রাঙ্গামাটির দেশে যা…..

5689
SHARE

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অভয়ারণ্য বাংলাদেশ। আর এই প্রাকৃতির নানান রূপ একসাথে দেখতে পাবেন চট্রগ্রামের তিনটি পার্বত্য জেলায়। রাঙ্গামাটি এই তিনটি পার্বত্য জেলার একটি। আসুন আজ যেনে নেই পার্বত্য রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকা গুলোর সম্পর্কে।

ঝুলন্ত ব্রিজঃ রাঙ্গামাটির সবচেয়ে পরিচিত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাটি হচ্ছে ঝুলন্ত ব্রিজ। প্রতিবছর অনেক মানুষ আসেন এ ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে। এখানে ঝুলন্ত ব্রিজ ছাড়াও আপনি বোট কিংবা সাম্পান ভারা করে ঘুরে আসতে পারেন ঝুলন্ত ব্রিজ এর চারপাশে অবস্থিত কাপ্তাই লেকের অংশবিশেষ হতে।

উপজাতীয় জাদুঘরঃ রাঙ্গামাটিতে প্রবেশের আগে ভেদভেদী অবস্থিত। এই ভেদভেদীতেই  উপজাতীয় জাদুঘরটি রয়েছে। এখানে রয়েছে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত নানান আদিবাসীদের ব্যবহূত বিভিন্ন সময়ের নানা সরঞ্জামাদি, পোশাক, জীবনাচরণ এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য। শনি, রবি ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে সমৃদ্ধ এ জাদুঘরটি খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

রাজবন বিহার:  বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান এই রাজবন বিহার। এখানে রয়েছে কারুকার্যময় বেশ কয়েকটি মন্দির সহ বিশাল প্রাত্থনা হল। তাছাড়া কাপ্তাই লেকের পাশে অবস্থিত হওয়াতে এখান থেকে কাপ্তাই লেকের নয়মাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

চাকমা রাজবাড়িঃ কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপজুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার রাজবাড়ি যা রাজবনবিহারের পাশেই অবস্থিত । রাজবন বিহারের ঘাট থেকেই নৌকায় পার হয়ে খুব সহজেই যাওয়া যায় এই রাজবাড়িতে। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে গাছের ছায়ায় ইট বাঁধানো পথের মাথায় এ সুন্দর বাড়িটি। যদিও এই রাজবাড়িটি বেশ কিছুদিন আগে এক অগ্নিকান্ডে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।  এখানে আরও রয়েছে চাকমা সার্কেলের প্রশাসনিক দপ্তর। এই দপ্তরের সামনেই চাকমাদের তৈরি নানান ধরনের কুটির শিল্প সহ হস্তশিল্পের তৈরি কাপড় ও দ্রব্যাদি পাওয়া যায়।

রিজার্ভ বাজারঃ রাঙ্গামাটির সবচেয়ে ব্যস্ততম  জায়গা গুলোর মধ্যে রিজার্ভ বাজার অন্যতম। রিজার্ভ বাজার থেকেই রাঙ্গামাটির বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার লঞ্চ ছাড়ে।

শুভলং ঝরনাঃ রাঙ্গামাটির সবচেয়ে সুন্দর স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম শুভলং ঝরনা। শুভলং ঝরনায় যেতে হলে রাঙ্গামাটি শহর থেকে প্রায় ২.৩০  ঘণ্টা বোটে করে কাপ্তাই লেক দিয়ে যেতে হবে। প্রকৃতির অসাধারণ সৃষ্টি এই  শুভলং ঝরনা। এটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে বর্ষার সময় বা বর্ষার পর পরই। কারণ এই সময়েই ঝরনায় অধিক পরিমাণ পানি থাকে।

 

 

টুকটুক ইকো ভিলেজ কিংবা পেদা টিংটিংয়ঃ  শুভলং ঝরনা হতে ফেরার পথে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন টুকটুক ইকো ভিলেজ কিংবা পেদা টিংটিংয়ে। পেদা টিং টিং একটা চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। টুকটুক ইকো ভিলেজ পরবে প্রথমে। আপনি চাইলে রাতও কাটাতে পারেন কাপ্তাই লেকের একেবারে মাঝে এই ইকো ভিলেজটির সুন্দর সুন্দর কটেজে। বিভিন্ন রকম পাহাড়ি মেন্যু পাবেন এর রেস্তোরাঁটিতে।

কাসালংঃ  রাঙ্গামাটির কাসালং এ নানা শ্রেণীর উপজাতি – মুরং, বম, পাংখো, খেয়াং, বনযোগী প্রভৃতি উপজাতির বাসস্থান। আপনি যদি চান তাঁদের জীবন ধারার সাথে পরিচিত হতে, তবে ঘুরেই আসতে পারেন কাসালং হতে।

আসামবন্তি ব্রিজঃ এটি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত একটি দীর্ঘ ব্রিজ। কাপ্তাই লেকের উপর অবস্থিত এই আসামবন্তি ব্রিজে দাঁড়িয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেশ ভালোই লাগে। অনেক মানুষ ভীর করেন বিকেল বেলা এই আসামবন্তি ব্রিজে একটু প্রশান্তির খোঁজে। অনেকেই হয়তো এই স্থানটি সম্পর্কে জানেন নাহ। চাইলে একবার ঘুরে আসতে পারেন আসামবন্তি ব্রিজ থেকে।

এছাড়া আপনি আরও ঘুরে আশতে পারেন-  বালুখালী, ফুরোমোন ডিসি বাংলো, জল বিদুৎ প্রকল্প ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতিসৌধ, বরকল উপজেলা ও  সাজেক উপত্যকা।

 

 

রাঙ্গামাটি ঘুরে  আশতে পারেন মাত্র ২-৩ দিনের মাঝেই। তেমন খরচও হবে নাহ আপনার রাঙ্গামাটি ঘুরতে। আজ তবে এই পর্যন্তই। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

আপনার মন্তব্য