মানুষ কি দিন দিন হিংস্র হয়ে যাচ্ছে ?
July 25, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

মানুষ কি দিন দিন হিংস্র হয়ে যাচ্ছে ?

চারিদকে তাকালে মনে হয় পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষের যেন কোন ক্লান্তি নেই – ভায়োলেন্সের বেলায়। রক্তাক্ত মনে হয় খুব পৃথিবীটাকে। এখানে যেন কারও কোন ছাড় নাই হিংস্রতা থেকে। সামান্য ৭-৮ বছরের বাচ্চারও কোন মাফ নেই। এই তো গতকাল একটি বাচ্চাকে খুন করা হলও পায়ুপথে বাতাস প্রয়োগ করে ! কি নিষ্ঠুরতা? কি হিংস্রতা? মানুষ কি দিন দিন পশু হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে সন্ত্রাসী হামলা, আইএস, আলকায়দা, নির্বিচারে গুলি, জবাই করে মানুষ হত্যা করা – কি হচ্ছে না। টিভি খুললেই সংবাদে শুধু শোনা যায় কোথায় বোমা হামলা হয়েছে, কত মারা গিয়েছে বা কোন চ্যানেলে কত বেশী ডেড-কাউন্ট হচ্ছে সেই প্রতিযোগিতা। ইরাক, সিরিয়া, গাজা, আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানী এমনকি বাংলাদেশ – কোথায় হচ্ছে না এসব হিংস্রতা? দেখে মনে হচ্ছে সবকিছু বিশাল কোন যুদ্ধের দিকে, বড় কোন ভায়োলেন্সের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ওকে, আপাতত এই চিন্তাটা এখানে একটু থামাই। সবকিছু এমন মনে হলেও কিন্তু আসলে এমন নাও হতে পারে!

হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিস্ট স্টিভেন পিঙ্কার বলেছেন “ভায়োলেন্স আছে, এবং একেবারে শূন্য হয়ে যায়নি কিন্তু মানুষের অতীত আরও বেশী হিংস্র ছিল”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৩০০ জনই প্রাণ হারিয়েছিল যুদ্ধকালীন প্রতিটি বছরে। কোরিয়ান যুদ্ধের সময় সংখ্যা কমে আসে ১০ গুন আর ১৯৮০-১৯৯০ সালে তার সংখ্যা আরও ১০গুন কমে আসে। এখনকার সময়ে প্রতি বছর যুদ্ধের কারণে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে মারা যাচ্ছে ১ জন। পার্থক্য টা দেখেছেন কত বড়। এগুলো আমার কথা না। রেফারেন্স টা নেয়া হয়েছে পিঙ্কারের ২০১১ সালে প্রকাশিত বই – ” The Better Angels of our Nature: Why Violence has Declined” থেকে। শুধুমাত্র পত্রিকার হেডলাইন দেখে যদি আপনি বিচার করেন তাহলে আপনার মনে হবে পৃথিবী এখন সাক্ষাত নরকে পরিণত হয়েছে। কারণ পৃথিবীর যেকোন জায়গায় যেকোন ধরনের অঘটনে প্রতি দেশের পত্রিকায় হেডলাইন হয় সেই একই ঘটনা। পত্রিকার খবর হল যা ঘটে তার একটা বিবরণ আর না ঘটে যাওয়া ব্যাপারগুলো তো আড়ালেই থেকে যায়। যেমন কোথাও ভায়োলেন্স হলেই পত্রিকায় আসে, কিন্তু ভায়োলেন্স না হলে কি পত্রিকায় আসে? যেখানে বোমা ফাটছে না সেসব জায়গার খবর কি আপনি পাচ্ছেন? পিঙ্কার তার এক বইতে বলেন

“If you have some sort of cause, if you’re trying to rally supporters behind a movement, people think the most effective way to do it is to give people an impression that things are getting worse, and that they have to act now, otherwise things will get worse still. Personally, I’m not convinced that’s the best way to mobilize people for a cause because it’s easy to throw up your hands and say that part of the world is a hell-hole; they’ve always hated each other; they always will hate each other; it’s intractable; there’s nothing we can do,” he explains. “When you start to see that intractable conflicts are not, that is, people can seemingly hate each other for a long time and then lay down their arms and not pick them up again, it kind of emboldens you to say, well, maybe we can do that again.”

পৃথিবীতে এখন যুদ্ধবাজ মানুষের সংখ্যা অতি নগণ্য। মানুষ এখন শান্তি চায়। ১৫ই ফেব্র্যারী ২০০৩ সালে ৬০ টি দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ একযোগে বলেছিলেন “NO to WAR”। ৩০ লক্ষ মানুষ রোমে এর সাপোর্টে মার্চ করছিল, ১৫ লক্ষ ছিল লন্ডনে, ১৩ লক্ষ ছিল বার্সেলোনায় এবং আরো ১৫ লক্ষ মার্চ করছিল নিউইয়র্কে – শান্তির জন্য, যুদ্ধের বিপক্ষে। এটি ছিল যুদ্ধের বিরুদ্ধে এ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্দোলন। ও হ্যাঁ, ইরাক যুদ্ধের আগেই এই ঘটনা ঘটেছিল যাতে করে ইরাকের যুদ্ধটি না হয়। এখন আর আগের মত ভায়োলেন্স দিয়ে আন্দোলন হয় না বরং শান্তিপূর্ন আন্দোলনেই মানুষ বেশী বিশ্বাসী। আসলে সাধারণ মানুষ এসবের থেকে একটু দূরেই থাকতে চায়।

তাই, এই লেখাটির টাইটেলে যে প্রশ্নটি ছিল, তার উত্তর হল – না। মানুষ আগের চাইতে অনেক বেশী শান্তিপ্রিয় হচ্ছে। এবং পরিসংখ্যানের দিক থেকে পৃথিবীতে এই মুহুর্তে অনেক বেশী শান্ত পরিস্থিতিতে আছে। এবং দিন দিন এর অগ্রগতি হচ্ছে। আপাত দৃষ্টে চারিদিকে তাকালে হতাশা আসলেও আশাহত হবার কোন দরকার ঞেই। কারণ সুসময় আসছে। আরও আসবে। সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়াই সব। আর সাধারণ মানুষ চায় শান্তি। অতীতের দিকে তাকিয়ে বর্তমান সময়কে চিন্তা করলে দেখা যাবে আমরা আসলেই এখন অনেক ভাল সময় পার করছি – আমরা বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে পুরো মানবতা।

এ নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আছে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে, ভবিষ্যতেও আপলোড করা হবে। যদি দেখতে চান, তবে সাবস্ক্রাইব করে রাখুব আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য