এখন আমরা আর কতটুকু নিরাপদ?

গুলশান ট্রাজেডি এখন শেষ। শোকের মাতম আর ফেসবুক ফিডে রক্তাক্ত লাশের ছবিতে চারিদিকে ছেয়ে গেছে। বর্বর সব হত্যাকাণ্ড। কিছুক্ষণ আগেই প্রকাশ পেয়েছে সন্ত্রাসীদের ছবি। আমাদের মিডিয়া প্রকাশ করার আগেই আইএস তাদের ওয়েবসাইটে আগে থেকে করে রাখা ফটোসেশনের ছবি পাবলিশ করে দিয়েছে। এখন তাদের পরিচয় বের হচ্ছে। আর এখানেই সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়ের শুরু হচ্ছে। হত্যাকারীদের এক এক জন নামি দামী ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র! বিদেশের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। তাদের ফেসবুকের প্রোফাইল ঘেঁটে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারবেনা কেউ এরাই ২০ জন মানুষকে জবাই করে হত্যা করেছে এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মেলায়। তাদের জীবন বৃত্তান্তই এখন ভয়ানক আশংকার কারণ।

এদের দেখলেই মনে হবে সবার মত। আলাদা করে চেনার উপায় নেই। তাদের চালচলনে বুঝার কোন উপায় নেই তারা র‍্যাডিকালাইজড। হাজারো মানুষের ভিড়ে সহজে মিশে যেতে পারে। ভাল ফ্যামিলি থেকে এসেছে তা দেখলেই বোঝা যায়। তাদের এক এক জন্মের ফ্রেন্ডলিস্ট ঘেঁটে আমি নিজেই দেখলাম আমার সাথে তাদের অনেকেরই ফ্রেন্ড মিউচুয়াল! তারা আমাদের কতটা কাছে বিরাজ করেছিল সবসময়! ঘাপটি মেরে বসেছিল কখন আক্রমণ করে বসবে! কিভাবে এদের আলাদা করবেন আপনারা? কিভাবে বুঝবেন আপনার ঘরে বা আপনার প্রতিবেশীদের মধ্যে এমন কেউ নেই! কোন উপায় কি আছে?

টেররিস্টদের একজন নির্বাস ইসলাম। সে টার্কিশ হোপ স্কুলে পড়ালেখা করেছে। খুব নামীদামী স্কুল! আধুনিক যত পদ্ধতি আছে সব পদ্ধতিতে সেখানে পড়ালেখা করানো হয় শুনেছি। এসব স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য গার্জিয়ানদের লাইন লেগে থেকে। এই স্কুল থেকে পাশ করে সে মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লেখা করতে গিয়েছিল। তার ফেসবুক স্ট্যাটাস বলে সে ওখানেই থাকত। মোনাশ মেলবোর্নের খুব নামীদামী একটি প্রতিষ্ঠান যার শাখা আছে মালয়েশিয়ার রাজধানীতে। সুদর্শন এই যুবককে দেখলে কে কল্পনা করতে পারবে সে জবাই করে মানুষ মারতে পারবে? সন্ত্রাসীদের আরেকজন নাকি স্ক্ললাস্টিকায় ছাত্র ছিল। আর বাকিদের মধ্যে কেউ কেউ নর্থসাউথের ছাত্র ছিল কোন এক সময়ে যেখানে এলিট শ্রেণীর পরিবারের সন্তানদেরই পড়তে দেখা যায়। কিছুক্ষণ আগে এক প্রিয় বন্ধু ফোনে বলেছিল, টেররিস্টদের একজন বা দুজনকে নাকি নর্থাসাউথে ক্লাস করতে দেখা গিয়েছিল তারই কোন এক ছোট বোনের সাথে। এরপর নাকি পড়ালেখা করতে বিদেশ চলে যায়। তবে কি মালয়েশিয়াতে গিয়েই তাদের ট্যানিং দেয়া হয়েছিল? তবে কি মালয়েশিয়াতে গিয়েই তাদের ব্রেইন ওয়াশ করে জঘন্য খুনি বানানো হয়েছে?

তাহলে এবার কি আমাদের চিন্তা করতে হবে আমাদের আশেপাশে এরকম আরও হাজার হাজার তরুণ লুকিয়ে আছে, ঘাপটি মেরে আছে মানুষ খুনের নেশায়! এধরনের ব্রেইন ওয়াশড কত ছেলেমেয়ে আমাদের আশেপাশে ঘুরা ফিরা করছে? কোথায় পড়াবেন নিজেদের সন্তানদের? বা এখনই কোথায় পড়াচ্ছেন? আপনি কি নিশ্চিত আপনার সন্তানদের তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রেইন ওয়াশ করানো হচ্ছে না?

আমাদের এই বাংলাদেশকে বাঁচানোর সময় এসেছে। বাংলাদেশকে এবার প্রটেক্ট করতে হবে সব ধরনের ষড়যন্ত্র আর র‍্যাডিকালিজম থেকে। যেকোন মূল্যে। হাত গুটিয়ে আমরা সাধারণ মানুষরা বসে থাকলে হবেনা। এলার্ট হবার সময় এসেছে। অভিযানে আমাদেরও নামতে হবে। আত্মশুদ্ধির অভিযান। সচেতন হবার অভিযান। শুধু নিজেকে না, আশেপাশের সবাইকে নিরাপদে রাখার অভিযানে নামতে হবে। বসে থাকার সময় এখন আর নেই। গতকাল গুলশানের রেস্তোরায় হয়েছে। কাল কোথায় কি হবে সেটা কিভাবে কে বলতে পারবে।

এবার কিছু একটা করতেই হবে। অনেক সহ্য করা হয়েছে সব। অনেক। ১৬ কোটি মানুষের চাইতে ১৬ জন বা ১৬০ জন সন্ত্রাসী কিছুই না। এবার এসব টেররিস্টকে দেখাতে হবে সাধারণ মানুষের কতটা ক্ষমতা।

বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তা টাস্কফোর্স হোক। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অব্জারভেশন সেন্টার করা হোক। বর্ডার কন্ট্রোল আর ভিসা কন্ট্রোল আরও জোরদার করা হোক। খুঁজে বের করা হোক সব নাঁটেরগুরুদের। এরা আমাদের মাঝেই লুকিয়ে আছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং গবেষকদের ডেকে সমস্যার গোঁড়া খুঁজে বের করা হোক। এরপর গোঁড়া সহ উপড়ে ফেলা হোক।

এসব টেররিস্ট গ্রুপ বাংলাদেশের না। বাইরে থেকে এদের পেট্রোনাইজ করা হয়। আর এই পেট্রোনাইজিং গুলো বাংলাদেশে বসেই কেউ না কেউ করে। ব্রেইন ওয়াশ সেন্টারগুলো খুঁজে বের করা হোক। এসব জঘন্য টেররিস্টগ্রুপের এজেন্টদের খুঁজে বের করা হোক।

একে অন্যের উপড়ে দোষ না চাপিয়ে কাজে লেগে পড়া উচিত এখনই। আর এখানে সাধারণ মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। কারণ মনে রাখবেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোন প্রটোকল থাকে না। সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য নিজেদের কাছেই বেশী থাকে আর কারও কাছে না।

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *