ক্যাপ্টাগন – আইএস জঙ্গীদের ড্রাগ

40507
SHARE

ব্রেইনওয়াশ কি এমনি এমনি করা যায়? নাকি কোন ধরনের অবৈধ ওষুধেরও ব্যবহার করা হয়? ইউরোপের কয়েকটি পত্রপত্রিকার মতে আইএস তাদের জংগীদের এমন কিছু মাদক সরবরাহ করছে যা এসব জঙ্গীদের ভয়হীন করে দেয়। Amphetamine  যা ‘ক্যাপ্টাগন’ নামেও পরিচিত – এই ড্রাগটি এরমধ্যে প্রচুর পরিমানে সিরিয়ায় ঢুকেছে – যে জায়গা আইএস জংগীদের মূল হেডকোয়ার্টার। সূত্র ঃ জাতিসংঘ।

DRG

এই ড্রাগটি বের হয় ১৯৬০ সালে আর ব্যবহার করা হতো হাইপার এক্টিভ বাচ্চাদের উপর যাতে করে তারা আরো মনযোগী হতে পারে। কিন্তু এই ড্রাগটি যখন অত্যাধিক পরিমানে নেয়া হয় তখন একজন পূর্ন বয়স্ক মানুষ কোন ধরনের ব্যাথা, ইমোশন ফিল করে না। অনেকটা সুপার হিউম্যান টাউপের শক্তি এবং মনোবল এনে দেয় এই ড্রাগটি এবং অবশ্যই এই ড্রাগটি ভয়াবহ রকমের ক্ষতিকর। সব ভয়-ডর দূর হ যায়, বস্তুত মানুষকে একটি জলজ্যান্ত সাইকোপ্যাথে পরিণত করে এই ড্রাগ। ঠিক একারনেই তারা একেবারে নির্দয় হয়ে যায়। বাংলাদেশের হামলায় এসব জংগীরা কি তাহলে এসব  ড্রাগ নিয়ে মানুষ হত্যার উল্লাসে মেতে উঠেছিল সেদিন? সিরিয়ার আশেপাশের দেশগুলো এ পর্যন্ত অনেক স্মাগলিং ঠেকিয়েছে এই মাদকের। শুধু মাত্র জর্ডান বর্ডারে একদিনে ২ মিলিয়ন ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট আটক করা হয়। লেবানন আর তুরস্ক এই পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ট্যাবলেট আটক করেছে সিরিয়ায় পাচার হবার সময়ে।

প্যারিসের হামলাকারীরা এই ক্যাপ্টাগন ড্রাগটি খেয়েই মানুষ মারতে মাঠে নেমেছিল সেদিন। তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে পাওয়া যায় এতথ্য। জাতিসঙ্ঘের মতে, এই ক্যাপ্টাগন মাদকটি সিরিয়া যুদ্ধকে ভয়াবহ নৃশংস রুপ দিয়েছে। কারন এ মাদক সেবনের পর কোন মানুষের পার্থিব কোন অনুচূতি থাকে না। তারা মানুষ থেকে সরাসরি পশুতে পরিণত হয়। যুদ্ধের আগে সিরিয়াতে অনেক ওষুধ নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। আর অনেকের মতে, এই সিরিয়া যুদ্ধ আসলে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ যা মূলত একটি ব্যবসায় রুপ নিয়েছে। এই যুদ্ধে এখন প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ড্রাগ। অস্ত্র তো আছেই!

যুদ্ধ মানেই দেখি সব দিক দিয়ে ব্যবসা কিছু গোষ্ঠীর জন্য। কেউ অস্ত্র, কেউ রসদ, কেউ ডিপ্লোম্যাসি আবার কেউ ড্রাগ – ভালই ভাগ বাটোয়ারা চলছে। আর জংগীদের এসবড্রাগ দিয়ে তারা দুনিয়ার সবচেয়ে নৃশংস কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। আর এই হলো তাদের তথাকথিত “জিহাদ”।

আপনার মন্তব্য