গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম/জিয়া এখন ঢাকায়?

6924
SHARE

২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষনা করা হয়েছে এই দুই সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য। একজন তামিম এবং আরেকজন জিয়া – যিনি আর্মি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। তামিমকে বাংলাদেশে আইএস এর মূল হোতা বলেই ধারনা করা হচ্ছে আর গুলশান হামলাম মাস্টারমাইন্ড। এই মুহুর্তে পুলিশ মনে করছে এই ২জন ঢাকার কোথাও লুকিয়ে আছে। নানা গোয়েন্দা সংস্থা এখন তাদের অবস্থানের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য খুজছে।

শুধু গুলশান না, এদুজন শোলাকিয়া হামলারও মাস্টারমাইন্ড আর কল্যানুপুরের জঙ্গীদের নেতা – এমনটাই ধারনা করছে পুলিশ। তামিম কানাডার নাগরিক আর অক্টোবর ২০১৩ থেকে কানাডায় নিখোজ। সেসময় তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে অন্তত বাংলাদেশের প্রশাসন তার জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার খবর পায়।

কল্যানপুরের অভিযানের পর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা নতুন করে জংগী রিক্রুট করছে ঢাকার বাইরে থেকে। হঠাত করেই তাদের লোকবলের অভাব পড়ে গেছে বাংলাদেশ পুলিশের অভিযানের কারনে। পুলিশ তাদের জেএমবি’র সদস্য বলেই অভিহিত করছেন।

জঙ্গি দমনে সরকারের পদক্ষেপ প্রশংসার হলেও একটা প্রশ্ন সবসময় থেকে যাচ্ছে। সেটি হলো, আইএস এর অস্তিত্ব নিয়ে। সরকার কোনভাবেই স্বীকার করছে না যে বাংলাদেশে আইএস এর অস্তিত্ব আছে অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া নানাভাবে জোর দিয়ে বাংলাদেশের আইএস এর অস্তিত্বের কথা বলছে। এখানে ব্যাপারটা একটু রহস্যজনকও বটে। এবং সন্দেহটা সেসব দেশ বা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দিকেই। আর আন্তর্জাতিক মিডিয়া বলতে আমরা একটু আমেরিকার দিকেই পয়েন্ট বেশী করে থাকি যেহেতু গুলশান হামলার সময় আমেরিকান চ্যানেলগুলো একটু বেশীই কাভারেজ দিয়েছে।

আমেরিকা আসলে কি চায় বাংলাদেশের কাছে? 

৯-১১ এর পর থেকে আমেরিকার যুদ্ধবাজি ভাবটা খুব বেশী বেড়ে গিয়েছিল এবং এখনও তা অটুটই আছে বলা যেতে পারে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আজব এক যুদ্ধে একের পর এক দেশে আমেরিকা বোমা মারতে শূরু করে। আমেরিকায় যে সরকারই আসুকনা কেন, ঘুরে ফিরে সবার একই ইচ্ছা। খোদ আমেরিকাতে ৯-১১ নিয়ে অনেক গুজব বা গল্প আছে যা আমেরিকার সাধারন মানুষরাই বিশ্বাস করে। সেটী হলো – টুইন টাওয়ার হামলা আসলে কারা করেছিল? ইসরায়েলের কি হাত ছিল? টুইন টাওয়ার এটাক লিখে গুগলে সার্চ করলে এরকম হাজার হাজার জার্নাল পাওয়া যাবে।

যাই হোক, টুইন টাওয়ার হামলার পর শুরু হলো আমেরিকার আক্রমন। প্রথম আফগানিস্তান, এরপর ইরাক আর এরপর তারা নাক গলায়নি এমন জায়গা পাওয়া মুশকিল। আফগানিস্তান হামলা একটা ফেইলিউর ছিল আর ইরাক হামলা ছিল আমেরিকার অনেক বড় একটা ভুল যা পরে নিজেরাই দায়সারাভাবে শিকার করেছে। এখন সিরিয়া, ইয়েমেন আর আরবে নানা জায়গায় হয়ত যুদ্ধ করছে অথবা যুদ্ধ যেন হয় সেই ব্যবস্থা করছে। আলকায়েদার লাদের অথবা আইএস এর বাগদাদী – এর সবই তো সিআইএ বা মোসাদ দ্বারা ট্রেনিং প্রাপ্ত। আর বাগদাদী তো নাকি ইহুদী সেটা ইতিমধ্যে প্রমানও হয়ে গেছে।

বুঝলাম, মধ্যপ্রাচ্যে প্রচুর তেল আছে আর সেই তেলের লোভ আমেরিকার বরাবরই ছিল। তাই সেখানে যুদ্ধ লাগানোটা লাভজনক। অস্ত্রও বিক্রি করা হলো আবার তেলও দখল করা হলো। এক্ষেত্রে যুদ্ধবাজি বেশ বড় সড় একটা ব্যবস্থা। আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অনেক প্রভাবশালী। আর মার্কেটও বিশাল। যদি যুদ্ধই না হয়, তাহলে অস্ত্র কিভাবে বিক্রি করবে? আমেরিকার অর্থনীতি তো একেবারে লাটে উঠবে তাহলে! খোদ আমেরিকাতেই অস্ত্র নিয়ন্ত্রন করতে পারে না তাদের সরকার। যেকেউ অস্ত্র কিনতে পারে আর কদিন পর পর দেখা যায় টিভিতে… ভিডিও গেম স্টাইলে কোন এক “মানসিক বিকার গ্রস্ত ছাত্র ক্যাম্পাসে গুলি করে একসাথে ৩০ জনকে মেরে ফেলল। আর যদি মুসলমান হয়, তাহলে কিন্তু টেররিস্ট এটাক। তবে টেররিস্ট এটাকের চাইতে ফ্রিকের সংখ্যা বেশি আমেরিকায়। আর তাদেরই সামলাতে পারে না আমেরিকা। কিন্তু ঠিকই অন্যদেশে গিয়ে “সন্ত্রাস দমনের” গল্প করে যেমনটি এখন বাংলাদেশের সাথেও করছে। আসলে সন্ত্রাসবাদ তাদের একটি উসিলা মাত্র। অন্য দেশে গিয়ে প্রভাব বিস্তার করাটাই তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

তাহলে আমেরিকা কি চায় বাংলাদেশে? এ ব্যাপারটা নিয়ে কেউ পরিস্কার করে কথা বলে ন বা আলোচনা করে না। কিন্তু লোকমুখে বা মাঝে মাঝে ২/১ টা আর্টিকেলে মানুষের মতামত পাওয়া যায়। যেমন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঘাটি করা। এখানে আমেরিকা ঘাটি করতে পারলে ইন্ডিয়া, চায়না, বার্মা সব নাকি কন্ট্রোল করতে পারববে। এই অঞ্ছলে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। আবার অনেকেই বলে বাংলাদেশ হলো তেলের ভান্ডার। গ্যাস তো আছেই, কিন্তু বঙ্গোপসাগরে নাই বিশাল বড় সব তেলের খনি আছে। গরীব দেশ বলে আমরা সেসব তুলতে পারছিনা। কিন্তু আমেরিকার নজর নাকি সেখানেই। আর তাছাড়া এখানে একটা যুদ্ধ লাগিয়ে দিলে অস্ত্রের ব্যবসা খুব যে খারাপ চলবে তা না। পাকিস্তানের কি হাল হয়েছে দেখেছেন? সেই দেশে এখন সন্ত্রাসী হামলা না হলে মানুষ চিন্তায় পড়ে যায় – আজ কেন হয় নি।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা বেশ কয়েকবার হেরেছে। সবসময় হেরেছে। আসলে এটা একটা অজুহাত মাত্র এবং এটা এখন সবাই বুঝতে পারে। কিন্তু একই অজুহাতে আমেরিকা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মত করতে চায়। তানা হলে আইএস এর ব্যাপারটা কিন্তু রীতিমত গায়ের উপরে চাপিয়ে দেয়ার চেস্টা চলছে এখানে।

বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানে সম্ভবত আমেরিকার মুল ইন্টারেস্ট। এশিয়াতে একটু নিয়ন্ত্রন চায় আমেরিকা যেকোন মূল্যে। তাহলে কি আইএস আমেরিকার সৃষ্টি? ওয়েল, তাদের অস্ত্রই তো আইএস ব্যবহার করে। আর আমেরিকার এই ব্যাপারে অজুহাত “ইরাক যুদ্ধে ফেলে যাওয়া অস্ত্রগুলো আইএস নিয়েছে”। বড় লেইম হয়ে গেল না!

আর আমেরিকার আরেকটা বড় নির্লজ্জতা হলো ইসরায়েলকে অন্ধের মত সমর্থন করা। ইসরায়েক করছে না হেন কোন খারাপ্প কাজ নেই, কিন্তু আমেরিকার সেটা নিয়ে মাথা ব্যাথাও নেই। ইসরায়েল কোন সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের চাইতে কম কিছু না। কিন্তু ইসরায়েলের গোলামীতে কমতি রাখেনা আমেরিকা। কেন? অনেক ব্যাখ্যা তো আছে কিন্তু তাদের নিজেদের কি কোন লজ্জাবোধ নেই?

দুবেলা পেট ভরে খেতে পারলেই খুশী আমরা। তাই এসব আন্তর্জাতিক কন্সপিরেসির কিছু মাথায় ঢুকেনা। কিন্তু এসব তো কমন সেন্স। আমেরিকা আর কত লোভ করবে। তারা তো অলরেডি বিশ্বের সবেচেয়ে শক্তিধর। আর কত লাগবে তাদের? তবে কি তারা চীন, ভারত আর রাশিয়া কে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতা তো একজনের  কাছে বেশীদিন থাকেনা। হাজার বছরের ইতিহাসে এমন কোনদিন হয়নি। ক্ষমতা শিফট করবেই। আজ হোক, কাল হোক। কিন্তু বাংলাদেশ তো নিরীহ দেশ। এখানে তারা কি চায়? তেল, গ্যাস, সেন্টমার্টিন দ্বীপ নাকি হাজার হাজার লাশ?

বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। তবে আপনাদের কাছে প্রশ্ন – কি চায় আমেরিকা বাংলাদেশের কাছে? ঠিক কোন জিনিষ্টা চায়? লোভটা ঠিক কোন জায়গায়?

এনিয়ে আমাদের কিছু ভিডিও আছে, আরো সামনে আসছে। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক –YouTube.com/Bangladeshism

 

আপনার মন্তব্য