তুরস্ক বিভ্রাট – সেনাবাহিনীর ক্যু এবং এর্দোয়ান | আড়ালের কাহিনী

3269
SHARE

তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশ ক্ষমতা দখলে রাস্তায় নেমেছে। সেনা অভ্যুত্থানের প্রথম ধাপেই সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দখল করে নেয় বিদ্রোহী সেনাবাহিনী এবং স্বাভাবিক সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় তারা।সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে একটি ‘পিস কাউন্সিল’ দেশ পরিচালনা করবে এবং দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে। তবে আপাতদৃষ্টে এ যাত্রায় জনগণের কাছে হার মানতে হয় বিদ্রোহী এই সেনাদের। তুরস্কে এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা শুরু হয় গত শুক্রবার রাতে, সেনারা ট্যাঙ্ক নিয়ে তুরস্কের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতে রাস্তায় নামে। ইস্তাম্বুল ও আংকারা শহুরে হঠাৎ করেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান নেয় সেনারা, সাথে থাকে ট্যাংক, খুব নিচ দিয়ে উড়তে থাকে তাদের দখলে থাকা সামরিক হেলিকপ্টার। তবে সরকার সমর্থিত টার্কিশ ফাইটার গুলির আক্রমনের তোপে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এই অভ্যুত্থানে চেষ্টায় জড়িত প্রায় একশোজন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রচার করছে। সারা রাত ধরে আংকারা এবং ইস্তাম্বুল থেকে গুলি এবং বিস্ফোরণ ঘটে।

হঠাত করেই কেন এই সেনা বিদ্রোহ? একটু সামগ্রিক বিশ্লেষণে বিষয়টি মোটামুটি পরিস্কার হয়ে যাবে। বিভিন্ন সময় এর্দোয়ান সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযানের নামে অনেক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে ও মেয়াদে শাস্তি কার্যকর করেন। তাছাড়া এর্দোয়ান সরকারের ডানপন্থী মনোভাবের কারনে ভেতরে ভেতরে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষের জন্ম নেয়।

অভ্যুত্থানের পেছনে কারা?

বলা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশ এই অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। ইস্তাম্বুলেই মূলত তাদের ঘাঁটি। এরা সেনাবাহিনীর বিরাট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে না। শুরুতে অভ্যুত্থানকারীরা রাস্তায় অনেক ট্যাংক নামাতে পেরেছিল। তারা ইস্তাম্বুলের বসফোরাস প্রণালীর ওপরের ব্রীজ বন্ধ করে দিতে পেরেছিল যার সাথে তুরুস্কের অন্যান্য শহরের সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল।

সেনা অভ্যুত্থান কেন ব্যর্থ হলঃ

অভ্যুত্থান সফল হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থনের দরকার ছিল। কয়েকটি বড় শহরে হয়তো অনেক সেনা সদস্য এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিল। কিন্তু অন্যদিকে অভ্যুত্থান-চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পিছনে অবিশ্বাস্য অবস্থান নেয় এরদোগানের সমর্থকরা।

সেনাপ্রধান জেনারেল গুল হুলুসি আকার এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে ছিলেন না। তুরুস্কের সবচেয়ে বড় নগরী ইস্তাম্বুলে যে সেনা ডিভিশনটি ছিল তার অধিনায়কও এই অভ্যুত্থান সমর্থন করেননি। পাশাপাশি নৌবাহিনী প্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর প্রধানও অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেন। এফ-সিক্সটিন জঙ্গী বিমান থেকে অভ্যুত্থানকারীদের অবস্থানে বিমান হামলাও চালানো হয় যার ফলে বিদ্রোহী সেনাদের শক্তি হ্রাস পায় এবং মনোবল ভেঙ্গে যায়।

মূলত রাজনৈতিক সমর্থন ও জনগণের এদের পেছনে না ছিল রাজনৈতিক সমর্থন, না ছিল জনগণের সমর্থন। তুরস্কের প্রধান দলগুলো শুরুতেই জানিয়ে দেয়া তারা এর সঙ্গে নেই। ধর্মনিরপেক্ষ সিএইচপি, জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি সবাই এরদয়ান সরকারকে সমর্থন জানায়।

এটা একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। কারণ তারা সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছে।

তবে এটা ধারনা করতে পারি এরদোগানের পতন হলে নতুন মিলিটারি সরকারের সাথে ন্যাটো দ্রুত পদক্ষেপে সিরিয়া আক্রমণ করতে পারার সম্ভাবনা আছে! কেননা এরদোগানকে সাতে নিয়ে এটা করা সম্ভব নয় কারণ সে আল নুসরা ও পক্ষান্তরে আই এস কে দমনের ব্যাপারে খুব একটা সোচ্চার নয়। ইউরোপে আই এস এর বিস্তার ঘটলে আর নিচে সিরিয়া থাকার কারণে তুরস্ক সেনা বাহিনী ও সাহদায়রন মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে ! তাই এই সামরিক অভ্যুত্থান এটাও একটা কারন!

তবে যাই হউক শেষ পর্যন্ত তুরস্কের জনগণের একান্ত প্রচেষ্টা এবং অসম সাহসের ফলেই গণতন্ত্র হারানোর মতো ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে বেঁচে গেলো তুরস্ক।

আপনার মন্তব্য