যেভাবে করা হয় ‘ব্রেইনওয়াশ’ ! !

গুলশান হামলার পর পর একটা শব্দ মোটামুটি সবার মনে গেঁথে গেছে – আর তা হল “ব্রেইনওয়াশ”। সবাই বলছে গুলশান ট্রাজেডির সন্ত্রাসীদের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছিল। অথবা গত ২ দিন আগে বের হওয়া আইএস হুমকি দেয়া ভিডিওতে যেখানে বাংলাদেশী কিছু সত্রাসী আমাদের হুমকি দিচ্ছিল। সবার মনে একই প্রশ্ন – এসব শিক্ষিত, ধনী আর স্মার্ট ঘরের ছেলেগুলোর ব্রেইনওয়াশ কিভাবে করা হল? কিভাবে তারা এর শিকার হল? কি এই ব্রেইনওয়াশ?

( বিঃদ্রঃ এই আর্টিকেলটি পুরোটা পড়ুন আর শেয়ার করুন সবার সাথে। ছড়িয়ে দিন যেখানে পারেন। কারণ জানাটা খুব জরুরী। ) 

ব্রেইনওয়াশ কে সোজা কথা বলা যায় প্রভাবিত করা কোন একটা সুনির্দিস্ট ভাবনায় বা মতাদর্শে। এমনভাবে প্রভাবিত করা যেন সেটি একটি অন্ধবিশ্বাসে পরিণত হয়। হিউম্যান সাইকোলজি নিয়ে ব্রেইনওয়াশের মূল খেলাটা হয়। আর এই মুহুর্তে নানা সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে এই ব্রেইনওয়াশই হল সবচেয়ে বড় অস্ত্র – তাদের দলে লোক ভেড়ানোর জন্য। তাহলে কিভাবে করা হয় এই ব্রেইনওয়াশ? চলুন ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়েই শুরু করা যাক যাতে সবার বুঝতে সুবিধা হয়।

ধরুন, আপনি জীবনে কোনদিন স্মার্টফোন ব্যবহার করেন নি। স্মার্টফোনের কোন ধরনের ব্যবহার সম্পর্কে আপনার কোন আইডিয়াই নেই একেবারে। হ্যাঁ, হয়তো লোকমুখে শুনেছেন অথবা টিভি পর্দায় বা বিলবোর্ডে দেখেছেন। শুধু জানেন যে এটি একটি যন্ত্র যার সামনে একটি স্ক্রিন আছে। এছাড়া আপনি আর কিছুই জানেন না। এখন হঠাত করেই একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন যে আপনি এবার একটি স্মার্টফোন কিনবেন। সরাসরি চলে গেলেন স্মার্টফোনের দোকানে। পকেটে একগাদা টাকা হল আপনার সম্বল। মনে রাখবেন, আপনি কিন্তু কিছুই জানেন না স্মার্টফোন সম্পর্কে। আপনার কাছে স্মার্টফোন মানেই হল ছোট একটা টিভির মত। দোকানীকে বললেন আপনার স্মার্টফোন কেনার কথা। ধরুন বলার স্টাইলটা ছিল অনেকটা এমন – “ভাই, আমি একটা টিভি স্ক্রিনের মত ছোট যন্ত্রটা কিনব যেটা পকেটে রাখা যায় আর ছবি দেখা যায় আবার কানে লাগিয়ে কি জানি শোনা যায়, যন্ত্রটার সাথে কথাও বলা যায়”। দোকানী আপনার কথাবার্তার ধরন দেখে সাথে সাথেই বুঝে যায় আপনি একেবারেই অজ্ঞ এই ব্যাপারে। কোন স্মার্টফোন কিনবেন বা কোন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন কিনবেন সেটা তো দূরের কথা, দোকানী ইতিমধ্যে বুঝে গেছে যে স্মার্টফোন যে আসলে খায় নাকি পড়ে সেটাও আপনি জানেন না। দোকানী এই সুযোগটা লুফে নিল। সে দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে স্মার্টফোনটা বের করে আনল আর আপনাকে বলল “এটা পৃথিবীর সেরা স্মার্টফোন”। আর আপনি জীবনে প্রথমবার কাছ থেকে দেখেই খুশী হয়ে বললেন “ওয়াও, আমি তো ঠিক জায়গাতে এসেছি”। দোকানী আপনাকে বুঝালো এই স্মার্টফোন দিয়ে টিভি দেখা যায় (একটি ভিডিও প্লে করে), কিংবা এদিয়ে গাড়ি চালানো যায় অথবা দুনিয়ার যত আজগুবি গাঁজাখুরি ব্যাপার থাকে সবই বুঝালো। যার অর্ধেকের বেশী ব্যাপার আপনি বুঝেনই না। কিন্তু আপনার মনে ধারনা হয়ে গেল এটাই দুনিয়ার সেরা স্মার্টফোন এবং বিশাল অংকের টাকা দিয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে স্মার্টফোনটি কিনে ফেললেন সবচেয়ে দামী স্মার্টফোনের দাম দিয়ে। যেহেতু আপনি এব্যাপারে অজ্ঞ ছিলেন খুব, সেকারণে হয়তো লজ্জার কারণে আর কারও কাছে ভেরিফাই করেন নি পাছে লোক কিছু বলে। আর তাছাড়া দোকানীর ব্যবহারে আপনার একবারের জন্যও মনে হয়নি সে আপনাকে কোন ভুল কিছু দিয়েছে।

আর ঠিক এভাবেই দোকানী আপনার ব্রেইনওয়াশ করে ফেলল। আর আপনার ভেতরে একটা বদ্ধমূল ধারনা জন্মে গেল যে এই মুহুর্তে আপনি বিশ্বের সেরা স্মার্টফোনের মালিক। এই ব্রেইনওয়াশ হল খুব সাধারণ মাত্রার ব্রেইনওয়াশ বলতে পারেন।

কিন্তু একই পদ্ধতি যদি মতাদর্শ দিয়ে করা হয়, তাহলে ব্যাপারটা হয়ে যায় ভয়ংকর। যে জিনিষ সম্পর্কে আপনার স্পষ্ট ধারনা নেই, যে মতাদর্শ দিয়ে আপনার কোন জ্ঞান নেই, তা দিয়ে আপনাকে খুব সহজেই ব্রেইনওয়াশ করা যাবে আপনি যতই উচ্চ শিক্ষিত আর স্মার্ট হন না কেন। ব্রেইনওয়াশ শব্দটা একটু ভারী মনে হলেও আসলে এর মূল অর্থ হল ইনফ্লুয়েন্স করা বা প্রভাবিত করা। তাহলে এবার বলতে পারেন সন্ত্রাসীরা কিভাবে ব্রেইনওয়াশ করে?

সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো তাদের দলে রিক্রুট করার জন্য সবসময় তাদের মতাদর্শে বা ধর্মীয় ব্যাপারে অজ্ঞ লোকদের টার্গেট করে যারা বয়স্যা তরুণ। যাদের অভিজ্ঞতা কম জীবন সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে। বিজনেস ইনসাইডার নামক বিখ্যাত একটি ম্যাগাজিনের মতে, তাদের খুব সহজ টার্গেট হল ছাত্ররা। প্রথমে তারা আপনার ব্যাপারে হালকা খোজ খবর নেয় তাদের লোকাল কোন এজেন্টদের মাধ্যমে অথবা অনলাইনে নজরদারি করে। ফেসবুকের মত নানা স্যোশাল প্লাটফর্মগুলো হল তাদের বিচরণ ক্ষেত্র। আর এর মাধ্যমেই হয়তো কোন ভুয়া আইডি এমনকি মেয়েদের আইডি নিয়ে আপনার সাথে সখ্যতা গোড়ে তুলে। আজকাল তো ফেসবুকের ৩ দিনের পরিচয়ে মানুষ প্রেমে পড়ে আর পরের সপ্তাহে বিয়েও করে ফেলে। সুতারাং এটা কোন ব্যাপার না একটু ভুলিয়ে ভালিয়ে কথা বলে আপনার সাথে খাতির জমিয়ে ফেলা। এরপর ধীরে ধীরে তারা আপনার মাধ্যমেই আপনাকে জানতে শুরু করে। আপনার দুর্বলতাগুলোকে ভাল মত বুঝে নেয়। আপনাকে সহানুভূতি দেখায়। এরপর নিজেদেরকেও একই ধরনের একটা ঘটনা বলে আপনার সহানুভূতি নেবার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে মতাদর্শ নিয়ে কথা বলে। তারা দেখায় যে তারাও আপনার মত। একসময় তারা নিজেদের মতাদর্শে নিজেদের খুশী মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করে। আপনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ধর্ম নিয়ে আপনাকে বুঝানো শুরু করে। কোরান শরীফের আয়াতের ভুল বা অন্যরকম ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে। উদ্ভট আর বেদনাদায়ক কিছু ভিডিও দেখিয়ে আপনার সহানুভূতি নেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা আপনাকে “নিজেদের একজন” বা “আপনজন” বলা শুরু করে। দেখাবে যেন আপনার জন্য জানও দিয়ে দিতে পারবে। আপনিও একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর তাদের ভুল মতাদর্শে বিশ্বাস করে নিজেকে তাদের একজন মনে করা শুরু করেন। হঠাত করেই আপনার নিজেকে বিশাল কিছু মনে হতে থাকে। ভাবটা এমন যেন দুনিয়া আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিল। আর এরপর ? আপনি হয়ে যান নিব্রাস ইসলাম অথবা রোহান। তখন আল্লাহর নামে মানুষ জবাই করা আপনার কাছে হালাল! পুণ্যের কাজ। তখন বোমা ফাটানো আপনার কাছে বিশাল কোন সওয়াবের কাজ। নিরীয় নিরস্ত্র মানুষকে মেরে ফেলা আপনার কাছে মহাবীরের কাজ। ধর্ষন করা আপনার কাছে অধিকারের মত। আর ঠিক এভাবেই আপনাকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো তাদের কাজ করে নেয়। আর একদিন আপনার লাশও পড়ে থাকে কুকুরের মত সন্ত্রাসী হয়ে কিন্তু মরার টাইমে আপনার মাথায় ছিল “আমি তো বেহেশতে যাচ্ছি”। কিন্তু জঘন্য সব পাপ আপনি করে ফেলেছেন তার আগেই।

মূলত বেশীরভাগ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো কোন না কোন নির্দিষ্ট কারণে সৃষ্টি করা হয়েছে কোন বিশেষ দেশ বা গোষ্ঠীর দ্বারা। এরা ছদ্মবেশে প্রপাগান্ডা করে এসব সন্ত্রাসী সংগঠন তৈরী করে নিজেদের কর্ম হাসিল করার জন্য। যেমন আইসিস। এটি তৈরী করা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য। মানুষের মনে ভয় ধরানোর জন্য। এদের মূল শক্তি – আপনার মনের ভয়। এছাড়া এদের তেমন কিছুই নেই। যে কারণে একটা পটকা ফুটিলেও তারা বলে “আমরা করেছি”। আর আইসিস এর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা আরও বেশী সত্য। তারা দেখাতে চায় দুনিয়ার সবজায়গায় তাদের বিচরণ। আর এটা দেখানোর জন্য তারা নিজেদের জাহির করার চেষ্টা করে। কোথাও একটা টায়ার ফুটলেও আইসিস বলে “আমরা ফাটিয়েছি, সাবধান”। আর ঠিক এভাবেই তারা ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের মনে। আপনার ভয়টাই তাদের একমাত্র সম্পদ। এছাড়া আর কিছু না। আর এই পুরো প্রসেসটাই আসলে ব্রেইনওয়াশ বলা যায়। ব্রেইনওয়াশ সিম্পলি হল আপনাকে বা আপনার চিন্তা ধারাকে প্রভাবিত করা। একজন সেলসম্যান তার পণ্য বিক্রি করতেও আপনাকে প্রভাবিত কড়তে পারে আবার একটা সন্ত্রাসীও আপনার মতাদর্শকে প্রভাবিত করে আপনার ব্রেইনকে ওয়াশ কড়তে পারে। আপনার সেই বিষয়ে অজ্ঞতাই আপনার ব্রেইনওয়াশের কারণ। আপনার ভয় এবং আপনার চুপ করে থাকার স্বভাবটাই আপনার ব্রেইনওয়াশের কারণ।

So go! and Ask questions to anyone, to your family, friends, lovers or anyone if you want to know something. Go and dig. But don’t let other evil people dig in to you.

এ ব্যাপারে আপনাদের মতামত কি? আপনাদের কি কোন সাজেশন আছে? আপনাদের সাজেশন থাকলে নীচে কমেন্ট সেকশনে জানান। কারণ আপনাদের মন্তব্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ন। হয়তো খুব ভাল কিছু বের হয়ে আসতে পারে। তাই নীচে ডিসকাস করুন এ ব্যাপারে। আমরা চাই, এটা নিয়ে সবাই যেন একটু কথা বলে। আমাদের মত সাধারণ মানুষরা যেন তাদের মন্তব্যগুলো দেয়।

মনে রাখবেন – আইসিসকে আমরা দ্যা চিকেন স্টেট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আর এ নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আসছে এই সপ্তাহে। যদি দেখতে চান আগে ভাগ্যে, তাহলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি এই লিঙ্কে গিয়ে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। ঠিকানা – YouTube.com/bangladeshism.

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *