যেভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে ভবিষ্যৎ আইএস জঙ্গিদের

মাথা ঘুরিয়ে দেয়া সব নিউজে মুখরিত এখন আমাদের ফেসবুক ফিড, পত্রপত্রিকা, ছাইয়ের দোকান বা বৈঠকখানার আলোচনা। সবারই এক কথা, কেউ বিশ্বাস করতে পারছেনা কদিন আগে বাংলাদেশে কি হয়ে গেল আর কেউ ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না সামনে কি হতে যাচ্ছে। সবাইক অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পড়েছেন। এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ এধরনের ঘটনা এত বড় আকারে আমাদের দেশে ঘটেনি। তবে এখন অবাক হয়ে চুপ করে বসে থাকার সময় না। কারণ যতদিন গড়াবে, আমরা যদি সঠিক কাজটা না করি, অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। বিশেষ করে এই ব্যাপারে আমরা এখনও অজ্ঞ। আমাদের গত কদিনের এই বিশেষ বুলেটিন আকারের আর্টিকেলগুলো আসলে সবাইকে একটু সচেতন করার জন্য লেখা। আমরা কোন এক্সপার্ট না। পারিপার্শ্বিকতা দেখে আর একটা দায়িত্ববোধের কারণে আমরা এই পদক্ষেপ গুলো নিয়েছি বাংলাদেশের মানুষকে সচেতন করার। যদি দেশের দুর্দিনে কোন কাজেই আসতে না পারি, তাহলে এই বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের দরকারটাই বা কি? তাই, আজ কিছু সাবধানতা মূলক সাজেশন নিয়ে আসলাম। দেশী-বিদেশী নানা জার্নাল-আর্টিকেল ঘেঁটে কিছু আইডিয়া আমরা পেয়েছি আর সেগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আর যদি মনে করেন এগুলো কাজে আসবে, তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে, কাছের মানুষের সাথে শেয়ার করবেন।

যেভাবে চিহ্নিত করা যেতে পারে আইএস জঙ্গি বা কারো সেধরনের তৎপরতা 

গত কদিনের অভিজ্ঞতায় একটা ব্যাপার আমরা হয়তো সবাই বুঝে গেছি – আর সেটা হল – বিপথে যাওয়া এসব আইএস সদস্যরা মূলত ঘর পালানো বা নিখোঁজ থাকে বেশ অনেকদিন ধরে। সুতারাং আমার টপ প্র্যায়োরিটি হবে যদি আমাদের পরিবারে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বা চেনা জানার মধ্যে যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে বছর খানেকের মধ্যে। কেউ যদি নিখোঁজ থেকে থাকে তাহলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে, র‍্যাব বা গোয়েন্দা কার্যালয়ে রিপোর্ট করা আর তাদের ট্র্যাক ডাউন করা। ভয় পেয়ে বা আপনজনের ক্ষতির ভয়ে চুপ করে বসে থাকলে হবে না। আসল ক্ষতি তখনই হবে যখন আরেকটা নিব্রাস বা আবির বের হবে। তাই এই কাজটা সবার আগে এই মুহুর্তে জরুরী। কিছু ঘটিয়ে ফেলার আগেইযদি তাদের থামানো যায়, তাহলে তাদের ঠিক পথে ফিরিয়ে না আসার জন্য হয়তো অনেক উপায় থাকতে পারে। কিন্তু একবার যদি ভুল করে ফেলে তাহলে তাদের ফেরানোটা কঠিন। এমনকি তাদের জীবিত পাওয়াই দুষ্কর। সুতারাং, ভয় নয়। রিপোর্ট করুন প্রশাসনের কাছে, যদি আপনার আশেপাশের কেউ হঠাত করেই নিখোঁজ হয়ে যায়।

খেয়াল করুন আপনার ঘরে, পাড়ায়, মহল্লায় বা বন্ধুদের মধ্যে হঠাত করে কারো মাঝে বড় কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা। তাদের কথা বার্তায়, চলন বলনে কোন ধরনের অসাঞ্জস্যতা আছে কিনা? তারা এমন কিছু কি করা শুরু করেছে যা তাদের সাথে খাপ খায় না? যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে একটা কাজ ভুলেও করবেন না। আর সেটা হল তাদের এড়িয়ে চলা। বরং তাদের কাছে গিয়ে তাদের আরও আপন হবার চেষ্টা করুন। জিজ্ঞেস করুন তাদের মনের কথা। শেয়ার করুন। তাদের ভেতর একটা কনফিডেস্ন তৈরী করুন যেন তারা দ্বিধা না করে নিজেদের মনের কথা খুলে বলে। যদি তাদের এড়িয়ে চলেন তাহলে কোনভাবেই জানতে পারবেন না তাদের মনের ভেতর কি চলে।

মাঝে মাঝে তাদের ল্যাপটপ বা ফেসবুক একাউন্ট স্টক করুন যদি সম্ভব হয়। তারা কোথায় যায় কি করে, না করে এগুলোর খোজ খবর নেয়া চেষ্টা করুন। নতুন কোন জায়গায় খুব বেশী কি যাওয়া আসা করছে কিনা তা বুঝার চেষ্টা করুন। তবে তাদের আঘাত করা হবে এমন কোন ধরনের কাজ করবেন না।

কিভাবে নিজের ঘরে একটু নজরদারই বাড়াবেন? 

ইতিমধ্যেই আমরা জানতে পেরেছি যে আই এস বেশীরভাগ রিক্রুটমেন্ট ফেসবুক বা এধরনের সামাজিক মাধ্যম গুলোর মধ্যে হচ্ছে। তাই এসব ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহার কড়তে পারেন। এতে যে খুব একটা খরচ পড়বে তা না। তবে নিজের পরিবারের এবং নিজের সন্তানের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে এটা করা কোন ব্যাপারই না।

  • বাসার ইন্টারনেটে নজরদারি বাড়ানোর জন্য চাইলে আপনারা রাউটার ব্যবহার কড়তে পারেন। বাজারে অনেক ধরনের রাউটার পাওয়া যায়। ৬-১২০০০ টাকার মধ্যে যেসব ইন্টারনেট রাউটার পাওয়া যায় তা মোটামুটি বেশ ভাল মানের হয়। এসব রাউটারের মধ্যে ফায়ারওয়াল থাকে যা দিয়ে আপনি অনেক আজেবাজে সাইট যেমন ব্লক কড়তে পারবেন আবার লগ ফিল্টার করে বুঝতে পারবেন কে কোন সাইটে লগইন করছে, কে ইন্টারনেটে কত সময় দিচ্ছে এবং ঠিক কোন সাইটে। কিছু কিছু রাউটারে কি-লগার নামের একটি সফটওয়ার থাকে যেখানে কী-বোর্ডে কিগুলো রেকর্ড করে রাখে নেটওয়ার্কে। অর্থাৎ আপনি কোন কী চাপছেন সেটাও লগ হয়ে যাবে। অনেকেই হয়তো এখন রেগে গিয়ে কমেন্ট করবেন প্রাইভেসী ম্যাটার নিয়ে। তবে একটা কথা হল – আগের নিজের গা বাঁচানো এরপর আসছে প্রাইভেসী।

    Internet Router for Home
    Internet Router for Home
  • আপনার সন্তানরা যদি মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকে, তাহলে কাদের সাথে বেশী কথা বলছে বা খারাপ কোন জায়গায় কথা বলছে কিনা এটা ট্র্যাক কড়তে পারবেন। আজকাল মোবাইল ফোনগুলোর অপারেটরদের ওয়েবসাইটে এধরনের সিস্টেম থাকে। যেমন গ্রামীনফোনের জিপি কানেক্ট আছে। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার বা সন্তানের মোবাইল নাম্বারটা রেজিস্টার করে একটি একাউন্ট খুলে আপনি নিয়মিত চেক কড়তে পারবেন প্রতিদিন কোথায় কোথায় কল যায় এবং কোথা থেকে কল আসে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তখন একটা ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এজন্য অনেক সময় পোস্টপেইড ফোন ব্যবহার করা ভালো তাহলে মাস শেসে একটা আইটেমাইজড বিল পাওয়া যায়। তবে প্রিপেইডের ক্ষেত্রে জিপি কানেক্টের মত সেবা ব্যবহার করা যেতে পারে।
    gp connect
  • আপনার অফিসের ইন্টারনেট ব্যবহার করেও হয়তো অনেক ধরনের অপরাধ মূলক কার্যক্রম চলতে পারে। সেক্ষেত্রে অফিসেও খুব ভাল মানের রাউটার এবং কি লগার ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনয় ওয়েবসাইট বা নেটওয়ার্কে যেন যেতে না পারে সেটাও ব্যবস্থা করতে পারেন। বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের অফিসে আমরা একটা ডেডিকেটেড সার্ভার ব্যবহার করি আমাদের সম্পূর্ন ইন্টারনেট কন্ট্রোল করার জন্য। আমাদের এই অফিসে অথিতি আসুক বা যেই আসুক, সবার জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্ব্যবস্থা থাকে কিন্তু আমরা সর্বক্ষন মনিটর করি আমাদের নেটওয়ার্ক দিয়ে অবৈধ কোনকিছু কেউ করার চেস্টা করছে কিনা।

জানি উপরের কথাগুলো অনেকেরই খারাপ লাগবে বিশেষ করে প্রাইভেসীর ব্যাপারে। কিন্তু অবুঝ যারা, তাদেরকে তো কোননা কোনভাবে বুঝাতে হবে যাতে করে খারাপ কিছু না হয়ে যায়। বিশেষ করে বয়সে উঠিতি তরুন যারা, তাদের জন্য হয়তো এ ব্যাপারগুলো কাজে আসতে পারে। আর যাদের বয়স এখনো ১৮ এর নীচে, অবশ্যই তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার ট্যাক করা বা ফোন কল ট্র্যাক করা প্রতিটি বাবামায়ের উচিত। বাইরের সব দেশেই এটি প্র্যাকটিস করা হয়। যেটাকে আমরা প্যারেন্টাল গাইডেন্স বলি। আর খুব বেশী টেকনিক্যাল কথা হয়তো বলে ফেলেছি আজকের লেখায়, কিন্তু এগুলো কোন রকেট সায়েন্স না। ইউজার ম্যানুয়াল দেখে অনায়াসেই নিজেই করতে পারেন। অথবা আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের সাপোর্ট সেন্টারের হেল্প নেন। তারা তো আছেই আপনাকে হেল্প করার জন্য।

একটা কথা মনে রাখবেন – Prevention is better than CURE।

নিরাপদ থাকুন।

এ নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আসছে এই সপ্তাহে। যদি দেখতে চান আগে ভাগ্যে, তাহলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি এই লিঙ্কে গিয়ে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। ঠিকানা – YouTube.com/bangladeshism.

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in

LEAVE YOUR COMMENT

Your email address will not be published. Required fields are marked *