WikiLeaks: রাশিয়া সম্ভবত হ্যাক করেছে আমেরিকার DNC

11394
SHARE

DNC – Democratic National Comittee – যার ইমেইল সার্ভার সম্ভবত হ্যাক করল রাশিয়ানরা – এমনটা বলছে আমেরিকার ইন্টেলিজেন্স। তারা সরাসরি রাশিয়ান সরকারের দিকেই আঙ্গুল তুলছে। কিন্তু আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত না যে এটা কি রুটিন হ্যাক ছিল কিনা। মানে আমেরিকাও এধরনের হ্যাক অপারেশন চালায় আন্তর্জাতিক ভাবে তাই এধরনের হ্যাক এখন অনেকটা ফেয়ার স্পাই অপারেশন হিসেবেই গন্য হয়। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনকে ম্যানুপুলেট করার জন্যই রাশিয়ান সরকার এমনটা করেছে বলে ধারনা করা হয়।

এখানে যা হ্যাক করা হয়েছে তা হলো DNC এর ইমেইল আর এই ইমেইলগুলো রিলিজ করেছে WikiLeaks যার ফাউন্ডার জুলিয়ান এসেঞ্জ। কিন্তু এটা এখন পরিস্কার না কিভাবে জুলিয়ানের কাছে ইমেইলগুলো গিয়েছে। গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক সাক্ষাতকারে রাশিয়াকে “DNC এর ইমেইল সার্ভার হ্যাক করার অনুরোধ জানিয়েছিল”। তবে সেসব ইমেইল্গুলোর বেশ বড় একটা অংশ Guccifer নামের আরেকটা সংস্থা অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছিল আর ধারনা করা হয় এই সংস্থা রাশিয়ান মিলিটারী ইন্টেলিজেন্সের একটা ইউনিট। তবে হ্যাকিং এর ব্যাপারে তেমন কোন ইলেকট্রনিক ফুটপ্রিন্ট আমেরিকার সরকার খুজে পায়নি যে কারনে ওবামা সরাসরি পুতিনকে দোষারোপ করতে পারছে না এই হ্যাকিং অপারেশনে। আর এধরনের সরাসরি দোষারোপ করাটা আমেরিকা আর রাশিয়ার মধ্যকার ঠান্ডা সম্পর্ককে আরো ঠান্ডা করে দিবে – এমনটাই বলছেন দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্ট।

রাশিয়া অনেকদিন চুপ করে থাকলেও ইদানীং তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ জোরে শোরে নেমেছে। তাদের প্রথম হিট ছিল আইএস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে। যেখানে আমেরিকা এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো তাদের তথাকথিত যুদ্ধে আইএস কে হারাতে পারছে না, সেখানে রাশিয়ার হামলা আইএস কে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে অল্প কদিনেই। আর ঠিক এর পর থেকেই কথা উঠছে আমেরিকার “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” নিয়ে। আমেরিকা কি আসলেই আইএস কে দমন করতে চায় না তাদের রাখতে চায় এ নিয়ে দুভাগ হয়ে গেছে মানুষ। কারন রাশিয়া যদি পারে তবে আমেরিকা পারেনি কেন – এটা অনেক বড় একটা প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। তবে রাশিয়ার এই হ্যাক অপারেশন হিলারী ক্লিনটনকে একটু বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে বৈকি। আর আমেরিকানরা ধারনা করছে যে পুতিন হয়তো চায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ক্ষমতায় আসে। এর আগে রাশিয়া ইউরোপের নানা দেশের নির্বাচনে নাক গলালেও আমেরিকার ব্যাপারে নাক গলানো এই প্রথম। তাই আমেরিকার ইন্টেলিজেন্স একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে বৈকি।

অনেকেই ধারনা করছেন পুতিন আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কোন না কোন সখ্যতা আছে তবে ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন। যদি ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে যায়, তাহলে সবকিছুই অন্যরকম হয়ে যেতে পারে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আমেরিকায় অবস্থানরত বিদেশীদের অবস্থা। ট্রাম্পের মুসলমান বিদ্বেষও বেশ প্রবল। সুতারাং বলাই চলে, ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট হয় তাহলে হয়তো আরও খারাপ সময় আসছে মুসলিম দেশগুলোর উপর। কারন মুসলমান দেশগুলোর কোন ঐক্য নেই। একজন আরেকজনকে মারতেই আছে সবাই। শুধু দেশ না, মুসলমানদের মাঝেও এখন কোন আর ঐক্য নেই। শুধুই আছে বিভক্তি আর এমনটা চলতে থাকলে একসময় মুসলমানরা একঘরে হয়ে যাবে।

 

আপনার মন্তব্য