চট্টগ্রামে অ্যামোনিয়া গ্যাস -তীব্রতা বাড়ছেই
August 23, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

চট্টগ্রামে অ্যামোনিয়া গ্যাস -তীব্রতা বাড়ছেই

চট্টগ্রামের আনোয়ারার সারখানায় বিস্ফোরনের কারনে সৃষ্ট লিকেজে এই মুহুর্তে চট্টগ্রামের বাতাসে তীব্র অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত চট্টগ্রামের পতেঙ্গা হতে শুরু করে আনোয়ারা, হালিশহর, দামপাড়া পর্যন্ত এই গ্যাস ছড়িয়ে গেছে। বাতাস খুব ভারী হয়ে আছে আর তীব্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত গ্যাস লিকেজ নিয়ন্ত্রনে আনতে পারার কোন ঘটনা শোনা যায়নি।

গ্যাস বিস্ফোরন নিয়ে গত ২ ঘন্টার মধ্যে এটি আমাদের ২য় আপডেট এবং অবস্থা ঠিক আগের মতই আছে। বরং গন্ধের তীব্রতা বেড়েছে। আমাদের অফিস চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় অবস্থিত এবং এখানে বাতাসে গ্যাসের তীব্রতাও অনেক বেশী। বিশেষজ্ঞরা অনুরোধ করেছেন উচু বিল্ডিং-এ যারা আছেন তারা যেন নীচে নেমে আসে – এই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এই অ্যামোনিয়া গ্যাস যদি শ্বাস-নালীতে ঢুকে পড়ে তাহলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ জনের ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকার খবর খুব বেশী বলা যাচ্ছেনা এখান থেকে কিন্তু এই হালিশহর এবং আগ্রাবাদ এলাকা একেবারে জনশূন্য হয়ে আছে। সবাই ঘরের ভেতর অবস্থান নিয়েছে। এমনকি ঘরের ভেতরেও এই গ্যাসের তীব্র গন্ধে অনেকেই শ্বাস নিতে পারছে না ঠিক মত।

কারখানায় গ্যাস লিকেজ এখনও নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করছে – বিভিন টিভি চ্যানেলে এমনই বলছে। কিন্তু বাস্তবিক কোন নির্দেশনা এখন পর্যন্ত জনসাধারনের কাছ থেকে আসেনি। এই মুহুর্তে যেসব এলাকা এই গ্যাস বিস্ফোরনে আক্রান্ত সেসব এলাকার মানুষের কি করনীয় এটা নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারী পর্যায়ে কোন নির্দেশনা আসেনি। শুধু মাত্র বলা হচ্ছে নাকে কাপড় জড়িয়ে রাখতে, বেশি করে পানি খেতে, শ্বাস কস্ট হলে সাথে সাথে হাসপাতালে যেতে এবং উচু দালানে যারা থাকেন তাদের নীচে নেমে আসার পরামর্শ দিতে।

এই গ্যাস দাহ্য, সে কারনে কোন কোন অবস্থাতেই যেন কোন ধরনের আগুন জালানো না হয় এমন কিছু নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কারন যেকোন মুহুর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাতাসে এই গ্যাসের প্রভাব ঠিক কিভাবে কমানো হবে এটা নিয়েও পরিস্কার কোন কিছু এখন পর্যন্ত বলেনি। এমনকি কোন এলাকাতেও কোন এলার্ট এখন পর্যন্ত জারি করা হয়নি। এটি একটি সিরিয়াস ক্রাইসিস কিন্তু সে তুলনায় খুব একটা কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।

ব্যাপারটা মনে হয় একটু সিরিয়াসলি নেয়া উচিত। যখন আমি এই লেখা পোস্ট করছি, ঠিক সেসময়ও অফিসের ভেতর তীব্র গন্ধ এবং বাইরের বাতাস আরো খারাপ হবার কারনে সব ধরনের এয়ার কন্ডিশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

*** আপডেটঃ

আক্রান্ত এলাকার শিশু ও বৃদ্ধদের এলাকা ত্যাগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আতঙ্কিত না হয়ে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে বলা হয়েছে।
কোন রকম আগুন না জালানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
যদি শ্বাস কস্ট হয় সাথে সাথে হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য