আই এস ধ্বংসে বাঙালি তরুণ

676
SHARE

আজ বড়ো বেদনার মত বেজেছে আমার প্রাণে ,

কোথা সে বাঙালি  যারা  একদিন ব্রিটিশের মত , নীলকরদের জুতিয়ে তাড়িয়েছিল, তাড়িয়েছিল বর্বর পাকিস্তানিদের।

যারা ইসলামের সকল বিধি নিষেধ  উপেক্ষা করে নিরীহ শিশু , কিশোর , বালক, বালিকা, তরুণীদের অন্যায় ভাবে হত্যা , ধর্ষণ, খুন , জখম – রাহাজানিতে মেতে উঠেছে তাদের জন্যে আজকের ২০১৬ সালের বাঙালি ভাই কি বলবেন ।

আপনারা তো মডার্ন (MODERN)  আপনারা তো আধুনিক , জন্মেই আপনারা টিভি ,ইন্টারনেট , সেল ফোন, আইপড, ট্যাবলেট, নোটবুক, ল্যাপটপ, ইবুক কতো কিছু পাচ্ছেন, আর আপনাদের তুলনায় বাঘা জতীন- কুষ্টিয়ার ছেলে , মাস্টার দা -সূর্যসেন-  চট্টগ্রামের ছেলে,ক্ষুদিরাম- বাংলার ছেলে এঁরা সবাই তো গাঁইয়া, তাহোলে !

এই গাঁইয়া  ছেলেরা যদি নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের জন্যে লড়াই করতে পারে , ব্রিটিশ তাড়াতে পাড়ে,  দেশ স্বাধীন করতে পারে ,  তাহলে আপনার মত আধুনিক ছেলেদের  তো দেশ রক্ষা করা কোন ব্যাপার না । আজ ভেবে দেখুন আপনার দেশ যখনি উন্নতির দিকে এগিয়ে যায় ওমনি কোন না  কোন বাধা আপনাদের সামনে এসে দাঁড়ায় ।

আপনারা ক্রিকেট খেলায় ভালো করলে , সীমানার দড়ির উপর পা থাকলে ছক্কা না দিয়ে আউট দিয়ে দেয় । কই তখন তো এত আধুনিক তরুণদের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেখি না । কেন কেন কেন!!!

আজ যখন আমরা নিজেরা নিজেদের পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি , কই কোথাও তো কোন আনন্দ মিছিল দেখি না ।

অথচ গুলশানে যখন আই এস জঙ্গিরা নিরীহ নিরপরাধ আন্তঃসত্তা মা কে হত্যা করে , হত্যা করে বিদেশিদের , যে দেশে বলা হয় অতিথি পরায়ণ , সে দেশে, নিরীহ দেশি –  বিদেশি হত্যার প্রতিবাদে কেন বাঙলার সকল তরুণ তরুণীরা  ফেটে পড়লো না ।

যে দেশে শেরেবাংলা ফজলুল হক , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ফারাজ এর মতো সন্তান জন্মায় সে দেশের বর্তমান প্রজন্ম কেন ঘরকুন হয়ে বসে থাকবে!

কোথা থেকে ভীন যাতের , ভীন সংস্কৃতির , ভীন ভাষার লোক জন আমাদের ছেলেদের , আমাদের ২০ – ২২ বছরের অতি কিশোরদের দিয়ে আমাদেরই ভাই বোনদের হত্যার নেশায় মেতে উঠবে !!!

এই সব আই এস… এর তথা কথিত মন্ত্রণাদাতাদের , স্থানীয় প্রশিক্ষকদের, আশ্রয় দাতাদের, পৃষ্ঠপোষকদের কুঞ্জে কুঞ্জে আগুন ধরিয়ে দিতে কেন বাঙলার তরুণরা এগিয়ে আসছেনা । কি ভয় তাদের।

আজ যদি সকল ভাই বোনেরা বাঙলার বিশ কটি মানুষের ৪০ কোটি হাত এক হোয়ে বাঙলার ঘরে ঘরে আনুসন্ধান শুরু করে তাহলে কোথায় … এর সন্তান

আই এস আই এস ( ইসলামিক ষ্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া ) এর সদস্যরা লুকিয়ে থাকবে! একবার আপনারা এক হয়ে প্রতিটি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হসপিটালে, অফিস আদালতে, রেডিও – টিভি স্টেশনে, প্রাইভেট ব্যাঙ্কে খোঁজ নিলে থলের বিড়াল এমনিতেই বেরিয়ে আসবে ।

সেদিন ঈদের দিন আমার ৬ বছরের রাকিব নামাজে যাবেনা বোলে গোঁ ধরল । যত বলি চল না হলে জামাত পাবো না,  রাকিব তত বলে আই এস জঙ্গি বোমা মারবে । ও নাকি ইন্টারনেট দেখেছে বাংলাদেশের কোন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র, ক্যামেরার সামনে এসে বলেছে যে , গুলশানের হত্যায় ওই বাংলাদেশি ছাত্র খুব খুশী সামনে বাংলাদেশে আরও বোমা মারবে বিশেষ করে ঈদের জামাতে ! তাই রাকিব নামাজে যাবে না ।

ওর মা বলল “ থাক যখন যেতে চাচ্ছে না , তখন না হয় ওকে বাদ দিয়ে তোমরা যাও “ ।

বললাম, “ তা কি করে হয় , কতো গুলো নোংরা মানুষের জন্যে আমরা সবাই ইঁদুরের মতো গর্তে লুকিয়ে থাকবো! না না তা হয় না ।”  রাকিবকে বললাম “ভয় পাচ্ছ কেন দারোয়ান ভাই তো সাথে আছেন ? “

রাকিবের অকাট্য যুক্তি “  দারোয়ান ভাইকে যে টাকা দেয় দারোয়ান ভাই তার জন্যেই কাজ করে , ওঁর কোন বুক  পিট নেই , কে জানে দারোয়ান ভাই আই এস থেকে টাকা নিয়েছে কিনা ।” এর কি জবাব দিবো ! হঠাৎ মনে পড়লো , “ বললাম আরে আজ তো ঈদের দিন দারোয়ান ভাই ছুটিতে, আমরা নিজেরাই যাবো, কাউকে লাগবেনা ।”

শেষে রাকিব এক শর্ত জুড়ে দিলো যদি পাশের বাড়ির আলিফ সঙ্গে যায় তা হোলে ওঁ ঈদের জামাতে যাবে । এদিকে আলিফদের বাড়িতে ওর বন্ধু বান্ধব , কাজিন টÏজিন মিলে প্রায় দশ বারোজন কাচ্চা বাচ্চা জামাতে যাওয়ার জন্য তৈরি । ব্যাস সবাই মিলে মাইক্রো বাস চড়ে চল ঈদের জামাত । রাকিব কি খুশী , সবাই মিলে এক সাথে থাকলে নাকি আই এস কেন পৃথিবীর কোন শক্তি আমাদের কিছু করতে পারবেনা ।

তাই বর্তমানের প্রতিটি তরুণের কাছে আমার আবেদন যে , প্লিজ আপনারা আর ঘরে বসে থাকবেন না যে কোন অন্যায়ের জন্য সবাই মিলে এক হন । রাকিবের মতো সবাই এক হোয়ে লড়াই করুন। ৫২ তে আমরা এক হয়েছি, ৭১ এ আমরা এক হয়েছি, তাহলে এখন এক হতে বাধা কোথায়?

আসুন যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ঘুষ রোধের জন্য, নারীর প্রতি অন্যায় রোধের জন্য, নোংরা ফতোয়া রোধের জন্য, আই এস খতমের  জন্য আর একবার আমরা সব বাঙালি এক হই ১৯৭১ এর ২৫ শে, মার্চের কালরাত্রির পরে যেভাবে এক হয়েছিলাম।

Its high time to be united for all Bangladeshi. Together, no one can defeat us.

মনে রাখবেন – আইসিসকে আমরা দ্যা চিকেন স্টেট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আর এ নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আসছে এই সপ্তাহে। যদি দেখতে চান আগে ভাগ্যে, তাহলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি এই লিঙ্কে গিয়ে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। ঠিকানা – YouTube.com/bangladeshism.

আপনার মন্তব্য

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here