চট্টগ্রামের বেলা বিস্কুট

1064
SHARE

বেলা বিস্কুট চায়ের সাথে সময় কাটানোর জন্য চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার। সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের সঙ্গে কিংবা বিকেলের আড্ডায় বেলা বিস্কুটের বিকল্প নেই চট্টগ্রামবাসীর কাছে।  প্রতিদিন এই বিস্কুট খাওয়াটা এ অঞ্চলের মানুষদের কাছে নেশার মতই।

ঠিক করে বলা মুশকিল এই বেলা বিস্কুটের প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়। তবে ইতিহাস পর্যালোচনা করে যতটুকু জানা যায়  স্বাধীনতার বহু পূর্ব হতেই এ অঞ্চলের খাদ্য তালিকার অংশ হয়ে রয়েছে বেলা বিস্কুট। শহর হতে শুরু করে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমান জনপ্রিয় এই বেলা বিস্কুট, সে টঙের দোকান কিংবা অভিজাত কোন বাসা। চট্টগ্রামের মানুষজন মেহমানদারিতে অন্য যা কিছুই পরিবেশন করুক না কেন চায়ের সাথে বেলা বিস্কুট থাকবেই যা অনেকটাই রীতির মত। বর্তমানে সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে এই বেলা বিস্কুটেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। যেমন আকার, স্বাদ, গন্ধ এবং প্যাকিং। আগে হাতে ময়দা ও অন্যান্য উপকরণ মেখে মণ্ড তৈরি করা হত আর এখন হাতের পরিবর্তে ব্যাবহার হচ্ছে ইলেকট্রিক মিক্সার মেশিন। বেকিং এও এসেছে পরিবর্তন আগে ট্র্যাডিশন তুন্দুল ব্যাবহার হত আর এতে জ্বালানি হিসেবে থাকত কাঠ পরে এই তুন্দুলেই এসেছে গ্যাসের ব্যাবহার আর এখন আরো আপগ্রেড হয়ে তা তৈরি হচ্ছে ইলেকট্রিক রোটারেক্ট ওভেনে।

সাধারণত এই বিস্কুট তৈরিতে উপকরণ হিসেবে লাগে ময়দা, ভেজিট্যাবল অয়েল, চিনি, ঘি, ক্রিম, কন্ডেসড মিল্ক, ডিম সব কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে তৈরি হয় মণ্ড যা চট্টগ্রামের ভাষায় বলে খামী। এই খামী সাধারনত একদিন আগেই তৈরি করে রাখা হয় যাতে মণ্ডটা ফুলে ফেঁপে উঠে। তারপর ছাঁচে কেটে দুই ধাপে তুন্দুলে ছ্যাঁকা (বেকিং) হয়।

চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি বেকারিই বেলা বিস্কুট উৎপাদন করে তাদের নিজস্ব স্বাদে তবে এমন কিছু বেকারির নাম বলতেই হয় যারা এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এবং তাদের রয়েছে বেলা বিস্কুট তৈরিতে দীর্ঘ যুগের ইতিহাস। তাদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল চকবাজারের চিটাগং বেকারি, গনি বেকারি পাঁচলাইশের প্রবাসি বেকারি মুরাদপুরের হাসিনা বেকারি। এছাড়াও চট্টগ্রামের আধুনিক ফুড ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মধ্যে বনফুল,ফুলকলি,মধুবন,ওয়েল ফুড, মডেল,ফ্লেবারস,থাই ফুড, অ্যাপল বি, সিজলসহ প্রায় প্রতিটিতেই উন্নত সংস্করণে বেলা বিস্কুট তৈরি হচ্ছে আর বিপনন করছে আকর্ষণীয় মোড়কে।

চট্টগ্রামের বাইরে বিশেষ করে ঢাকার লোকজনের কাছে এই বেলা বিস্কুটের কদর অনেক বেশি। খুব কম লোকই আছে যারা চট্টগ্রাম ভ্রমন করে ফিরতি পথে ব্যাগে ভরে বেলা বিস্কুট নিয়ে যাননি। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হলেও এই বিস্কুট বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের চাহিদা মেটাতে নিয়মিত রপ্তানিও হয় তারমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মধ্য প্রাচ্য অন্যতম।

চাঁটগাবাসীর নিজস্ব খাদ্য এখন আর নির্দিষ্ট পরিসরে নেই এর প্রসার দিন দিন বেড়েই চলছে। চট্টগ্রামের হাজারো ঐতিহ্যের সাথে বেলা বিস্কুটের এই ঐতিহ্যও বেঁচে থাকুক আজীবন।

আপনার মন্তব্য