হাসনাত – তাহমিদ | ক্রমশও জটিল হয়ে উঠছে গুলশান হামলা রহস্য

নতুন করে কিছু ছবি রিলিজ হবার পর গুলশান হামলার রহস্য আরো ঘনীভূত হয়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সেই সন্দেহকে নতুন মোড় হিসেবেই দেখছে। হাসনাত করিম আর তাহমিদ খানকে নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠে আসছে। প্রথম দিক থেকে হাসনাতকে সবাই সন্দেহের লিস্ট রাখলেও তাহমিদকে ছাড়ানোর জন্য তথাকথিত অনলাইন আন্দোলন বেশ জেকে বসেছিল। ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে সেই আন্দোলনে বেশ কিছু ফলোয়ারও পেয়ে গিয়েছিল। এই মুহুর্তে সেই আন্দোলনেও ভাটা পড়েছে নতুন ছবিগুলো উঠে আসার পরে।

3-01
তাহমিদ খানকে মুক্ত করার জন্য ফেসবুক পেজ যা ফেসবুক স্পন্সরড বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়ানো হয়। বাম পাশে রাজাকার মীর কাসিমের পুত্রের তাহমিদকে নিয়ে টুইটার মেসেজ।

হাসনাত করিমকে নিয়ে সন্দেহ তো আগে থেকেই ছিল, এখন তা আরো গাড় হয়েছে। হিজবুত তাহরীরর সাথে তার যোগাযোগের কথা আগে থেকেই সবাই জানত। তাছাড়া হামলার দিনে এই দুজনের সাবলীল চলাফেরা, সন্ত্রাসীদের সাথে আলাপ এসব ব্যাপারগুলো এখন মেজর ফ্যাক্ট হয়ে দাড়িয়েছে। কোরিয়ান সেই ভদ্রলোকের ভিডিওগুলো যদি না থাকত, তাহলে যে কি হত কল্পনা করা যায় না। এমনকি হামলার পরে, “উদ্ধার” হবার পরে তারা একটি বাসায় অবস্থান নেন আর সেই বাসায় তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সাবলীলভাবে বসে থাকা এত বড় একটা হত্যাযজ্ঞের পর – ব্যাপারটা একটু বেশী মেলোড্রামাটিক। তাহমিদের পাশে বসে থাকা দুজন নারীরও অতিমাত্রায় স্বাভাবিকতা প্রশ্নের ঝাঝ আরো বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে হাসনাত করিমের আরেশী ভঙ্গিতে বসে থাকা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে – ব্যাপারগুলো খাপ খায় না এত বড় হত্যা যজ্ঞের পর। THM

আর বাকী ছবিগুলর কথা নাই বা বললাম যেখানে তাহমিদ হাতে অস্ত্র ধরে আছে আর হাসনাত ব্রিফ করছে সন্ত্রাসীদের। তবে, কোরীয় সেই ভদ্রলোকের ভিডিওতে তাহমিদের সাথে আরো একজন লোককে বের হয়ে যেতে দেখা যায় নীল গেঞ্জি পরা। এই লোকের ব্যাপারে তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি। শোনা যাচ্ছে তার নাম সত্য প্রকাশ পল প্রকাশ। তিনি ঢাকায় একটি মানসিক নিরাময় কেন্দ্র চালান এবং বড়লোক শ্রেনীতে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কিনা এই ব্যাপারে কোন তথ্য অন্তত পত্র-প্ত্রিকায় আসেনি। বের হবার সময় তার হাতে কি জানি ছিল। ভিডিওতে দেখলে মনে হয় কোলে করে একতি বাচ্চাকে নিয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু আসল ঘটনা কি কেউ জানেনা।

nijhum

CNN বা BBC এরকিছু আর্টিকেলের মতে আইএস এর সন্ত্রাসীরা ক্যাপ্টাগন নামে এক ধরনের মাদক ব্যবহার করে। এই মাদকের বিশেষত্ব হলো এটি নেয়ার পরে মানুষের সব ধরনের বোধশক্তি চলে যায়- ভয় বা ব্যাথা – কোন কিছু কাজ করেনা। মানুষ একরকম নৃশংস হয়ে উঠে। গুলশান হামলাইয় নিহত সবাইকে যেভাবে জবাই করা হয়েছে তা কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না যদি না মানুষগুলো বিশেষ কোন কন্ডিশনে না থাকে। সন্ত্রাসীরা কি সেসময় মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল? যদি থেকে থাকে, তাদের সেই মাদকের কোন না কোন সাপ্লাইয়ারও কিন্তু থাকবে।

এছাড়াও নানা পত্র-পত্রিকায় কিছু গুজব হয়তো ইচ্ছে করেই ছড়ানো হচ্ছে। ইতিমিধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে এধরনের গুজব ছড়ানো খবর প্রকাশ করতে নিষেধও করা হয়েছে তদন্তের কারনে। কিন্তু গুলশান হামলার প্রায় এক মাসেরও বেশী সময়ের পরও মানুষের আতংক এখনও কাটেনি। এখনও অনেক বড় বড় প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। সাধারন মানুষের কিউরিসিটিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই কারন এত বড় ঘটনা দেশে এভাবে কোনদিন ঘটেনি। হয়তো তদন্তের কারনে অনেক কিছু ধোঁয়াশা করে রাখা হয়েছে।

আমরা চাই পরিস্কার তদন্ত হোক আর সব দোষীদের বিচার হোক। এমনভাবে হোক যেন আর কেউ কোনদিন এসব করতে না পারে। আইএস বাংলাদেশের জন্য না। বাংলাদেশে আইএস কোনদিন টিকতে পারবে না। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ এসব সন্ত্রাসীদের কখনও টিকতে দিবে না। আমাদের কাজে কর্মে এটি দেখিয়েও দিতে হবে। তবে সরকারের একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য হয়েছে কারন আইএস দমনে তাদের সদিচ্ছার কারনে। এটা একটা ভাল দিক। তাই আশা করছি, অতি শীঘ্রই সব কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in