আইএস এর করুন পরিণতি – বাংলাদেশ হতে পারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত

35487
SHARE

বাংলাদেশ হতে পারে আইএস দমনে এক অনন্য অসাধারন দৃষ্টান্ত – এবং খুব অনায়াসে। আইএস কে অন্তত এদেশ থেকে সমুলে বিতাড়িত করা (যদি থেকে থাকে) এবং একেবারে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলার কাজে বাংলাদেশ অন্যরকম একটি উদাহরন সৃষ্টি করতে পারে। কি? খুব বেশী বলা হয়ে গেছে? তবে গালি দিয়ে পড়া বন্ধ করে দেয়ার আগে আরো একটু পড়ে দেখুন।

আইএস এর সৃষ্টি, আইএস স্পন্সর এবং আইএস এর লক্ষ্য এগুলো নিয়ে এই মুহুর্তে অনেক কনফ্লিক্ট আছে। এটা তো মানেন যে আইএস কে তৈরী করা হয়েছে কোন বিশেষ কারনে, কোন বিশেষ গোষ্ঠীর বা দেশের সুবিধা লাভের জন্য। ব্যাপারগুলো এখন ওপেন সিক্রেট। আইএস যে ধর্মকে পুজি করে অন্যদের ব্যবসার প্রক্সি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে এটা খোদ পশ্চিমা দেশের সাধারন মানুষরাই বলছে। আইএস এখন নানা দেশে যুদ্ধ লাগানোর একটি উপকরন। মানে সরাসরি না করে আইএস এর মাধ্যমে করা হয়। প্রক্সি যাকে বলে। আইএস এর অস্ত্রেত যোগানদাতা, ফাইনান্স্যার কারা এটা নিয়ে বিশাল বড় বড় সব প্রশ্ন চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

মোটামুটি যেকটা দেশ আই এস বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধ করছে আসলে মূলত তারা আইএস এর সাথে যুদ্ধ করছে না বরং আইএস কে একটা প্রক্সি বানি অন্য কোন কর্ম সম্পাদন করছে। এত এত শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো আইএস এর মত একটি সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করতে পারছেনা – এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমেরিকা চাইলে তো সব পারে? তবে বার বার ফেল মারছে কেন? আমেরিকার সাথে তো ইউরোপও আছে। তাও ফেল মারছে। এত এত প্রযুক্তি আর অস্ত্রের জোর তাঁদের! কোন না কোন ইস্যু তো আছে তাই না? ইসরায়েলীরাও তো আইএস এর বিরুদ্ধে সরাসরি কোন যুদ্ধ না করে প্রক্সি যুদ্ধ খেলছে। আইএস আইএস যুদ্ধ। মানে এদের সবারই কিছু না কিছু সবার্থ আছে আইএস এর সাথে জুড়ে। এখন আসা যাক বাংলাদেশ কিভাবে ফাকতালে উদাহরন স্থাপন করতে পারবে?

রাশিয়া কিছুদিন আগে আইএস বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে আর কদিনের মাথায় তারা যে সফলতা পেয়েছে তার সিকিভাগও আমেরিকা এত বছরে করতে পারেনি। আর ঠিক এরপর থেকেই কথা উঠা শুরু করে, রাশিয়া যদি পারে, আমেরিকা পারেনি কেন? ওয়েল, এখানে প্রশ্নটা হওয়া উচিত – আমেরিকা চায়নি কেন? অথবা চেয়েছে কিনা? আর আরব দেশগুলোর কথা বলে লাভ নেই। এগুলো সারাবছর একটার পিছে আরেকটা লেগে থাকে। যখন যেখানে যাকে বা নিজেকে বিক্রি করা যায় সেখানেই বিক্রি করে দেয়- আই মিন, এসব দেশের সরকারগুলো। সাধারন মানুষগুলো তো ভুক্তভোগী। আর চাইলে, বাংলাদেশ ইতিহাস বদলে দিলেও বদলে দিতে পারে। কেন?

আইএস কে টিকিয়ে রেখে বাংলাদেশের কোন সুবিধা নেই। এদের শেষ করতে পারলেই বাংলাদেশ বাঁচে। বাংলাদেশের মত দেশে আইএস কোনদিনও মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না কারন এটি ১৬কোটি মানুষের দেশ আর এখানকার মানুষকে খেপালে আইএস আ বা এস কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। বাংলাদেশের আইএস এর সাথে কোন সবার্থ নাই। না মানুষের না সরকারের। আইএস এখানে কোন কিছুর প্রক্সি দিতে পারবে না। যদি সরকার ঠিক মত অভিযান চালায়, আইএস এর বাপ মা ভুলে দৌড়ে পালাবে। জীবনেও এমুখি হবে না। আইএস কে এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ভয় দেখানোর জন্য। কিন্তু বাংলাদেশীরা সহজে কাউকে ভয় পায় না। নিরীহ টাইপের মানুষ সব এখানে, কিন্তু প্রয়োজনমত উচিত শিক্ষা দিতে পারে। আইএস এর চাইতে বড় বড় শয়তানগুলোকে শায়েস্তা করেছে আমাদের দেশের মানুষ। আর আইএস দমানোর ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছার কোন কমতি নেই। আর এখানেই সবচেয়ে বড় ট্রিক। অন্যান্য দেশের সরকারের কোন না কোন ইস্যু জুড়ে আছে আইএস এর সাথে – হোক সেটা ব্যবসা বা চক্রান্ত। কিন্তু এখানে – নাথিং! আর আইএস কোন বড় আর্মি না। লাঠি – সোঠা, পিস্তল আর তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করে। যেকোন ব্যাটলে এদের হারানো খুব সহজ হবে যেকোন আর্মির জন্য। আর বাংলাদেশ আর্মি কম কিসে? যেহেতু মানুষ এবং সরকার উভয়েই আইএস কে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ঘৃনা করে এবং এদের শেষ করতে বদ্ধ পরিকর, এসব চিকেন স্টেন আইএস অন্তত বাংলাদেশে কোন ভাত পাবে না। এমনকি ভারতেও তারা টিকে যেতে পারে কারন ভারত বিশাল দেশ আর তাঁদের এই ব্যাপারে পলিটিক্স থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের নেই। একেবারেই নেই। সুতারাং, আইএস নিয়ে আতংকিত হবার কিছু নেই। কাপুরুষের দল নিরীহ মানুষকেই মারতে পারে। দেখেন না, নিরস্ত্র মানুষকেই খুন করে তারা কিন্তু সামনাসামনি ফাইটে ফু। ফাইট শুরু করার আগেই ‘সুইসাইডের’ নাম করে পালায়।

বাংলাদেশ বীরের দেশ। ১৬ কোটি মানুষের দেশ। তার মধ্যে ১ কোটি মানুষও যদি খেপে যায়, তাহলে আইএস না, আইএস এর চাইতে ১০ গুন বেশী শক্তিশালী হিজরাবাহিনী আসলেও লাভ নেই কারন এরা নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করে। আর যারা এসব করে তারা আদপে খুবই দুর্বল। আইএস এর মনে রাখা উচিত, আমরা আমেরিকাও না, সৌদি-আরবও না। এটা বাংলাদেশ। এখানে উল্টো কাজের জবাব উল্টো করেই দেয়া হয়। সে জবাব আসুক সাধারন মানুষের কাছ থেকে অথবা সরকারের কাছ থেকে।

আপনার মন্তব্য