আশরাফুল… আশরাফুল
August 13, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

আশরাফুল… আশরাফুল

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল ফিরছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে।  বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ২০১৩ সালে আইসিসি কর্তৃক নিষিদ্ধ এ ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ। আইসিসির আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা বিপিএল’এ এখনি আর খেলতে পারছেননা, তাকে অপেক্ষা করতে হবে ২০১৮সাল পর্যন্ত। তবে আশার কথা হল দেশের প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার স্বল্প পরিসরে হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

নিজের ভুলকে শুধরিয়ে এতদিন ধরে মুখিয়ে থাকা ভক্ত অনুরাগীদের আবারো চাঙ্গা করতে ব্যাটে ঝড় তুলবেন দেশের এই লিটল মাস্টার আর এটাই সবার প্রত্যাশা। ভুলে গেলে চলবেনা তার অনুপস্থিতিতে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে, তাই দেশের এই লিটল মাস্টারকে এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। নিজেকে আবারো ফিট ও সেরা প্রমাণ করতে এই স্বর্ণালী সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তার এই অসময়ে দেশের মানুষের সমর্থন ও দোয়া তাকে অনেখানি শক্তি যুগিয়েছে তা নিঃসন্দেহে অনুমান করা যায়। মানুষ হিসেবে কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, নিজের ভুল বুঝতে পেরে আশরাফুলের সরল স্বীকারোক্তি তাই ক্রিকেট বোদ্ধারা ভালভাবেই গ্রহণ করেছে। নিজেকে শুধরাতে তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন অংশ নিয়েছেন ফিক্সিং, দুর্নীতি বিষয়ে বিসিবি ও আইসিসির প্রশিক্ষণ কর্মশালায়। আর এসব পুনর্বাসন ও শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম মনিটরিং করে বিসিবি রিপোর্ট করেছে আইসিসিতে।

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে  বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলা ম্যাচে ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পরেন আশরাফুল আর তা প্রমানিত হওয়ায় বিসিবির গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে আট বছর এবং শর্তসাপেক্ষে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। আইসিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ ক্রিকেটাররা শর্ত সাপেক্ষে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারবেন। এজন্য স্বীকারোক্তির পাশাপাশি নিষিদ্ধ খেলোয়াড়কে বোর্ড থেকেও আইসিসি বরাবর আনুমতি চাইতে হবে। সেই অনুযায়ী আশরাফুলের আপিলের ভিত্তিতে এবং ক্রিকেটে তার গুরুত্ব অনুধাবন করে নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ২বছর এবং আন্তর্জাতিক ও বিপিএল এ ৫বছরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

 

 

 

১৭বছর বয়সে অভিষিক্ত হওয়া প্রতিভাবান এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে আছে ৬১টি টেস্টে ২৭৩৭ রান, ১৭৭টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩৪৬৮ রানসহ ২৩টি টি-২০ এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আর দেশের হয়ে লড়া এই ক্রিকেটার প্রতিটি ম্যাচেই তার গুরুত্বকে প্রমাণ করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া এই ক্রিকেটারের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আশার অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।  ক্যারিয়ার পুনুরুজ্জীবিত করতে এখনই সুযোগ আশরাফুলের পূর্বের মত জ্বলে উঠার। শুভ কামনা রইল …

আপনার মন্তব্য