সর্বকালের সেরা ইন্টারনেট ট্রোল – ডোলাল্ড ট্রাম্প

48
SHARE

Attention-Seeking Freak এই উপাধি তিনি পেয়ে গিয়েছিলেন বহু বছর আগেই। নিজেকে জাহির করার জন্য বা নিজের ধন সম্পদের ক্ষমতা দেখানোর জন্য এই ব্যক্তি এমনকি ২টি টিভি রিয়েলিটি শো চালায় – দ্যা এপ্রেন্টিস এবং সেলিব্রিটি এপ্রেন্টিস। আমেরিকার এনবিসি চ্যানেল এই দুটো শো প্রচার করত আগেও কিন্তু এখন নিজেদের মান-সম্মান বাচানোর জন্য উক্ত ব্যক্তির সাথে কিছুদিন আগে সম্পর্ক ছেদ করেছে। সেই ব্যক্তিকে এখন বলা হয় “রেসিজম” এর প্রমোটার। নারী অধিকার নিয়ে ব্যঙ্গ করা তার প্রতিদিনকার কাজ। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা তার কাছে ডাল-ভাত। তিনি আর কেউ নন – আমেরিকার প্রেসিডেন্ড পদপ্রার্থী জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্প। যাকে এই মিহুর্তে ইন্টারনেট জগতের সবচেয়ে বড় জোক বা কৌতুক বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। দ্যা মর্নিং শো তাকে নাম দিয়েছে – দ্যা লিভিং কমেডি হিসেবে।

মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য তিনি করেন না এমন কিছু নেই। হোক সেটা প্রশ্নবিদ্ধ করা কোন উক্তি বা কাউকে আঘাত করে বলা কোন কথা। যেমন তার খুব কুখ্যাত একটা উক্তি হলো “I will build a wall” যেটি তিনি করেছিলেন মেক্সিকান ইমিগ্র্যান্টদের ঠেকানোর জন্য। তার এই উক্তি সারা বিশ্বে নিন্দিত হয়েছে পুরো একটা জাতিতে চপোটাঘাত করার জন্য এভাবে। নিজের অঢেল ধন-সম্পদের বড়াই তিনি করে বেড়ান পত্র-পত্রিকায়, মিডিয়া ইন্টারভিউতে। প্রচন্ড অহংকারী এই মানুষটি নারীদের সম্মানে এবং অধিকারে আঘাত করে এ পর্যন্ত বহুবার কমেন্ট করেছেন। এমনকি নানা দেশে তুমুল প্রতিবাদের ঝড়ও উঠেছে এ নিয়ে এবং এখনও হচ্ছে। সাধারন মানুষ তাকে ইন্টারনেটে এমনভাবে উপস্থাপন করছে এখন যেন তার চাইতে হাস্যরসাত্মক পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। সবার হাসিরসের খোরাক হয়ে আছেন তিনি এসব করে কিন্তু তার নিজের কোন বিকার নেই এসব ব্যপারে। বরং এগুলোকে তিনি নিজের ক্রেডিট বলেই মনে করেন। এমনকি তিনি মুসলমানদের নিয়েও খুব আজেবাজে কমেন্ট করেছেন। তার মধ্যে একটা হলো – মুসলিমদের আমেরিকায় ব্যান করে দেয়া।

যেকোন ধরনের ন্যাশনাল ইস্যুকে পলিটক্যাল ইস্যু বানিয়ে কোন বিবৃতি দেয়া তার বহু বদভ্যাসের একটি। এরকমই একটা বিবৃতিতে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মসনদ পর্যন্ত চেয়ে বসেছিলেন। প্রচন্ড রেসিস্ট এ মানুষটি এ মুহুর্তে স্যোশাল নেটওয়ার্ক ট্রেন্ড হয়ে আছেন। আরও মজার ব্যাপার হলো, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টিভি-চ্যানেল তাকে ডেকে ডেকে নিয়ে যায় তার ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য শুধু মাত্র একটা কারনে – “People love to see jokes” এনবিসি টেলিভিশনের একজন প্রোগ্রাম প্রডিউসারের মতে। নীচের টুইট গুলো তারই করা।

 

যেকোন ধরনের বড় ঘটনা, এমনকি ম্যাসাকারেও ডোলাল্ড ট্রাম্পের উল্টোপাল্টা উক্তি আমেরিকার মানুষকে যথেষ্ট বিব্রত করে আসছে বেশ অনেকদিন ধরেই। যদিও পাবলিক সাপোর্ট পেতে তিনি অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছেন কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই তার ক্ষমতার ফিলোসফিগুলো পছন্দ করছে না। হিলারী ক্লিনটন – যিনিও একজন প্রেসিডেন্ড পদপ্রার্থী – তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন “A National Embarrassment”.  যাকে নিয়ে এত মাতামাতি, এত হাসি-রস, চলুন তার সম্পর্কে জেনে নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম জন্ম গ্রহন করেন ১৯৪৬ সালের ১৪ই জুন। তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা নিউইয়র্ক শহরেই। ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ব্যবসায়ী ছিলেন পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৭৩ সালে সেই ব্যবসা অধিগ্রহন করে আরো বড় করেন। এই সময়ে তিনি অনেক হোটেল, ক্যাসিণো, গলফ কোর্স এবং ম্যানহাটনের দামী সবজায়গায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা গড়ে তুলেন। তার আছে নিজস্ব বিশাল বিমান পরিবহন, আছে বিশাল সব ইয়ট আর গাড়ির ভান্ডার। প্রচন্ড বিত্তশালী হবার কারনে তার পুরো পরিবার সবসময় পেয়ে এসেছিল বিশাল মিডিয়া কাভারেজ। নিউইয়র্কে তার নামে আছে বিশাল সব টাওয়ার। এমনকি নিজের জন্য একটা তাজমহল টাইপ দালান বানিয়ে তার নাম নিয়েছেন ট্রাম্প তাজমহল! তবে তিনি সবচেয়ে বেশী আলোচনায় আশা শুরু করেন যখন মিস ইউনিভার্স, মিস ইউএসএ র বিশাল অংশ কিনে নেন। ট্রাম্পের মতে তার সম্পত্তির পরিমান ১০ বিলিয়ন ডলারের মত কিন্তু ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে এটি ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। নিজর সম্পদের পরিমান নিয়ে তিনি সব সময় বড়াই করেই চলেন আর একটু বাড়িয়ে ও বলেন বৈকি।

প্রেসিডেন্ট হবার দৌড়ে ট্রাম্প এখন হিলারীর সাথে পাল্লা দিচ্ছেন ঠিকই কিন্তু অনেকেরই ধারনা এই ট্রাম্প যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে আমেরিকার চিত্র পালটে যেতে পারে খুব বাজে ভাবে। তার রেসিজম ধর্মী চিন্তা ভাবনা এবং কট্টরপন্থী মনোভাব সম্ভবত আমেরিকাতে শান্তিতে থাকার সমস্ত উপায় নস্ট করে দিতে পারে। নিজের নানা ধরনের বিবৃতি তাকে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় কৌতুক বানিয়ে দিলেও টাকার দৌড়ে তিনি অনেকের কাছ থেকেই এগিয়ে। টাকা দিয়ে সবকিছু কিনে ফেলার বড় একটা প্রবনতা আছে আর তিনি নিজেও মিডিয়াতে সবসময় বলে বেড়ান “I will buy it off” টাইপের কথা বার্তা। প্রচন্ড আত্মঅহংকারী এই মানুষটি কি আসলেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারবে?

আপনার মন্তব্য