ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনও চলছে
July 29, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

ষড়যন্ত্র কিন্তু এখনও চলছে

কল্যানপুর অভিযানের পরের কিছু ঘটনা একে একে যদি সাজানো হয় তাহলে কি দাঁড়ায় দেখা যাক –

  • গভীর রাতে কল্যানপুরে অভিযান।
  • ৬-৭ ঘন্টা পর ব্রেকিং নিউজ – ৯ জন জঙ্গি মারা গেছে, একজনকে জীবিত ধরা হয়েছে।
  • চারিদিকে একটু সংশয়। মিডিয়াতে নিউজের ছড়াছড়ি। এক এক খবর এক এক রকম।
  • সকালে যখন কনফার্ম নিউজ আসল তখন মানুষের স্বস্তি।
  • সেই স্বস্তির সাথে সাথে চিহ্নিত কিছু মানুষের জঙ্গিদের জন্য আহাজারি। তাদের হাজারো প্রশ্ন।
  • ফেসবুকের সিলেক্টেড কিছু প্রোফাইল, কয়েকজন রাজনীতিবিদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন জনতার দিকে।
  • জনতা কনফিউজড।
  • শুরু হলো প্রশ্ন বান – কেন শুধু জঙ্গী মারা গেল? পুলিশ মরে নি কেন? গায়ে কালো পাঞ্জাবী কেন? ওরা যুদ্ধ (?) করেনি কেন? তাদের দেখে জঙ্গী মনে হয় না কেন? তাদের গ্রেফতার না করে এরেস্ট করা হলো কেন? এদের আগে থেকেই কি মেরে ফেলা হয়েছিল? পুলিশ সবাইকে বোকা বানিয়েছে? হাতে ছুরি কেন? মাথায় পাগড়ি কেন? দেয়ালে আইএস এর পতাকা নতুন কেন? পেছনের নীল তেরপলের পর্দা খুলা হয়নি কেন? নিজের চোখে দেখেছেন? ইত্যাদি ইত্যাদি।
  • বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। সুশীল সমাজের মুখে ফেনা উঠা শুরু। কতিপয় রাজনীতিবীদ তাদের সুধার বানী ছাড়তে লাগল।
  • স্যোশাল নেটওয়ার্ক আরও গরম হয়ে উঠল।
  • হঠাত করে পুলিশের এক চপোটাঘাত। পুলিশ প্রকাশ করল কিছু ছবি যা জঙ্গীদের অভিযানের আগের। যেগুলো সংগ্রহ করা হলো সন্ত্রাসীদের মোবাইল-ল্যাপটপ থেকেই। জঙ্গীদের “ফটোসেশন”। সেই পতাকা, সেই ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে যেখানে নির্বাসরা ছবি তুলেছিল।
  • জঙ্গীদের পরিচয়ও আসতে শুরু করল ইতিমধ্যে।
  • একজন জঙ্গী বের হলো এক কালীন গভর্নর মোনায়েম খানের নাতি ! ৭১ এ যারা বাংলাদেশকে লুন্ঠিত করে ছিল, সেই ঘরের, সেই পরিবারের নাতি।
  • আরেকজন জঙ্গী বের হলো বঙ্গবন্ধু হত্যার সময়ে তৎকালীন ডিএফআই প্রধান ! যার ভূমিকা সেসময়ে একটু প্রশ্নবিদ্ধ ছিল – বঙ্গবন্ধুর হত্যার সময়ে।
  • সেসব জনগনের বেশীরভাগ প্রশ্ন গায়েব হতে শুরু করল।
  • অনেক ফেসবুক গোয়েন্দা গর্তে ঢুকে গেল। আবার অনেকেই রঙ পালটে সুশীল সাজার চেষ্টা শুরু করল। কেউ কেউ বাক প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে গেল।

মাস্টারমাইন্ড কারা? একটু ভেবে দেখেন তো। জঙ্গীদের লীডে কারা আছে? ইতিহাস যেমন কথা বলে তেমনি বাস্তবও কথা বলে। বাস্তবতা হলো, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আছে যারা প্রতিনিয়ত এদেশের ১২ টা বাজাতে চায়। কেউ সক্রিয় ভাবে আর কেউ মোনভাবে। যারা সক্রিয় তারা জঙ্গী দল গঠন করে আর এদলে মানুষ ভেড়ায় আর যারা মৌন, তারা আগে চুপ করে থাকলেও এখন বিরাজ করে ফেসবুকে, টুইটারে বা সুশীল সমাজের মুখোশে। ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। কারো জঙ্গী আস্তানায়, আবার কারো মনে। আর বাস্তবতা হলো, এই ষড়যন্ত্রকারীরা কোনদিন বাংলাদেশের মাটিতে স্থান পাবে না তারা যতকিছুই করুক না কেন। এদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় হলেও খুব ভালভাবে জানে কখন কাদের কিভাবে চেপে ধরতে হয়। কেউ যদি উল্টো করে, তার জবাবও উল্টো করেই দিতে জানে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ।

আপনার মন্তব্য