আবারো হামলা! আবারো খুন!

আবারো হামলা! আবারো খুন? কি হয়েছে জানেন? কোথায় হয়েছে জানেন? কেন হয়েছে জানেন? এবার তো ফেসবুকেই তদন্ত করে বের করে ফেলব। অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সব পত্র-পত্রিকায় গরম গরম খবর। কঠিন হলেও বাস্তব, লজ্জার হলেও সত্য – ভুলে গেছি আমরা কিছু একটা। মনে আছে কি তনুর কথা কিংবা মিতুর কথা? মনে নেই নিশ্চয়? আচ্ছা কারা যেন স্যোশাল নেটওয়ার্ক আর দুইএকটা মিডিয়া কাভারেজের সামনে গলা ফাটিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন? তাদের কি মনে আছে? ওহ আচ্ছা, সরি, ভুল হয়ে গেছে। এটা তো সেসময় ট্রেন্ড ছিল। অনলাইনে যারা কী-বোর্ডে ধুয়া তুলেছিলেন তাদের কি মনে আছে? ওহো – আবারো সরি। তখন তো ফেসবুক ট্রেন্ড ছিল – অনেক বেশী শেয়ার-লাইক আর পাবলিসিটির বিপুল সম্ভাবনা ছিল ২/১ টা প্রতিবাদমূলক বুলি দিয়ে। এখন তো অন্য কিছু ট্রেন্ডিং – সবাই তো এখন অন্য কিছু নিয়ে কথা বলছে। তনু-মিতু নিয়ে কথা বলে ফায়দা নেই।

কথাগুলো আঁতে ঘা লাগার মত না? আহা, সত্য কথা একটু কড়া হয়। তনুও হারিয়ে গেল, মিতুও হারিয়ে গেল। মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও এ ব্যাপারে অফ দ্যা স্ট্রিম হয়ে গেল। কোন রহস্যই উদঘাটিত হলো না। কোন খবরই পাওয়া গেল না। কোন আপডেটও পাওয়া গেল না। একদিন হয়তো আপনার-আমার সাথেও এমন হবে আর এভাবেই ভুলে যাবে মানুষ- ঠিক যেমনটা আমরা গিয়েছি। তখন কিন্তু কাউকে দোষ দিতে পারবেন না।

অবশ্য, কিইবা করব আমরা? আমাদের কথার কি দাম আছে নাকি? যেখানে মানুষের জীবনের মূল্য নেই সেখানে আবার মানুষের কথার দাম! ট্রেন্ড যেদিকে ছুটে আমরাও সেদিকে ছুটি। এই লেখার টাইটেল “আবারো হামলা! আবারো খুন” কেন দিয়েছি জানেন? আরে, এটা না দিলে কি আপনারে এই লেখায় ঢুকতেন? মিতু-তনু এই মান দেখলে কি জীবনেও এই পোস্টে ঢুকতেন? গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি – ৯০% মানুষ এড়িয়ে যেতেন। তাই এই পন্থা। কিন্তু মোটেও দুঃখিত না এই ব্যাপারে। এই লজ্জা আমাদের সবার। গরম গরম ব্রেকিং নিউজের পেছনে আমরা ছুটি। আর যে খবর ঠান্ডা হয়ে গেছে তার আর কোন খবর আমরা নেই না। আমরা এমন একটা জাতিতে পরিণত হয়েছি যে নিজেদের সার্থ ছাড়া একচুলও নাড়চাড়া করি না।

মিতু-তনু -তাদের কারো হত্যার পরবর্তী তেমন কোন আপডেট আমাদেরও জানা নেই। আমরাও প্রতিবাদ করেছিলাম, ফেসবুকের পেজ উলটে ফেলেছিলাম, বাবুল আক্তারকে সহানুভূতি দেখাতে দেখাতে প্রায় মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিলাম কিন্তু পরে, সব বদলে গেল। কত নতুন নতুন ইস্যু আসল। আপনাদের সাথে সাথে আমরাও লুটিয়ে পড়লাম নতুন ইস্যু নিয়ে আর সেই ফাকে হারিয়ে গেল তনু-মিতু। পৃথিবী থেকে আরও আগেই অকালে হারিয়ে গিয়েছিল তারা – হত্যা করা হয়েছিল বলে।

কিন্তু এই আমরা তাদের ২য় বার হত্যা করেছি আমাদের মনে। প্রথম হত্যার জন্য হত্যাকারীরা দায়ী। ২য় হত্যার জন্য কিন্তু আমরাই দায়ী। আর ২য় হত্যায় তাদের নাম পর্যন্ত মুছে গেল পৃথিবী থেকে। ১ম হত্যায় হয়তো তাদের নামটা বেচে ছিল। কারা বড় অপরাধী? প্রশ্নটা আপনাদের দিকেই ছুড়ে দিলাম।

তবে যাবার আগে আরও একটা গ্যারান্টি দেই, এই পোস্ট, এই আর্টিকেল জীবনেও কেউ শেয়ার করবে না। ১০০% গ্যারান্টি দিলাম । ইতিমধ্যে পোস্টের অর্ধেকে এসে অনেকেই চলে গেছেন আর বাকী যারা এতটুকু পর্যন্ত পড়েছেন, তারা গালি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটা কোন গরম খবর না, তাই আপনাদের দামী ফেসবুক ফিডে শোভা পাবে না কোনদিন। কি? ঠিক বলিনি? হায়রে বিবেক! হায়রে তার দংশন! যদি সাহস থাকে, তনু-মিতুর জন্য মনে কিছু থাকে তাহলে তনু-মিতুকে আবার লাইমলাইটে আনেন, ট্রেন্ডে আনেন। যদি গাটস থাকে। ওহ সরি, কোথায় কি বলছি আমি। আমারই ভুল হয়ে গেছে!

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in