গুলশান হামলা ঘটনায় নতুন মোড় | তাহমিদ – হাসনাত রহস্য উন্মোচন ?

103360
SHARE

গত ৫ই আগস্ট ২০১৬  GUERNICA  নামের একটি শিল্প ও রাজনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিনে ”  Behind the Hostage Detention of Bangladeshi Tahmid Hasib Khan” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ! প্রতিবেদনটির লেখক আনিতা খান ।

কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত গুলশান হামলার নতুন ২টি ছবি আনিতা খানের এই প্রতিবেদনের কিছু বিষয়কে প্রশ্ন বিদ্ধ করে তুলছে !

আনিতা খান নিউইয়র্ক ভিত্তিক একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ! গ্লোবাল জাস্টিজ ইস্যু গুলো নিয়ে তিনি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন ! বোঝাই যাচ্ছে অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ! গত চার সপ্তাহ ধরে তিনি  গুলশান হামলা ও জিম্মি দশা থেকে বেঁচে ফেরা সবার সাথে কথা বলে ও তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরী করেন ! তাহমিদ জঙ্গিদের সাথে সম্পৃক্ত নয় এটা তিনি বিভিন্ন ভাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন ! Very good !

বলে নিতে চাই যে তাহমিদের সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই ! বরং তাহমিদ নির্দোষ প্রমাণিত হলে আমারা এই ভেবে স্বস্তি পেতাম যে আমাদের তরুণরা একেবারে Null headed নয় !

শোনা যায় তাহমিদের সাথে সেদিন তার ২ জন বান্ধবীও সেখানে ছিলেন ! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদেরই একজন  আনিতা খানকে জানান যে, হামলার শুরুতে তারা জঙ্গিদের কাছে জীবন ভিক্ষা চাইলে জঙ্গিদের একজন বলে ” Don’t worry, we are not here to kill Bangladeshis. ”

বিদেশিদের হত্যার পর জঙ্গিরা বাকিদের ভেতরে নিয়ে আসে অস্ত্রের মুখে ! সেখানে তারা এক পর্যায়ে তাহমিদের হাতে পিস্তল তুলে দেয় ! তাহমিদ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে তারা তাকে দেখায় যে পিস্তলে কোন গুলি নেই !!! ভরের দিকে জঙ্গি রহান ইমতিয়াজ হাসনাত করিমকে ছাদে নিয়ে যায় !  সে সময় রহান তাহমিদকেও  তার সহযোগী সাজিয়ে ছাদে নিয়ে যায় !

1-01

মুক্ত হবার পর উপরে কি হয়েছিল জানতে চাইলে তাহমীদ তার ঐ বন্ধুকে বলেছিল যে , জঙ্গিরা তাকে দিয়ে একটা খালি অস্ত্র হাসনাত করিমের দিকে তাক করিয়ে রেখেছিল ! যাতে স্নাইপাররা দেখতে পারে যে তাদের হাতে এখনও কিছু জিম্মি রয়েছে !

এই পর্যন্ত পুরো প্রতিবেদনটা বেশ Convincing!

কিন্তু সমস্যা হল সদ্য প্রকাশিত ছবি গুলো !  তাহমীদের ঐ বক্তব্যের ঠিক উল্টো যেন ! তাহমীদ যেন বিনয়ী শিষ্য!

2-01-01-01

তাছাড়া, আনিতা খানের প্রতিবেদনের কয়েকটি অংশ এরকমঃ   

From a two-hour interview with this hostage, it seems the attackers had expected to face an early raid and were not prepared for a lengthy stand-off with police. After they had separated and killed the foreign hostages they were unsure what to do with those they spared.”

“Evidently the attackers were ready to die themselves, but became restless in the morning waiting for the authorities. “The gunmen just wanted to fight the police. Tahmid explained to the gunmen that the police wouldn’t come inside, as long as they knew the gunmen had hostages. The terrorists did not think they would have hostages. You could tell by the fact that they didn’t seem to know what to do with us.”

বোঝা যাচ্ছে যে,  আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এত দেরিতে আক্রমণ করবে এটা জঙ্গিরা আশা করেনি ! তাছাড়া জিম্মিদের নিয়ে কি করবে সেটাও তারা ভেবে পাচ্ছিলনা ! কারণ তারা কাউকে জিম্মি করার পরিকল্পনা করেনি ! জিম্মিদের নিয়ে কি করবে তারা তাও ভেবে পাচ্ছিলনা ! তাছাড়া তারা আশা করেছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী খুব দ্রুত তাদের আক্রমণ করবে ! তাহলে কেন স্নাইপারদের দেখানোর জন্য রোহান হাসনাত করিমকে তাহমিদ সহ ছাদে নিয়ে গেল ! কে তাদের এই পরামর্শ দিল ?! আর অবশেষে কিনা, লাশের স্তূপে দাঁড়িয়ে ভীত সন্ত্রস্ত তাহমীদই তাদের পরামর্শ দিল যে বন্দি মুক্তির আগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আক্রমণ করবেনা ! তাই অবশেষে তারা বন্দীদের মুক্তি দিল !

কিন্তু ছাদে হাসনাত করিমের দিকে অস্ত্র তাক করা অবস্থায় স্নাইপাররা নিশ্চয়ই তাহমিদকেও দেখেছে ?!

প্রশ্ন এসে যায় অনেক !! আগেই বলেছি সদ্য প্রকাশিত ছবি ২টি দেখার আগে পর্যন্ত আনিতা খানের প্রতিবেদনটি বেশ মনপুত হয়েছিল ! কিন্তু এখন খোদ তাহমিদের বক্তব্য তার ছবির ঠিক উল্টো !!!

তাছাড়া সম্প্রতি আমাদের পুলিশ আর গোয়েন্দা বিভাগ বেশ কিছু বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে ! নিশ্চয়ই তাদের হাতে এ বিষয়ে আরও অনেক তথ্য প্রমাণ ইতিমধ্যে চলে এসেছে ! আশা করছি তারা আমাদের সঠিক পথ দেখাবেন !  

4

শুধু আনিতা  খান বা GUERNICA  নয় , হাসনাত করিম আর তাহমিদের জন্য উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করে আসছে ! যার মধ্যে আছে The New York Times , The Telegraph এর মত সংবাদ মাধ্যম গুলোও ! এছাড়া তাদের মুক্তির জন্য চালানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  সহ নানা রকম প্রচারণা ! ISIS এর মত জঙ্গি সংগঠনের জন্য তাহমিদ আর হাসনাত করিমের মত টেলেন্টরা অনেক বড়  সম্পদ ! তাই তাদের মুক্তির জন্য ISIS এর পৃষ্ঠপোষকরা তো সক্রিয় হবেই !!! আফসোস শুধু এই যে  এরা দেশের জন্য অনেক বড়  সম্পদ হতে পারত ; কিন্তু আজ তারা ISIS এর মত জঙ্গি সংগঠনের সম্পদ !!   

শোনা যায় তাহমিদের মুক্তির জন্য মির কাশেম আলির পুত্র মির আহমেদ বিনকাশেম বেশ সক্রিয়( নিচের ছবিতে … )  !

3-01

আপনার মন্তব্য