আইএস জঙ্গীদের হামলা – কিভাবে আপনি নিরাপদ থাকবেন?

এলার্ট তো দেখছেন সর্বক্ষনই তাই না? গুলশান ট্রাজেডীর পর থেকেই কখনও পুলিশ, কখনও কোন নিরাপত্তা বাহিনী, কখনও সরকারের তরফ থেকে আবার কখনও স্রেফ গুজবে ছড়িয়ে পড়ছে অমুক জায়গায় অমুক দিনে অমুক সময় হামলা হবে। গুজবগুলো মূলত আতংক ছড়ানোর জন্যই করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একটু লাইক-ক্লিক পাবার আশায়ও নিজের অজান্তেই কিছু গুজব কিছু আতংক ছড়িয়ে দিচ্ছে। আবার সবকিছুই যে স্রেফ গুজব তাও না। এখনও অনেক আই এস ব্রেইনওয়াশ করা জংগী লাপাত্তা হয়ে আছে। পুলিশ বাহিনী এখনও তাদেরর খুজে পাচ্ছে না শত চেষ্টা সত্তেও। তবে প্রশাসনের আন্তরিকতা দেখে এই ব্যাপারে একটু স্বস্তি পাওয়া গেলেও মূলত সবকিছু এখনও গোলমেলে ঠেকছে। আর বিশ্বব্যাপী আইএস জঙ্গীদের কাপুরুষের মত হামলা একটা ভাবিয়ে তুলছে বৈকি। যেমন গতকাল জার্মানীতে এক বদ্ধ উন্মাদ হাতে কুড়াল নিয়ে আক্রমন করে বসে আইএস এর পতাকা হাতে। এর আগে ফ্রান্সে আরেক সাইকোপ্যাথ ট্রাক চালিয়ে দিয়ে ৭৮ জন মানুষকে মেরে ফেলল। বুঝা যাচ্ছে আইএস এখন যেভাবে পারে লাশ ফেলার চেষ্টা করছে। মোমবাতি নেভার আগে বেশী জ্বলে – এই মুহুর্তে আইএস এর একই হাল। নিজেদের করুন পরিণতি ঠেকানোর আশায় তারা এসব পন্থা অবলম্বন করছে। এখন, কথা হলো – সাধারন মানুষ মানে আমরা যারা অতি সাধারন, যাদের না আছে কোন প্রটোকল, না আছে কোন সিকিউরিটির ব্যবস্থা, যারা খোলা রাস্তায় হাটি, ভিড়ের মধ্যে চলি, বাসে উঠি, মার্কেটে ঘুরি – তাঁদের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যায় এধরনের কোন ঘটনায়? গুলশান তো হাই-প্রটোকল হাই সিকিউরিটি এলাকা ছিল যেখানে সমাজের এলিট শ্রেনীর যাতায়ত। কিন্তু সেখানেই কোন নিরাপত্তা বলয় কাজ করেনি তাহলে আমাদের জন্য কি ব্যবস্থা? এই ব্যাপারে কাউকে কোন উপদেশ দিতেও দেখিনি বা এ নিয়ে তেমন কোন লেখালেখি। অন্তত চোখে পড়েনি এ পর্যন্ত। মুখে ফেনা তোলা ট্যক শো গুলোতে শো অফ ই হয় এছাড়া তো আর কিছু দেখলাম না। তাহলে কি হতে পারে আমাদের মত সাধারন মানুষের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা?

  • নিজের পিঠ নিজেকেই বাচাতে হবে – এধরনের চিন্তা থেকেই এটি লেখা। আর তার মধ্যে প্রথমেই আসে সচেতনতা। এই সচেতনতা, এই সিকিউরিটি চেক শুরুই হবে নিজের ঘর থেকে। প্রধানমন্ত্রী আজ একটি উক্তি করেছেন “মন খুলে নিজের সন্তানদের সাথে কথা বলুন”। ছোট্ট একটি লাইন কিন্তু বড় অর্থ বহন করে। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে নিজেদের ঘর থেকেই। সচেতন থাকতে হবে নিজের ঘরের কেউ ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে কিনা। এটা একমাত্র শেয়ারিং এবং কেয়ারিং – এভাবেই সম্ভব। অন্য কোন পন্থা নেই। তাই নিজের পরিবারের সদস্যদের সময় দিন, তাঁদের সাথে কথা বলুন, জানুন তাঁদের ভেতর কি চলছে আর অন্য কিছু মনে হলে তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা করুন যেভাবে পারেন। মুখ বুজে থাকবেন না। কিছু একটা করতেই হবে কারন একবার যদি ভুল পথে চলে যায়, তাহলে ফেরানো মুশকিল – অন্তত জীবিত অবস্থায়। দেখতেই পাচ্ছেন আইএস জংগীদের শেষটা কিভাবে হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।
  • দ্বিতীয়ত, প্রশাসনকে সাহায্য করুন। কোথাও কোন কিছু উল্টোপাল্টা দেখলে বা যা সচরাচর দেখেন না তা দেখলে, বা খাপ খায় না বা সন্দেহজনক এমন কিছু দেখলে অবশ্যই পুলিশে রিপোর্ট করুন। অন্যকিছুর ব্যাপারে জানিনা, তবে জঙ্গী দমনে প্রশাসন যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু আপনাদেরও সাহায্য করতে হবে।
  • এলাকায় হঠাত করে নতুন কোন মানুষ বা মানুষদের অযাচিত আনাগোনা শুরু হলে একটু অবজার্ভ করুন একদিন বা দুদিন এরপর পুলিশে নিজের সন্দেহের কথা জানান – সশরীরে অথবা ফোনে। দয়া করে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না বা শুধু সন্দেহের বশে কোন কিছু ফেসবুক বা টুইটারে আপলোড করে দিবেন না।
  • কোথাও কোন জঙ্গী হামলা হলে যেখানে যদি আপনি উপস্থিত থাকেন, তাহলে সবচেয়ে নিরাপদ স্থানটি বেছে নিন এবং যত দ্রুত পারেন একটা ফোন, এস এম এস করুন কাছের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মানুষটার কাছে নিজের লোকেশন এবং কি হচ্ছে তার খুব সংক্ষিপ্ত বিবরন দিয়ে।
  • যতটা সম্ভর ভীড় আছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলুন। সবসময় পুলিশ বাহিনীর নোটিশগুলো সম্পর্কে আপডেটেড থাকুন।
  • রাস্তার কোথাও কোন সন্দেহজনক ব্যাগ, বস্তা, প্যাকেট – এধরনের কিছু যা হয়তো সেই জায়গাটার সাথে খাপ খায় না, এমন কিছু দেখলে সাথে সাথে নিকটস্ত সিকিউরিটিক অবহিত করুন অথবা পুলিশে জানান।
  • যেকোন ধরনের ঘটনায় প্যানিকড না হয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের অবস্থান এবং সে জায়গার তখনকার কন্ডিশন চিন্তা করে পরবর্তী স্টেপ নিন। যদিও বলা সহজ, কিন্তু করা অনেক কঠিন।
  • নিজের এলাকার মসজিদে নামাযের সময় ঠিক কি ধরনের খুৎবা দেয়া হয় বা অন্য যেকোন ধরনের উস্কানিমূলক কথাবার্তা নোট করে রাখুন আর পরে গিয়ে নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।
  • ধর্মীয় ব্যাপারে কারো সাথে বাক-ব্বিতন্ডায় না জড়ানোই ভাল কারন যার যার বিশ্বাস তার তার কাছেই। তর্ক করলে কার বিশ্বাস বদলে যাবে না। বরং এধরনের কোন অবস্থায় পড়লে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। বোবার কোন শত্রু নেই।
  • ফেসবুক-টুইটার ইত্যাদি ব্যবহারে যথেষ্ট সাবধানত বজায় রাখুন। নিজের লোকেশন ইনফরমেশন শেয়ার না করাই ভাল। কোথায় আছেন, কি করছেন এসবের ফিরিস্তি না দিলেও চলবে আপাতত। কড়া প্রাইভেসী দিয়ে রাখুন। ফেসবুকে যেন আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আপনার একাউন্ড দিয়ে ট্র্যাক করতে না পারে তাই ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করুন, প্রাইভেসী দিন। আর নাবালক কেউ যদি ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে বেটার হয় যদি তার ব্যবহার করতে না দেন আর তা যদি না পারেন, তাহলে ফেসবুক একাউন্টের উপর কড়া নজর রাখুন নিয়মিত।
  • কোন ধরনের অজানা নম্বর থেকে ফোন না ধরলেই ভাল এবং নিজের ফোন নাম্বার প্রয়োজন নেই এমন জায়গায় দেয়ার দরকারই নেই।
  • যারা বাড়ির মালিক, তারা চাইলে নিজের এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ক্লোজ-সার্কিট ক্যামেরা লাগাতে পারেন। বাড়ির মেইন গেইটে, গেইট থেকে রাস্তায়, প্রতিটি সিড়িতে যাতে করে প্রতিটি ফ্ল্যাটের এন্ট্রান্স দেখা যায় এমন সব জায়গায় ক্যামেরা লাগিয়ে রাখুন।
  • আপনার বিল্ডিংইয়ে সব ভাড়াটিয়ার জীবন-বৃত্তান্ত এবং ন্যাশনাল আইডির কপি নিয়ে রাখুন। এটা কিন্তু এখন বাংলাদেশের আইন। পরে কিন্তু বিপদে পড়ে যেতে পারেন। তাই না করে থাকলে এখনই করুন – নিজের এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য।
  • নিজের অফিসে লগবুক মেইন্টেইন করুন – কারা আসছে কারা যাচ্ছে ইত্যাদি।
  • পাবলিক প্লেসগুলো এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব – অন্তত আপাতত। কোন ধরনের বড় রকমের গ্যাদারিং এ যাওয়ার আগে নিশ্চিত হোন সেখানকার সিকিউরিটি ঠিক কেমন। যদি নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশয় থাকে, তাহলে যাওয়ারই দরকার নেই। নানা ধরনের কনসার্ট, ইভেন্ট ইত্যাদিতে যাওয়ার আগে যারা টিকেট বিক্রি করে, তাঁদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করুন সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে এরপর সিদ্ধান্ত নিন।
  • সর্বোপরি চোখ-কান খোলা রাখুন। চিলে কান নিয়েছে শুনে আবার চিলের পেছনে যেন না দৌড়ান।

তবে এগুলো ছাড়াও আরও অনেক কিছু আছে যা আমরা করতে পারি। আর আপনাদেরও নিশ্চয় কোন না কোন আইডিয়া আছে। নীচে কমেন্টে নিজের আইডিয়া গুলো পোস্ট করুন। আপনাদের আইডিয়াগুলোও আমরা এখানে যুক্ত করে দেব যাতে সবাই জানতে পারে। দেশ আমাদেরই, আর তাই আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

আর এই  নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আসছে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এবং আগেও কিছু বানিয়েছি। সাবস্ক্রাইব করে রাখুন চ্যানেলটি যদি কোন কাজে আসে ভিডিওগুলো। লিঙ্ক – http://youtube.com/bangladeshism

 

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in