সবকিছু “Excellent” কিন্তু …

11749
SHARE

যে যত যাই বলুক না কেন, অথবা সুশীল সমাজ সারা বছর টিভি আর ফেসবুকে মুখে ফেনা তোলা পোস্ট দেক না কেন, যে কোন বাংলাদেশীকে অকপটে স্বীকার করতে হবে যে গত ৫-৬ বছর ধরে দেশে সার্বিক অনেক উন্নতি হয়েছে নানা সেক্টরে। এ কথাকে অস্বীকার করলে অনেক বড় বেঈমানী হয়ে যাবে মাটির সাথে। হতে পারে এখানকার জনগন কয়েকটি রাজনৈতিক আদর্শে বিভক্ত কিন্তু এগুলো স্বীকার করতেই হবে। উন্নয়ন হয়েছে। আমরা নিজের চোখে দেখছি। সেটি অর্থনৈতিক হোক, আর কাঠামোগত হোক, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি হোক। তবে সম্প্রতি আইএস ইস্যুতে দেশের ভাবমূর্তি একটু হলেও ক্ষুন্ন হয়েছে। ওয়েল, এটা করার জন্যই তো সন্ত্রাসীদের এত আয়োজন তাই না? যখন এই লেখাটি পড়া শুরু করেছেন, সেই মুহুর্তে আমার কল্পনায় আমি শুধু ২ ধরনের মানুষ দেখতে পাচ্ছি যারা এটি পড়ছেন এই মুহুর্তে। একদল মানুষ একটু খুশী মনে পড়ছেন, কোন ক্ষোভ নেই এবং আরেকদল মানুষ যেকোন মুহুর্তে নীচের কমেন্ট বক্সে গগনবিদারী কিছু গালি দিয়ে বসবেন। Wow! How Predictable we are!

রাজনীতি আমি খুব কম বুঝি। বলতে গেলে একেবারেই না। তবে কাছাকাছি কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কিছু বড় নেতা থাকার কারনে মাঝে মাঝেই তাঁদের কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারি বা বুঝতে পারি। কিন্তু রাজনীতি বোঝার ক্ষমতা আমার নেই বললেই চলে। আমি ফ্যাক্টস বিশ্বাস করি। গত ৫-৬ বছরে দেশের যে অনেক উন্নতি হয়েছে সেটা আমার কাছে একটা ফ্যাক্টস। ২০০৪ সালে আমি প্রথমবারের মত যখন ১ মাসের জন্য দেশে বেড়াতে আসি সেই তখনের বাংলাদেশ এবং আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তর ফারাক। আর ২০০৪ সালের আগের বাংলাদেশের চিত্র মনে হয় আরো বেশি খারাপ ছিল কিন্তু তখন অত কিছু তো আর বুঝতাম না। গন্ডি ছিল সীমিত।

আমি বঙ্গবন্ধুর অনেক বড় ফ্যান। কত বড় ফ্যান সেটা পরিমাপ করার মেশিন থাকলে হয়তো টপ লেভেলেই থাকতাম। এত বড় ফ্যান যে উনাকে নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য আমি আজ অনেকদিন ধরেই টুকটাক গবেষনা করছি আর প্রস্তুতি নিচ্ছি আমার ছোট্ট পরিসরে।আমাদের কাছে বঙ্গবন্ধু একজন সুপারহিরো এবং এটা সব বাংলাদেশীর জন্য সত্য হওয়া উচিত। বঙ্গবন্ধু হত্যা আমার কাছে বাংলাদেশের অনেক বড় কালো একটা অধ্যায়। আর যেদিন সেই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার হলো, সেদিন থেকে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও একজন বড় ফ্যান হয়ে গেছি। তার আগে আসলে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবতাম না। মনে মনে বলেছিলাম “বাপকা বেটি”- যা বলে করেই ছাড়ে। একটা অন্যরকম কনফিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর উপর চলে এসেছিল যেটা সচরাচর হয় না। এরপর, আরো বহু বিষয়ে উনার কাজ দেখে বার বার সেই কনফিডেন্টটাই আরো অনেক মজবুত হয়েছে। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু জানতে পেরেছি নতুন করে, দেশীর রাজনীতির অনেক কিছু বুঝতে শুরু করেছি। অনেক ভুল ধারনাও চলে যেতে শুরু করেছিল একটা সময়ে। কানকথায় যা শুনতাম আর বাস্তবের সাথে কোনকিছুর মিল থাকত না! তখন থেকে বুঝতে পেরেছিলাম, আমাদের দেশে ফ্যাক্টস নিয়ে কেউ ভাবে না। কান কথা নিয়ে দৌড়ে বেড়ায়।

আমার মতে (যদি আমার মত নগন্য মানুষের মতে কিছুই যায় আসে না) বাংলাদেশ বর্তমানে সবচেয়ে স্ট্যাবল অবস্থায় আছে স্বাধীনতার পর থেকে। এখানে উন্নয়ন হচ্ছে, নতুন ব্যবসাক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে, বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে, বিদেশে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে, কাঠামোগত উন্নতি চোখে পড়ার মত, মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, প্রযুক্তিতে মানুষের পার্টিসিপেশন বাড়ছে এবং এ লিস্ট শেষ হবে না। এগুলো কিন্তু ফ্যাক্টস যেটা মেনে নিতেই হবে। অনেকেই বলে আমাদের দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। ঠিক আছে মানলাম এই কথাটা কিচ্ছুক্ষনের জন্য। তাহলে এবার একটা কথা বলি – মত প্রকাশের মাধ্যম স্যোশাল নেটওয়ার্কে বা ব্লগে আপনার রক্তক্ষয়ী স্ট্যাটাসগুলো কিসের সাক্ষী? যাই হোক, ব্যাক টু দ্যা পয়েন্ট – আমরা ছিলাম উন্নয়নে। প্রধানমন্ত্রী যেদিন রাজাকারদের বিচার কনফার্ম করলেন, সেদিন ছিল সেই কনফিডেন্টের ডাবল প্রমোশন। এরপর একেবারে চোখ বন্ধ করে উনার উপর ভরসা করা যায় – এধরনের একটা মনোভাব জন্মেছিল। কারন, আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি যেটা বলে সেটা করতে পারে, তাহলে সেখানেই তার সাফল্য এবং উনি দেখিয়ে দিয়েছেন। পদ্মা সেতুর ব্যাপারেও সেই কনফিডেন্ট যেটার কাজ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তবে শুরু হবার আগে কত নাটক যে হয়েছিল! কিন্তু তিনি ঠিকই কনফার্ম করেছেন যেন পদ্মা সেতু হয়। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে, এটা কি কম পাওয়া?

উপরের এতগুলো কথা বলার মানে হলো একটাই, সবকিছুই খুব Excellent -এ ক’বছরে যা যা দেখে এসেছি। ছোট থেকে বড় সবকিছুতেই উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। ছোট্ট একটা উদাহরন দেই সেক্ষত্রে – আমাদের বাসার সামনের রাস্তাগুলো জীবনে কোনদিন দেখিনি ঠিক আছে। কিন্তু এখন, একেবারে ঝকঝকে ঢালাই করা রাস্তা। ছোট্ট একটা এলাকার কথাই বলছি। এর মানে উন্নয়ন ছুয়েছে সবদিকেই কম বেশী। কিন্তু একটা ব্যাপারে এসে আমি একটু থমকে গেছি – সেটি হলো রামপাল ইস্যুতে। রামপাল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, অনেক আওয়াজ উঠছে, পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু একটা কথাতো ঠিক, রামপালের কারনে পরিবেশগত বিপর্যয় হবেই। সেই সাথে থাকতে পারে সামাজিক বিপর্যয় বা অন্যান্য কিছু যেগুলো হয়তো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। I am no Expert on Environment কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর একটা সস্তা ডিগ্রী আর বিদেশের ২/১ মাইনিং কোম্পানীতে ইন্টার্নি করার কারনে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম। সেই অল্প জ্ঞান থেকেই বলছি, রামপালের কারনে পরিবেশগত সমস্যা হবেই। আর এটা শুধু আমার কথা না। এটি একটি World Heritage যা জাতিসংঘ অনুমোদিত। আমার চাইতে ১০০০০০ গুন বড় বড় এক্সপার্টরা বলছেন ক্ষতি হবে পরিবেশের। আমার কথা বাদই দিলাম। তাও, এত প্রতিবাদের মুখে কেন এই রামপালেই বিদুতকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে? অন্য কোথাও কি করা যেত না বা যায় না? সরকারের এই একটা ব্যাপারে এসে আমি একটু থমকে গেছি কেন জানি। তার মানে এই না যে আমার কনফিডেন্ট লেভেল নীচে নেমে গেছে। দেশের তরুনরা আজ প্রায় এক হয়েছে সুন্দরবনকে বাঁচাতে। এটি কিন্তু সচরাচর হয় না। দেশের ব্যাপারে আমরা কেই সহজে নাক গলাই না। হুজুগ থাকলে হয়তো করি। কিন্তু রামপালের ব্যাপারে দেশের তরুনরা, শিক্ষিতরা, ভবিষ্যতরা এক হয়েছে – দেশের জন্য। এই অদ্ভুত সুন্দর ঐক্যটাকে কি বাচিয়ে রাখা যায় না? রামপাল চুক্তি বাতিল করে অন্য কোথাও কি এই কেন্দ্রটি করা যায় না?

আমি জানি প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেম আমার চাইতে ১০০০০০০০ গুন বেশী খাটি। আমার চাইতে ৫০ হাজার গুন ভাল বোঝে। আমার চাইতে ১ লক্ষ গুন বেশী ভাল চায় দেশের জন্য। তাই উনার উপর আমার কনফিডেন্ট আছে। কারন আমি জানি উনি এমন কিছু করবেন না যেটাতে দেশের ক্ষতি হতে পারে। যদি রামপালে দেশের ক্ষতি হয়, তাহলে উনি সেটা অবশ্যই বাতিল করে দিবেন। দেশের ব্যাপারে উনি কাউকে ছাড় দিবেন না। অতীতেও দেননি। ভবিষ্যতেও দিবেন না। এটা আমার কনফিডেন্ট। আমি কোন রাজনীতিবীদ না। সত্যি কথা বলতে আমি ভোটারও না। এখন পর্যন্ত ভোটও দেই নি কোনদিন। ভবিষ্যতেও ভোটার হব কিনা সেটা জানিনা। তাই হয়তো আমার বলার অধিকার খুব সামান্য। কিন্তু আমার প্রধানমন্ত্রীর উপর কনফিডেন্ট অনেক। এবং আমি এখনও চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি, রামপাল কেন্দ্র যদি সুন্দরবনের ১% ও ক্ষতি করে, তাহলে তিনি সেটি বন্ধ করে দিবেন কিছু হবার আগেই। এবং আমি নিশ্চিত, আমি বা আমরা বা বাংলাদেশ নিরাশ হবে না।

আপনার মন্তব্য