পাহাড় থেকে পাহাড়ে – চট্টগ্রাম!!!

12862
SHARE

অনেকেই মনে করেন আমাদের চট্রগ্রাম শহরে ঘুরে দেখার তেমন কোন জায়গা  নেই।  কথাটি ভুল! আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব আমাদের চট্রগ্রাম নগরীর পাহাড় ঘেরা পর্যটন এলাকা গুলো সঙ্গে। আশা করি ভালোই লাগবে আপনাদের।

সি আর বিঃ চট্রগ্রামের টাইগারপাস হতে ডানে নিউমার্কেট যাওয়ার রাস্তার ডান দিকে সি আর বি এর অবস্থান। প্রকৃতি যেন ঢেলে সাজিয়েছে এই সি আর বি কে। এখানকার প্রায় সব গাছগুলোই শতবর্ষী। এখানে প্রচুর মানুষ ঘুরতে এবং নিরিবিলি সময় কাটাতে আসে। প্রাত্যহিক ব্যায়াম করার জন্য এ স্থানটি খুবই জনপ্রিয়। এখানে রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক এর কার্যালয় অবস্থিত। এছাড়াও রয়েছে সাত রাস্তার মোর, যেখানে সাতটি রাস্তা এসে মিলেছে। একে সাত রাস্তার মোর বলা হয়।  বর্তমানে এখানেও পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা হয়।

বাটালী হিলঃ বাটালী হিলের অবস্থান চট্টগ্রামের প্রায় মূল কেন্দ্রে।চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উচু পাহাড় বাটালী হিল। উচ্চতা প্রায় ২৮০ ফুট। হয়তো ভাবছেন হয়তো এত উপড়ে উঠতে কষ্ট হবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই, পাহাড়ে উঠার যাদের নূন্যতম অভিজ্ঞতা নেই তারা অনায়াসে বাটালী হিলে উঠতে পারবেন। চট্রগ্রামের টাইগারপাস হতে লালখান বাজার যাওয়ার পথে লালখান বাজার এর কিছুটা কাছেই হাতের বামে বাটালী হিলে উঠার রাস্তাটি উঠে গেছে। পাহাড়ে উঠার রাস্তাটি জিলাপির প্যাঁচের মত আঁকা-বাঁকা হওয়ার কারণে এ পাহাড়টি জিলাপি পাহাড় নামেও পরিচিত। বাটালী হীলের সর্বোচ্চ চূড়াটিকে বলা হয়- শতায়ু অঙ্গন। পুরো চট্টগ্রাম শহর দেখা যায় এই  বাটালী হিলের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠলে। বাটালী হিল বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত বিভাগের নিজস্ব সম্পত্তি। উক্ত পাহাড়ের বিভিন্ন চূড়ায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিস ও বেশ কয়েকটি বাংলো রয়েছে।

ডিসি হিলঃ চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান ডিসি হিল। এই পাহাড়টির শীর্ষে চট্টগ্রামের জেলা কমিশনার (ডিসি) এর সরকারী বাসভবন অবস্থিত। শহরের প্রায় কেন্দ্রে পাহাড়ের পাদ-দেশে সুদৃশ্যমান সারি সারি অসংখ্য সবুজগাছ-গাছালী দ্বারা পরিপূর্ণ, কেউ উপেক্ষা করতে পারবে বলে মনে হয় না। এ মনোরমায় আপন-মন হয়ে উঠে কাব্যময়। চারদিক বিভিন্ন ফুলের নার্সারি বেষ্টিত স্থানটার জনপ্রিয়তা সর্বস্থরের মানুষের কাছে দিন দিন বাড়ছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম চট্টগ্রামে ১৯২৬, ১৯২৯, ১৯৩২ সালে মোট ৩ বার চট্রগ্রামে আসেন। তখন ডিসি হিলের  যেখানটায় বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছেন শ্বেই স্থানে এক স্মৃতি ফলক বিদ্যমান। সাদা-শুভ্র মার্বেল পাথরের টেবলেটে লেখা : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চরণ চিহ্ন’, নজরুল স্কোয়ার, চট্টগ্রাম । তখন থেকেই মূলত ডি . সি . হিল প্রাঙ্গন ‘নজরুল স্কোয়ার’ নামে পরিচিতি পেতে থাকে। ডিসি হিল পাহাড়টির অপর পাশেই চট্রগ্রামের নন্দনকানন  বৌদ্ধ মন্দির অবস্থিত। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে বিভিন্ন সংগঠন নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।  ১৯৭০ এর দশকের শেষভাগ থেকেই পালিত হয়ে আসছে। এখানে বসে লেবু চা খাওয়ার মজাই আলাদা।

চেরাগী পাহাড়ঃ চেরাগী পাহাড়ে জাতীয় পত্রিকা, টিভি চ্যানেল, রেডিও চ্যানেল, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমের অনেক অফিস রয়েছে। তাই  চেরাগী পাহাড় পত্রিকাপাড়া নামেও পরিচিত। এছাড়া রয়েছে স্থানীয় পত্রিকার অফিসও। চট্টগ্রামের সর্বাধিক বিক্রিত এবং প্রাচীন পত্রিকা প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর অফিস চেরাগী পাহাড়েই অবস্থিত। ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আরব দেশ হতে সুফি সাধক হযরত বদর আউলিয়া (র.) চট্টগ্রামে আসেন এবং একটি অলৌকিক মাটির চেরাগ এই পাহাড়েই রাখেন জ্বীন-পরীদের তাড়িয়ে মানুষদের বসবাসযোগ্য করার জন্য। এভাবেই চেরাগ রাখার পাহাড় চেরাগী পাহাড় নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতীকী অর্থে এখান  থেকে চেরাগ জ্বালিয়ে আলোকিত করেছিল চট্টগ্রাম এবং সেই থেকে আজ অবধি চট্টগ্রাম আলোকিত হয়ে উঠছে ক্রমাগত।

ভাটিয়ারীঃ চট্রগ্রাম সিটি গেইটের পর থেকেই ভাটিয়ারীর অবস্থান। বিশাল লেক আর পাহাড় নিয়ে এই জায়গাটি গঠিত। এখানে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী অবস্থিত। বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট গড়ে উঠেছে এই পাহাড় আর জলরাশি ঘিরে। প্রচুর মানুষ ভীর করেন ছুটির দিনগুলোতে। তাছাড়া আকা – বাঁকা ও উঁচু – নিচু  সাইকেলিস্টদের কাছেও এই  জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।

    

 

 

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ঃ চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুণ্ডের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পর্যটন কেন্দ্র । এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র গরম পানির ঝরনা। তাছাড়া ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনও রয়েছে সীতাকুণ্ডে। এই চন্দ্রনাথ পাহাড় সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পূর্ব দিকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সীতাকুণ্ড কাঁচাবাজার থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরত্বে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২০০ ফুট উঁচু কাঁচা মাটির পথ পেরিয়ে মন্দিরে যেতে হয়। চন্দ্রনাথ পাহাড়-চূড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে খ্যাত। সীতাকুণ্ডের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে।  কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ভাস্কর্যের দেখা মিলবে সীতাকুণ্ডের প্রবেশদ্বার পেরুলেই। সীতাকুণ্ডে সারা বছরই মেঘে ছেয়ে থাকে। সীতাকুণ্ডের পাশেই সমুদ্র আর সারা আকাশ জুড়েই মেঘের আনাগোনা। বর্ষার সময় তো আরও বেশি। চারদিকে চিরহরিৎ সবুজের সমারোহ, ছোট-বড় পাহাড়-টিলা।

আশা করছি উপড়ের তথ্য গুলো আপনাদের চট্রগ্রাম সম্পর্কে জানতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। আজ তাহলে এ  পর্যন্তই। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

 

আপনার মন্তব্য