কে এই হাসনাত?

38591
SHARE

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন হাসনাত করিম। শিক্ষকতাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রমাণ পায় তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার। অভিযোগ উঠে তিনি জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির পৃষ্টপোষকতা করেন। সে সময়ের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট নেন আর তার ভিত্তিতেই ২০১২ সালের জুনে অব্যহতি দেওয়া হয় হাসনাত রেজা করিম সহ আরো চার জনকে। এমনিতেই নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আগে হতেই হিযবুত তাহরীর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তার ব্যাক্তিক ও পারিবারিক জীবনের বিশদ জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বর্তমানে হাসনাত করিম অফিসিয়ালি কর্মরত রয়েছেন বেসিক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ডিরেক্টরস এ তার নাম পাওয়া যায় সাথে ম্যানেজমেন্টের তালিকায় নাম রয়েছে আনোয়ারুল করিম নামের একজন। আর অন্যান্য নামগুলোও দেখে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি তাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

গুলশানের হোলি আর্টিসানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিব্রাস ইসলাম ২০১২তে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল যেটা তখনকার একটি নম্বর পত্র থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। যেহেতু হাসনাত করিম ও নিব্রাস ইসলাম একই প্রতিষ্ঠানের ছিলেন সেহেতু তাদের মধ্যে গভীর সখ্যতা ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। গুলশানের হোলি আর্টিসানে হত্যাকাণ্ডের সময় রেস্টুরেন্টটির পাশে থাকা একটি বিল্ডিঙের কক্ষ হতে কোরিয়ান দম্পতির ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায় নর্থসাউথের সাবেক শিক্ষক হাসনাত কাচের দরজার অপরপাশে রাইফেল হাতে দাড়িয়ে থাকা এক জঙ্গির পাশে সাবলীল ভঙ্গিতে হাত নেড়ে কথা বলছেন। এছাড়াও সে যখন দোতলার বারান্দায় সিগারেট ফুঁকছিল তখনো তার পিছনে থাকা দুই জঙ্গি মাথা নিচু করে অনুগতের মত হাঁটছিলো। ঘটনার পরবর্তীতে দেখা গেল পরিবার সমেত এই হাসনাত করিম জিম্মি মুক্তির নাটক করে বের হয়ে যেতে, আর ন্যাড়া মাথায় যে টিশার্টটি পরিহিত ছিলেন সেটিও হুবহু মিলে গেছে কিছুদিন পূর্বে কাতার সফরের তার আরেকটি ছবিতে। এসব কিছুর পর গোয়েন্দা কেন যে কেউ ধারনা করে ফেলতে পারে হাসনাত করিম মোটেও ধোয়া তুলসী পাতা নন..!

এদিকে ঠাণ্ডা মাথায় গোয়েন্দা কার্যালয়ে আটক থাকা হাসনাত করিম কৌশলে নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলছেন প্রাণ ভয়ে জঙ্গিদের কে বিদেশীদের লুট করা মোবাইলে উইকার ও থ্রিমা অ্যাপস ডাউনলোড করে দেন, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের এক উগ্রপন্থী সংগঠনের মুখপত্র “আমাক” নিউজ এজেন্সির কাছে বিদেশী হত্যার ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করে জঙ্গিরা পরে তা চলে যায় মার্কিন বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স সহ বিভিন্ন স্থানে। এত কিছুর পর তাকে কেন স্বাভাবিক দেখা গেল কেনই বা কোন ক্ষতি ছাড়া তার পুরো পরিবারকে ছেড়ে দিল জঙ্গিরা…! এর কোন সদুত্তর না দিয়ে গোয়েন্দাদের সামনে চুপচাপ থাকেন হাসনাত করিম। হয়ত পুরো বিষয়টি গোয়েন্দাদের নাগালে, এতদিন সব কিছুরই তথ্য উপাত্ত বের করে ফেলেছেন তারা। তদন্ত শেষ না হওয়ায় পাবলিকলি ডিক্লার করছেনা সরকার।

সে যাই হউক, সত্য আলোর পথ দেখুক উপযুক্ত শাস্তি হউক মানব ঘাতকদের।

আপনার মন্তব্য