বাংলাদেশের সেরা দশটি জলপ্রপাত!!!!!

16591
SHARE

হ্যালো… বন্ধুরা! কেমন আছেন আপনারা ? বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরতে এসে , আজ হাজির হয়েছি বাংলাদেশের সেরা ১০ টি ঝর্না / জলপ্রপাত নিয়ে। চলুন তাহলে ঘুরে আসি এই ১০ টি  ঝর্না / জলপ্রপাত থেকে।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

১. শুভলং ঝরনা: পার্বত্য রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে জলপথে প্রায় ৮ কিলোমিটার যেতে হবে শুভলং ঝরনায় পৌছাতে। রাঙ্গামাটির অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থান গুলর মধ্যে এটি একটি। প্রকৃতির অসাধারণ সৃষ্টি এই  শুভলং ঝরনা। এটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে বর্ষার সময় বা বর্ষার পর পরই। কারণ এই সময়েই ঝরনায় অধিক পরিমাণ পানি থাকে।  

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

২. হামহাম ঝরনা: এই ঝর্নাটি সম্পর্কে যা বলবো তাই হয়ত কম হয়ে যাবে। ঝরনার পানি প্রবাহ খুব বেশি আর এই ঝরনার পানি আয়নার মতো স্বচ্ছ। এখানে উরন্ত মেঘ গুলো কুয়াশার মত সৃষ্টি করে। শীতল বাতাশে আপনার শরীর শির শির করে উঠবে।মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কাছাকাছি উচ্চতায় এই ঝরনাটি ।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৩. জাদিপাই জলপ্রপাত: বান্দরবানের কেওক্রাডংয়ের পরে অবস্থিত পাসিং পাড়াকেই দেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম হিসেবে ধরা হয়। যা প্রায়  ৩২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। পাহাড়ের এত উঁচুতে বাংলাদেশের আর কোনো স্থানে জনবসতি নেই। পাসিং পাড়া পাড় হয়ে নিচের দিকে নামলেই জাদিপাইপাড়া। এই জাদিপাইপাড়া থেকে ঘণ্টাখানেক নিচের দিকে নামলেই জাদিপাই জলপ্রপাত এর অবস্থান। এই ঝর্নার পানির ধারার নিচে একটি পুকুরের মত সৃষ্টি করেছে। সারা রাস্তার ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যাবে এই ঝর্নার নিরমল পানির স্পর্শে।

ফটো ক্রেডিট ঃ ফারায

৪. খইয়াছড়া ঝরনা: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এই ঝরনাটির অবস্থিত।মূলত বর্ষাকালেই এই ঝরনাটি খরস্রোতা হয় আর সারাবছর অল্প ধারায় প্রবাহিত হতে থাকে ।পায়ে হেটে বেশ কিছু পাহারের চরাই উতরাই পাড় হয়ে এই ঝরনার নিচে পৌঁছান যায়। আপনি চাইলে এই ঝরনার উপরের দিকের থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৫. ফাইপি জলপ্রপাত: ফাইপি জলপ্রপাতটিও বান্দরবানেই অবস্থিত। অপরূপ এই জলপ্রপাতটি বান্দরবানের থাইকাং পাড়াতে অবস্থিত। আপনি এই জলপ্রপাতে যেতে পারেন রুমা বা থানচি থেকে।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৬. সহস্রধারা: এই ঝরনাটি উপভোগ করতে আপনাকে যেতে হবে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে। সহস্রধারা থেকে বছরজুড়েই অজস্র ধারায় পানি ঝরে। বেশ কয়েকটি জলপ্রপাত একসাথে হয়ে এই ঝর্নাটি গঠন করেছে এবং অবিরাম ধারায় ঝরছে বলেই হয়তো এই ঝর্নাটির নাম সহস্রধারা রাখা হয়েছে।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৭. নাফাখুম জলপ্রপাত:  অনেকে একে বাংলার নায়াগ্রা বলে থাকেন।রেমাক্রি থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার হাঁটা পথ পাড়ি দিতে হয় আশ্চর্য সুন্দর এই নাফাখুম জলপ্রপাত জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ।মারমা অধ্যুষিত একটি এলাকার নাম রেমাক্রি, যা বান্দরবানের থানচি উপজেলায় অবস্থিত।  এই এলাকার নামেই এখানে যে  রেমাক্রি খালটি রয়েছে।  রেমাক্রি খালের পানি কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে নাফাখুমে এসে বাঁক খেয়ে ২৫-৩০ ফুট নিচে পতিত হয়েছে। আর সৃষ্টি করেছে নাফাখুম ঝরনা।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৮. বাকলাই ঝরনা : বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার নাইটিং মৌজার বাকলাই পাড়ায় অবস্থিত চমৎকার এই ঝরনাটি। এই এলাকার নামকরণ বাকলাইপাড়া হয়েছে এই ঝরনার নামেই। এটিই সবচেয়ে পরিচিত গ্রাম কেওক্রাডং থেকে তাজিংডং যাওয়ার পথে । ঝরনায় যাওয়ার পথে ছোট
ছোট পাহাড়ি নদী যেমন রয়েছে তেমনি এই ঝর্নার অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করবে।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

৯. রাইখং জলপ্রপাত: যারা  অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এ জায়গাটি আদর্শ। দুর্গম পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তা আর খাল পার হওয়ার মতো মানসিক এবং শারীরিক শক্তি ও সামর্থ যদি আপনার থেকে থাকে তবে আপনি ঘুরে আসতে পারেন রাইখং জলপ্রপাত থেকে। এটি রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত হলেও, আপনাকে এখানে যেতে হবে বান্দরবান হয়ে।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

১০. অমিয়াখুম জলপ্রপাত : আমাদের দেশে যে এমন চোখ ধাঁধানো যায়গা রয়েছে আপনি হয়ত নাও বিশ্বাস করতে পারেন। এই জলপ্রপাত বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত। এর প্রবাহমান সচ্ছ জলে আপনার মন একবার হলেও ভাববে ঝাপ দাওয়ার কথা ।

আজকের পর্বে এই ছিল সেরা ১০ টি ঝর্না / জলপ্রপাত। আশা করি , আপনার পরবর্তী  অ্যাডভেঞ্চারের স্থানগুলোর মধ্যে এর কোন একটি থাকবে। ততদিন পর্যন্ত, ভালো থাকুন সুস্থ থাকু।

আপনার মন্তব্য