বেগম জিয়ার জন্মদিন রহস্য
August 16, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

বেগম জিয়ার জন্মদিন রহস্য

আজ কতগুলো বছর হয়ে গেল, বেগম জিয়ার জন্মদিন পুরো বাংলাদেশীদের কাছে একটা “সাংঘাতিক” রহস্য হয়েই রয়ে গেল। বাংলাদেশে আর কোন মানুষের জন্মদিন নিয়ে এত রহস্য কোনদিন ছিল না। আসলে, পুরো পৃথিবীতে আছে কিনা সন্দেহ। কিন্তু আমাদের বেগম জিয়ার এই জন্মদিন রহস্য যেন প্রতিবছর এই সময়টাতে আরো ঘনীভূত হয়।

মাঝে মাঝে চিন্তা করি, কোন দুনিয়ায় আছি। পরে ভাব, নাহ, বাংলাদেশেই আছি। এখানে এধরনের রহস্য সম্ভব! ম্যাডাম জিয়া তো জন্মদিন পালনের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস একজন ব্যাক্তি। তিনি এক সময়ের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অনেক বড় মাপের মানুষ অবশ্যই। উনার জন্মদিন তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ন। সাধারন মানুষের মত কি আর পাউরুটি কেটে জন্মদিন পালন করবে?

কিন্তু এবার তিনি তার “জন্মদিন” পালন করলেন না দেশের দুরবস্থার কথা ভেবে। আহা, কত বড় মনের মানুষ। মাঝে মাঝেই অনলাইনে, ফেসবুকে, নানা পত্রিকায়, ওয়েবসাইটে উনার পাসপোর্টের কপি চোখে পড়ে, মাঝে মাঝে জন্মসনদও চোখে পড়ে! এক এক জায়গায় এক এক ধরনের তারিখ। কি আক আজীব রহস্য! একটা মানুষ কিভাবে এতগুলো দিনে বার বার জন্ম নিয়েছেন। এতো পুরাই মিরাকল। শুধু মিরাকল বললেও মনে হয় ভুল হবে।

জাতির জনকের মৃত্যুর দিনেও উনার জন্মদিন। সাধারনত অনেক ঘটা করে পালন করেন সবসময়। বঙ্গবন্ধু যে দেশটা আমাদের এনে দিয়েছিলেন ৭১ এ, বাংলার মানুষকে নিয়ে, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন ম্যাডাম জিয়া। আর উনার মৃত্যুদিবসই হলো ম্যাডাম জিয়ার জন্মদিনের কেক কাটার দিন। বেছে বেছে ঐ দিনটাই বা কেন? বুঝলাম, রাজনৈতিক বিভক্তি বা দন্ধ। তবে সেটা যাই হোক না কেন, জাতির জনকের উপর একটু সম্মান দেখানো কি উচিত ছিল না? দেখানো কি যেত না? দেখালে কি তিনি খুব বেশী ছোট হয়ে যেতেন? মনে হয় না! বরং মানুষ সম্মান করত আরো বেশি সে কারনে। কিন্তু, না, তিনি তার কথিত জন্মদিন পালন করেন – কারন তিনি পারেন। তিনিও মানুষ, তারও সেই কথিত জন্মদিন পালন করার অধিকার আছে। এটা তার নাগরিক অধিকার।

বাংলাদেশের মানুষ তো বোকা না। ম্যাডাম জিয়া হয়তো মজা নেন জন্মদিনের কেক কেটে, কিন্তু, একবারও কি ভেবে দেখেছেন, দেশের বড় একটা অংশ কখনও আপনাকে সম্মান করতে শিখেনি? হোক না অন্য দলের বা আদর্শের। কিন্তু মানুষে মানুষে একটা সম্মান থাকে অনেক সময়। সেটাও হয়তো আপনি হারিয়েছেন কোন না কোনভাবে। এখন তো আপনার অনেক বয়স হয়েছে তাই না! আগের মত নেই অনেক কিছুই। এর মাঝে কখনও কি মনে হয়েছে পুরো জম্মদিনের ব্যাপারটা একটা বড় ভুল ছিল? কোন ধরনের অনুশোচনা কাজ করে কি?

হয়তো করে না। তবে করলে খুব ক্ষতি হবে না। মানুষই তো আমরা। সেদিন আমার ১০ বছরের কাজিনও বলছিল “খালেদা জিয়ার বার্থ-ডে ভুয়া”। এ কেমন কথা। একটা মানুষ যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন একটা দেশের, তাকে নিয়ে এমন তামাশা করে কথা বলবে কেন? হোন না আপনি বিএনপি বা জামাত। তাতে কি? মানুষ তো? বাংলাদেশী তো! এর জন্য কে দায়ী বলতে পারবেন? মজার ছলে, বৈরিতার সুযোগে আপনি হয়তো বঙ্গবন্ধু হত্যার দিনটিকে বেছে নিয়েছেন নিজের একটু অন্যরকম একটা শখে। কিন্তু কোনদিন কি ভেবে দেখেছেন, আপনার সেই শখের জন্মদিনটি আজ সবাই কি চোখে দেখে? আগে হলে বলতাম, হয়তো মিডিয়া এটেনশন পাবার জন্য! কিন্তু এখন, এতো মিডিয়া ট্রোল! আর কিছুই না! আপনিও মজা নেন আর মানুষও আপনার কান্ডে মজা নেই। কিন্তু সম্মানভরে বলে না। আসলে মন থেকে আসে না। কেন জানি! আপনার সাথে তো সাধারন মানুষের কোন লেনদেন নেই, কোন বিরোধ নেই, আমার সাথেও নেই, আমার ১০ বছরের কাজিনেরও সাথেও নেই। তবুও কেন এমন মনোভাব? কখনও জিজ্ঞেস করেছেন কি?

সময় আর কত আছে জানিনা, আর কত জন্মদিন এভাবে আসবে যাবে সেটাও জানিনা, তবে আজকের এই দিনে আপনার জন্মদিনের চাইতে বেশী মানুষ বেশী শ্রদ্ধা করবে জাতির জনককে। আজকের এই দিনে ঘৃনা করবে সেসব খুনীদের। আর আজকের এই দিনে আরো একটা কাজ মানুষ করবে সবসময় – সেটি হলো – আপনার জন্মদিন নিয়ে ট্রোল করা, মজা করা – শ্রদ্ধা না।

ভাল থাকুন, শুভ জন্মদিন!

আপনার মন্তব্য