চট্টগ্রামের হারিয়ে যাওয়া একটি আঞ্চলিক গান


বাংলাদেশ – খুব ছোট একটি দেশ হলেও, দেশের ভেতরে স্থান ভেদে এই দেশে সংস্কৃতির যে বৈচিত্র দেখা যায় তা অবাক হববার মত। প্রতিটি জেলার, প্রতিটি বিভাগের রয়েছে নিজস্ব স্বকীয়তা, নিজস্ব সংস্কৃতি। আর এসব মিলিয়েই বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আর এই ঐতিহ্যে পিছিয়ে নেই চট্টগ্রামও। চট্টগ্রামে মনে আরো একটু বেশী ডাইভার্স। সমতল, সমুদ্র আর পাহাড় মিলিয়ে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বৈচিত্রের প্রভাব এর সংস্কৃতির মধ্যেও পড়ে। এরই মাঝে হয়তো অনেক কিছু হারিয়ে যেতে বসেছে। যেমন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান।

চট্টগ্রামের অনেক মজার মজার আঞ্চলিক গান আছে। যেগুলো হয়তো শত বছর ধরে লোকমুখেই রয়ে গেছে। আর বেশীরভাগই হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু তারই মাঝে কিছু কিছু সময় বের হয়ে আসে অদ্ভুত সুন্দর কিছু গান আর তাদের সুর। ফোক গান হিসেবেই রয়ে যায় এগুলো। অনেক সময় অনেক বয়োজষ্ঠ কাউকে গাইতে শোনা যায়। অনেক সময় পাহাড়িদের গাইতে শোনা যায়। আবার লোকাল চাটগাইয়াদেরও আছে নানা গান।

মজার মজার সব গানগুলো কালের বিবর্তনে হয়তো সুর বা কথা বদলে যায়। কিন্তু মূল অর্থ বা থিম একই থাকে। চট্টগ্রামের এই গানের ঐতিহ্য গুলো ধরে রাখার জন্য আজ পর্যন্ত তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। নেয়া হলেও অপ্রতুল। এসব ভেবে আমরা আমাদের অনলাইন্ট টিভির জন্য একটা সাপ্তহহিক অনুষ্ঠান চালু করি – “শেকড়ের সন্ধানে”। যেখানে চট্টগ্রামের হারিয়ে যাওয়া কিছু আনপ্লাগড ভার্সন লাইভ গেয়ে শোনানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রামের এসব গানকে নতুন রুপে আবারো সামনে আনার জন্য এবং টিকিয়ে রাখার জন্য আমরা এসব হারিয়ে যাওয়া গানগুলোকে চিত্রায়নের একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। সোজা বাংলায় – এসব হারিয়ে যাওয়া গানের কিছু এক্সক্লুসিভ মিউজিক ভিডিও তৈরী করছি আর ইউটিউবে এবং আমাদের অনলাইন টিভিতে রিলিজ করছি। উদ্দেশ্য একটাই, স্বল্প পরিসরে হলেও গানগুলো টিকিয়ে রাখা। র‍্যাপ, ব্যান্ড আর আধুনিক গানের এই যুগে এই আঞ্চলিক গানগুলো নিয়ে কারো মাথা ব্যাথাও নেই। সম্ভবত বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো গানগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কেও জানেনা।

আজ প্রথমবারের মত রিলিজ করা হলো চট্টগ্রামের গান নিয়ে আমাদের প্রথম মিউজিক ভিডিও। “বউ কালা” শিরোনামে গানন্টি ইতিমধ্যে আমরা ইউটিউব এবং আমাদের পেজে আপলোডও করেছি। মজার এই গানটি গেয়েছেন চট্টগ্রামেরই শিল্পী নিখিলেশ বড়ুয়া আর কম্পোজ করেছেন রনি দাস। এদুজনই আবার চট্টগ্রামের তরুন প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত একটি নাম। গানটি রেকর্ড করা হয়েছে আমাদের নিজস্ব রেকর্ডিং স্টুডিওতে। আনপ্লাগড একটি ভার্সন বলা যেতে পারে। আর মিউজিক ভিডিও তৈরী করা হয়েছে চট্টগ্রামে। এই গান নিয়ে একটা শর্টফিল্মও রিলিজ করা হবে ২২ তারিখ (অগাস্ট) রাতের বেলা।

যারা এখনও মিউজিক ভিডিওটি দেখেননি, তারা দেখে নিতে পারেন নীচের ভিডিওতে। আর সবার কাছে অনুরোধ রইল, বিশেষ করে চট্টগ্রামের মানুষের কাছে, শেয়ার করে গানটি যেন আপনারা ছড়িয়ে দেন। তাহলেই আমাদের কস্ট সফল হবে।

আপনার মন্তব্য
Previous বউ কালা ! !
Next অযথাই অলিম্পকে বাংলাদেশ!