ধোয়া তুলসী পাতা তাহমিদকে কারাগারে প্রেরণ…


তাহমিদ হাসিব খান বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত/সমালোচিত নাম। সে দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের সন্তান। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার একদিন আগেই সে কানাডা থেকে দেশে ফিরে আসে। সংবাদ মাধ্যম হতে জানা যায় সে ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর ফুলটাইম স্টুডেন্ট। গুলশান হামলার পরের দিন সে জিম্মিদের সাথে বের হয়ে আসার ভান করে, স্বাভাবিকভাবেই সকলে ধরে নেয় তাকে হয়ত জঙ্গিরা অন্যদের সাথে ছেড়ে দিয়েছে! পরবর্তীতে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি চিত্র পাল্টে দেয় গোটা দৃশ্যপট… তদন্তে আসে নতুন মোড়। কোরিয়ান দম্পতির ধারণ করা সেই ছবিগুলোতে দেখা যায় তাহমিদ অস্ত্র ধরাবস্থায় জঙ্গি রোহান ও আরেক সন্ধেহভাজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক(সাবেক) হাসনাতের সাথে পরামর্শে লিপ্ত। তৎক্ষণাৎ দেশ ব্যাপি শুরু হয় তাকে নিয়ে গুঞ্জন, কিংকর্তব্যবিমূর হয়ে পরেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যাক্তিরা। গুলশান অ্যাটাক এর ঘটনা পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্দেহভাজনদের তালিকায় তাহমিদকে না রাখলেও ফাঁস হওয়া ছবিগুলোতে তার সম্পৃক্ততা বেশ রহস্যের জন্ম দেয়, তদন্ত মোড় নেয় নতুন আঙ্গিকে। শুরুতে তাকে ৫৪ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পর পর দুইবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা ও তদন্ত কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে বিশদ অনুসন্ধানের জন্য তাকে আদালতে তোলা হলে আজ শনিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম যুক্তি তর্ক শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে। তাহমিদের পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলেও আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে রাষ্ট্র পক্ষ বা পুলিশ আদালতের কাছে এবার আর কোনও রিমান্ড আবেদন করেনি।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। তার আগে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। দেশে-বিদেশে এতে দেশের ভাবমূর্তি বেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। যার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এম্বাসি দেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করে এবং সরকারের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। গুলশান হামলায় সরকার যথেষ্ট দৈর্যের পরিচয় দেয়, প্রতিটি পদক্ষেপই নিভীর পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমে চেষ্টা করা হয় ক্যাজুয়ালিটি না করে (প্রশাসনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে) জিম্মি উদ্ধারের। সারারাতব্যাপী জঙ্গিদের সাথে সমঝোতা/আলোচনার চেষ্টা ব্যার্থ হওয়ার পর সরকার তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। কোনরুপ রিস্ক না নিয়েই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ভোরে কমান্ডো অভিযান পরিচালনা করা হয়, এতে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন। কিন্তু আশ্চর্য হলেও দিনের আলোর মত সত্য যে অনেকের ধোয়া তুলসী পাতা দাবী করা তাহমিদের সম্পৃক্ততা ছিল সেই মিশনে। বিষয়টি শুরুতে কাকতালীয় মনে হলেও বাস্তবে সেদিন ওই রেস্তোরাঁতে যায় এডভান্স ইনফরমার হিসেবে অন্তত ঘটনাবলী ও অন্যান্য উপাত্ত তাই প্রমাণ করে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন, আশা করা হচ্ছে আরো অপ্রকাশিত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। অপেক্ষায় থাকুন সত্যের জয় হবেই, অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার অপেক্ষায় গোটা জাতি।

এনিয়ে আমাদের কিছু ভিডিও আছে, আরো সামনে আসছে। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য
Previous অযথাই অলিম্পকে বাংলাদেশ!
Next চা বাগানের দেশে