এবার জিয়ার পালা!


গুলশান হামলার পর থেকে অনেক দিন ধরেই তামিম চৌধুরী আর সেনা বাহিনী থেকে বহিঃষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে নিয়ে জনমনে অনেক জল্পনা কল্পনা !
অবশেষে গত কাল তামিম চৌধুরীর নিহত হবার মধ্য দিয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল ।
এবার জিয়ার পালা- বহিঃষ্কৃত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক !
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল আবারও আশ্বাস দিয়েছে যে, জিয়াউল হকের অধ্যায়ও শেষ করা হবে ।

জানা যায় , তামিম চৌধুরী জঙ্গী সংগঠন জামা’তুল মুজাহিদীনের একটি অংশের নেতা ছিল এবং এই তামিমই ইসলামিক স্টেটের মুখপত্র দাবিক-এ সাক্ষাৎকার প্রদানকারী শেখ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ ! আর এটা প্রকাশ পাবার পর তাকে নিয়ে বহু আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে রিপোর্টও বের হয়েছিল ।
‘দাবিক’-এর ওই সাক্ষাৎকারে তাকে বেঙ্গল-এ ইসলামিক স্টেট বা ‘খিলাফাহ’র সৈন্যদের আমির বা নেতা’ বলে পরিচয় দেয়া হয়েছিল ।

যাক , এবার অপেক্ষা জিয়াউল হকের অধ্যায় শেষ হবার , অপেক্ষা একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে হাঁফ ছাড়ার ! জিয়াঊল হককে ধরা গেলে বা মারা গেলে দেশে জঙ্গি সমস্যা শেষ হয়ে যাবে এটা পুরোপুরি আশা করা যাবে না সত্যি, কিন্তু আমাদের চৌকস পুলিশ বাহিনী যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে , দিচ্ছে সেটা দেশের সাধারণ নির্বিবাদী মানুষের জন্য স্বস্তি ও আশা প্রদায়ক ।

দেশে অনেক গুলো সমস্যা বিরাজমান ছিল ! জনমনে সংশয় , সন্দেহ আর অনাস্থার দোলাচল ! কিন্তু আশার কথা এই যে , পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবার সম্ভাবনা তৈরী হচ্ছে ! ইতিমধ্যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রামপাল পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টি ভঙ্গী তুলে ধরেছেন ! তাঁর বক্তব্য জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে । রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশের জন্য কোন ভাবেই হুমকি নয় এটা তিনি বিভিন্ন তথ্য উপাত্যের মাধ্যমে পরিষ্কার করে দিয়েছেন ! যারা ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে আসছিল তাদের জন্য এবার তথ্য খন্ডনের পালা ! তিনি সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছবিও দেখিয়েছেন । অনেকেই বড় পুকুরিয়ার কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদাহরণ টেনেছেন অতীতে ! কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বড় পুকুরিয়ার কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যে ছবি দেখিয়েছেন তাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লী সহ এক পাশে মাঠের সবুজ ঘাস আর অন্য পাশে সবুজ সতেজ ফলজ গাছের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিবেশের কোন ক্ষতি হতেই পারেনা ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রামপাল বিষয়ে সরকারের জবাব চেয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার জবাব দিয়েছেন । সাথে এটাও বলেছেন, যে বেগম খালেদা জিয়ার দুশ্চিন্তা দেখে তাঁর এটাই মনে হয় যে , মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশী !

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বঙ্গ বাঘিনী শেখ হাসিনা দেশের জন্য কি করেছে আর কি করছেন এটা জনগণ জানে ! তাঁর দেশপ্রেম সম্পর্কে দেশের প্রতিটি মানুষ সচেতন ! দেশের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাতৃ স্নেহে দেশ পরিচালনা দেখছে । আর বেগম খালেদা জিয়ার দেশ পরিচালনাও দেখেছে ।

বিএনপি সমর্থক বা আওয়ামী বিদ্বেষীদের হয়ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ” মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশী ! ” উক্তিটা ভালো লাগবে না ! কিন্তু বাস্তবতা হল বিএনপি শাসনামল আর আওয়ামীলীগের শাসনামলের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলে পাল্লাটা যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকেই ভারি হবে এটা নিশ্চিত !
তারপরও তাঁদের মত বড় মাপের মানুষের দেশপ্রেম যাচাই করা আমাদের মত অর্বাচীনের সাধ্যাতীত !!
তাই কার দেশপ্রেম কেমন সেটা নিয়ে কোন কথা হবেনা !

তবে এটুকু বলা যায়, যে, আমাদের মা – মাসী – দের মাঝে কার দেশপ্রেম বেশী সেটা নিয়ে সংশয় থাকলেও দুজনের মাঝে যে দ্বন্দ্ব আছে ষোলআনা এটা নিশ্চিত !!! আমাদের মা – মাসী র মাঝে এই দ্বন্দ্ব সংঘাত টুকু না থাকলে আজকের বাংলাদেশ পৃথিবীর এক আদর্শ দেশ হত বহু আগেই !
তাই বলে দেশের উন্নয়ন থেমে আছে এটা কেউ বলতে পারবেনা ! উন্নয়ন হচ্ছে , একটু ধীর – এই যা !
এই যেমন , রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবেই ; দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ঘুচবে ; উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে !
রামপাল ইয ফাইনাল !!!
দেশে জঙ্গি সমস্যাও থাকছে না ! বিদ্যুৎ ঘাটতিও থাকছে না ! মাঝখান থেকে বন্যাটা একটু যা সমস্যা ! কিন্তু বিচলিত হবার কিছু নাই । আগামী ২ / ৩ দিনের মধ্যেই বানের জল নেমে যাবে – বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ! তাছাড়া এটাতো মৌসুমি বন্যা – সমস্যা কি !

আপনার মন্তব্য
Previous শুরু হয়ে গেছে জংগী তামিম হত্যার জন্য "চোখের পানির" গড়িয়ে পড়া
Next হট নিউজ ২ টাকা!! মাত্র! - গ্রামীনফোন - প্লিজ মাফ কর!