আইএস মরে গেছে

7275
SHARE

অদ্ভুত এক জাতি আমরা। আসলেই অনেক অদ্ভুত। এই অদ্ভুত শব্দটা এখানে পজিটিভলি বলা হচ্ছে। গুলশানে নারকীয় আইএস হামলার প্রায় ১ মাসের বেশী হয়ে গেল। ঘা এখনও দগদগে। হামলার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশীদের ভয় লাগানো – আইএস নামক সন্ত্রাসীর ভয়। দেশের কয়েকজন ছাগল জাতীয় তরুনদের উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার করার মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করার উপায়টি সব ভাবে ফ্লপ মেরেছে বাংলাদেশে। সব ধরনের সমীকরন উল্টো পালটা হয়ে গেছে আইএস নামক কথিত এই জংগী গোষ্ঠী। আর সরকারের একের পর এক অভিযান, যে এখনও ঠিক মত শুরুই হয়নি, তাতেই আইএস কোমর ভেঙ্গে গেছে। এখন শুধু পুলিশ না, সারা দেশের মানুষ হন্য হয়ে খুজছে এসব কাপুরুষদের। হাতের নাগালে পেলেই হলো – একেবারে বাংলাওয়াশ। ব্রেইনওয়াশের ভূত নামি ছাড়বে।

বাংলাদেশে আইএস মরে গেছে। সবদিক দিয়েই। আইএস এর সন্ত্রাসী বাহিনী এখন একটা কমেডি ছাড়া আর কিছু না। কারন এই বাংলাদেশীরা শুধু সত্যিকারের বীরদের ভালবাসতে জানে। বীরের নাম দিয়ে কাপুরূষদের কোনদিন গ্রহন করে নেয়নি বাঙ্গালী। জীবনে কোনদিন করবেও না। নিজেদের জীবনের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে থাকা বাংলাদেশীদের ভয় দেখানো কারো বাড়ির কাছের কথা না।

আমরা এসব কথা কিভাবে বলছি বা কোথা থেকে পেয়েছি – এটা ভাবছেন? নিজের কাছেই জিজ্ঞেস করুন। ঘৃনা ছাড়া আর কিছু আছে কিনা আইএস এর জন্য আপনার নিজের মনে। উল্টোপাল্টা ধর্মীয় বানী আর তার বিক্রয় দিয়ে আদৌ বাংলাদেশীদের কোনদিন ভুল পথে নিয়ে যাওয়া যাবেনা। অতীতে অনেক গোষ্ঠী এসব করার চেষ্টা করেছে – আর আমরা তাদের জুতো পিটা করে তাড়িয়েছি এদেশ থেকে। যদিও অযাচিত প্রশ্ন তুলার জন্য অনেক মানুষ খাড়া হয়ে থাকে। এদের কাজ হলো সবকিছুতে একটা প্রশ্ন নিয়ে আসা। এধরনের মানুষ সবজায়গায় থাকে। এদের পাত্তা না দিলেও চলে। আবার এরা না থাকলে কোন মজাই থাকে না। যেমন কল্যানপুরের হামলা নিয়ে কত গোয়েন্দা না বের হলো বাংলাদেশে – ফেসবুক গোয়েন্দা কিন্তু পরে পুলিশের দারুন এক চপোটাঘাতে সবাই চুপ। একেবারে গর্তে গিয়ে পড়েছে।

কিন্তু আইএস দমনে তথা আইএস কে পাত্তা নে দেয়া যে বাংলাদেশের একটা সফলতা – এটা নিয়ে কেউ লেখালেখি করছে না বা কোন মিডিয়া কিছু বলছেনা। কেন? আন্তর্জাতিক মিডিয়া যেভাবে অনেকটা নেগেটিভ উপায়ে গুলশান হামলার কাভারেজ দিয়েছিল, এখন কেন তারা সেই কাভারেজটা দিচ্ছে না? ব্যাপারটা বড় রহস্যময়। বাংলাদেশের সফলতায় কি খারাপ লাগে? নাকি প্রপাগান্ডাটা ঠিক মত এস্টাব্লিশ করতে না পারার দুঃখে এখনও তারা মাতম করছে? নাকি আশা করছে শীগ্রই বড় একটা হামলা হবে তখন আবার দেখে নিবে?

বিশ্ব-মিডিয়াতে বাংলাদেশকে নেগেটিভ ভাবে প্রেজেন্ট করার একটা বদভ্যাস এদের সবারই আছে। তবে আমাদের মিডিয়াকে আরো শক্ত হতে হবে এসব ব্যাপারে। বিশ্ব মিডিয়া যা খুশী করুক, কিন্তু দেশী মিডিয়াগুলোর একটা দায়িত্ব আছে মানুষকে উদবুদ্ধ করা। সেকাজটাও দেশী মিডিয়াগুলো ঠিক ভাবে করতে পারে না বরং উল্টোপাল্টা প্রশ্ন, সমালোচনা আর উক্তি ঝেড়েই তারা শেষ। অনলাইন মিডিয়ার কথা বাদই দিলাম। কোন নিউজে ক্লিক বেশী পড়বে সেটা বিচার করেই উনারা খবর লেখেন। আচ্ছা লিখুক – সবার একটা ইনকামের সোর্সের প্রয়োজন আছে। কিন্তু তার পাশাপাশি এগুলোও আনা উচিত।

আমার মতে প্রাথমিক অবস্থায় বাংলাদেশ আইএস দমনে খুব বড় সাফল্য পেয়েছে এবং এ সাফল্য পৃথিবী জুড়ে হাইলাইট করার মত। বাংলাদেশের মানুষ যে আইএস নামক কীটদের একরকম গলাটিপে মেরে ফেলেছে বা তাদের “ভীতকর” ব্র্যান্ডিং এর যে ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে সেটা আসলেই হাইলাইট করা উচিত। জিজ্ঞেস করে দেখুন কোন বাংলাদেশীকে, তারা আইএস নিয়ে ভয় পায় কিনা বা আতংকিত কিন? উত্তর বেশীরভাগ একরকম পাবেন – হয় তারা ঘৃনা করে অথবা বলবে “হাতে কাছে একটারে পাই আগে, এরপর পিটিয়ে ভর্তা বানাবো”। বাংলাদেশীরা শান্তিপ্রিয় কিন্তু অসম সাহসী। সাহসের প্যারামিটারে যেকোন জাতির কাছ থেকে এগিয়ে। আমাদের হারানোর কিছু আছে কি না আমরা জানিনা, কিন্তু যখন আমাদের গায়ের উপরে কিছু এসে পড়ে তখন কি হারাবো সেটা আমাদের মাথায় আর থাকে না। তখন আমরা এর হিসাব নিকাশ করি। আইএস এর বেলায়ও তাই হয়েছে, পরেও হবে।

আর তাই, আজ, বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সমস্ত নাগরিককে একটা “বাংলাদেশীজম স্যালুট”। – You Are The Best.

আপনার মন্তব্য