কেন আইএস বাংলাদেশে সফল হবেনা


পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতই আইএস বাংলাদেশে একটি ঘৃণ্য নাম হিসেবে ইতিমধ্যে অধিকতর প্রচার পেয়েছে। ইসলামিক ষ্টেট তাদের সংগঠনের নাম হলেও ইসলামিক ধ্যান ধারনার বাইরে তারা একটি অন্য অবয়ব বা পরিচিতি সৃষ্টিতে নিজেদের অধিকতর নিয়োজিত করেছে। প্রতিনিয়ত তারা মানুষ হত্যার মাধ্যমে পৃথিবীতে ভীতি সঞ্চার করে নিজেদের অস্তিত্তের জানান দিচ্ছে। যদিও তারা তাদের হীন স্বার্থ কায়েমের চাইতে নিজেদেরই অধিক বিপদগামী করে তুলছে ও ক্ষতি করছে।

দেখা যায় আইএস এর ভাবাদর্শের প্রতি যদি কেউ ভিন্নমত পোষণ করে তাদের উদ্দেশ্যে তলোয়ার ও অস্ত্র উঁচিয়ে এক কঠোর মনোভাব দেখায় আইএস। তারা প্রতিনিয়ত খ্রিস্টান ও ইয়াজিদিদের জবাই করছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাদের হত্যা-নির্যাতনের সবচেয়ে বড় একটি অংশ মুসলমানরাই, যারা তাদের কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং  প্রতিরোধ গড়েছে। এছাড়াও যেসব সুন্নি ইমামরা নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকার করছেন এবং যে মুসলিম নারীরা তাদের ফতোয়াগুলি মানতে চাননি,  তাদেরও ধরে ধরে হত্যা করছে আইএস।

সম্প্রতি সহিহ মুসলিম হাদিসের একটি বানী খুব জোরে সোরেই সামনে চলে এসেছে, তা হল-  “(মহানবী (সা:)  বলেছিলেন,  ইসলাম ধর্মের লেবাসে  সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ইসলামের বিশ্বাসকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করবে। একদল তরুণের আবির্ভাব ঘটবে, যারা চিন্তায় হবে অপরিণত’। তারা সুন্দর সুন্দর কথা বলবে, কিন্তু করবে সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজ। তারা এত বেশি ধর্ম পালন করবে যে যার কাছে মুসলমানদের ইবাদত তুচ্ছ বলে মনে হবে। “তারা মানুষকে কোরআনের কথা বলবে, কিন্তু তা হবে কেবল তাদের মুখের কথা। অর্থাৎ, তারা এর মর্মার্থ বুঝবে না, কেবল বেছে বেছে কিছু অংশ আওড়াতে থাকবে। আর তাই মহানবী তাদের ‘সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট’ বলেছেন। তাহলে কি এরাই সেই তরুনের দল?

যারা ইসলামের আড়ালে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করে ইসলামকেই বিতর্কিত করে তুলছে। এদের মধ্যে ঈমানের এতটাই অভাব যারা ইসলামের নবী মোহাম্মদ(সা:) এর পবিত্র নগরী মদিনাকেও আঘাত করতে কুণ্ঠিত বোধ করেনা!

কোরআনের নিবিড় পাঠে এটা স্পষ্ট যে, আইএস এর মতো দলগুলোর সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড ইসলামের বিধি বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কোরআনে বলা হয়েছে একটি হত্যাকাণ্ড ‘গোটা মনুষ্যজাতিকে নির্মূল করার সমতুল্য(সুরা মায়েদাহ) এবং ফিৎনাকে( বিশৃঙ্খলা) বিবেচনা করা হয়েছে হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ হিসেবে(সুরা বাকারা)।

ঠিক এই কর্মকাণ্ডগুলোই পরিচালনা করছে আইএস যা সম্পূর্ণরুপে ইসলাম বিরোধী, তারা কোরআনের খণ্ডিত চুম্বক অংশবিশেষকে হাইলাইট করে এর ভুল ব্যাখ্যা করছে। ইসলাম সহ অপরাপর সকল ধর্মে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিবেকের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ধর্মত্যাগ ও ধর্মনিন্দার (ব্লাসফেমি) জন্য ইহজাগতিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য ৩৫০জন আইএস জঙ্গির প্রবেশের খবর পাওয়া যায় যারা জঙ্গিবাদের নিদিষ্ট মিশন নিয়েই এসেছে, আপাত দৃষ্টিতে প্রায় ১৬কোটি লোকের বসবাস এই বাংলাদেশে তাদের সংখ্যা ও ক্ষমতা একেবারেই ক্ষীণ মনে হলেও তারা যে বিপদগামী এতে কোন সন্দেহ নাই, নিজেদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও অপরাপর নিরীহ জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এদেশীয় হিজবুত তাহরির, হুজি, জেএমবিসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন গুলি তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করছে যার ফলে তথাকথিত আইএস এখানে জঙ্গি হামলার মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব প্রমানে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু কথা হচ্ছে তাদের সক্ষমতা কতটুকু? ইরাক, সিরিয়া লেবাননের মত দেশে তারা টিকে থাকতে পারছেনা যেখানে তাদের লক্ষ লক্ষ জঙ্গি যোদ্ধা এবং নেতৃত্ব আছে। আর বাংলাদেশে ইতিমধ্যেই যেভাবে সাঁড়াশি অভিযানগুলো পরিচালনা করে তাদের নির্মূল করা হচ্ছে সেখানে স্বল্প সংখ্যক কিছু বিপথগামী অর্বাচিন তরুণ তাদের ভুল উদ্দেশ্য অর্জনে কতটুকু সফল হবে তা দিবালোকের মত পরিস্কার।

প্রথমত বাংলাদেশ সরকার জঙ্গি নির্মূলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে আর এরই প্রেক্ষিতে সদ্য গঠিত কাউক্টার টেররিজম ইউনিটসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি অভিযান পরিচালনা করে একের পর এক জঙ্গিদের আস্থানাসহ তাদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমতাবস্তায় জঙ্গিদের অসহায়ত্ব ভীষণভাবে ফুটে উঠছে, প্রশাসনের তোপের মুখে টিকতে না পেরে তারা আত্মঘাতী পথ বেছে নিচ্ছে। উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে তুলনা করলে এটা প্রতীয়মান হয়যে এইদেশ জঙ্গিবাদের জন্য খুব একটা আদর্শ বা উপযুক্ত জায়গা নয়, কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রধান দেশ হলেও আবহমান এই বাংলার চিরাচরিত ঐতিহ্যের সাথে জঙ্গিবাদ সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এদেশের মানুষ চিরকাল ধরেই জঙ্গিবাদকে ঘৃণাভরেই প্রত্যাখ্যান করেছে। যেখানে মৌলবাদ খুব একটা কার্যকরী হয়ে উঠেনি সেখানে জঙ্গিবাদ অনেকটাই অবান্তর। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলছে সেখানে দেশের এই অগ্রগতির পথে জঙ্গিবাদ কোনভাবেই বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনা। হয়ত সাময়িক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে গেছে কিন্তু তা চিরস্থায়ী রুপে কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা। অন্তত আমাদের সামাজিক কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সেই নিশ্চয়তা দেয়।

আপনার মন্তব্য
Previous বাংলাদেশের সেরা দশটি জলপ্রপাত!!!!!
Next কুমিল্লার বিখ্যাত রসমালাই