাভাবে ভিক্টিম হচ্ছি আর ইসলামকে কলঙ্কিত করছে আইসিসের মত নোংরা হায়েনার দল।

মানবতার জন্য, ধর্মের জন্য মানবতা না। এটাই পরিশেষ। এটাই শুদ্ধ। আর আমাদের দেশে আইসিসের মত কাপুরুষ টাইপের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কোনদিনও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। হয়তো পেছন থেকে আক্রমন করে কিছু নিরীহ মানুষকে হত্যা করবে তাদের “বাহাদুরী” দেখানোর জন্য কিন্তু অতটুকুই। ১৬-১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। চাইলে পারেনা এমন কিছু নেই। যদি দরকার পড়ে আইসিসকে চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে আমার দেশের মানুষ। শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশীরা নির্ভীক। যদি গায়ের উপর এসে পড়ে, তাহলে শুধু আইসিস কেন, আইসিস এর মত আরো হাজারো চিকেন স্টেট টেররিস্ট বাহিনীকে পিটিয়ে বের করে দিয়ে পারবে বাংলার ১৬ কোটি মানুষ।

We love to live in peace, but if needed, we can make any evil forces to be pieces.

Proud to be a Bangladeshi.

 

 

আপনার মন্তব্য