গুলশান হামলায় নতুন মোড়

81680
SHARE

গুলশান হামলার অন্যতম জীবিত সন্দেহভাজন হাসনাত করিম আর তাহমিদ হাসিব খান ।  হামলার পর থেকে তাদের নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে পুলিশ ,প্রশাসন , মিডিয়া আর জনগণের মাঝে চলেছে বহু জল্পনা কল্পনা !

হামলার পর একটা সময়ে হাসনাত করিম আর তাহমিদ হাসিব খান কোথায় আছে, কেমন আছে এই বিষয়ে জনমনে সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয় ! এই হামলার ঘটনায় একটি মামলা হলেও এতদিন পর্যন্ত কাঊকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি !

আবশেষে আজ হাসনাত করিমকে গ্রেফতার দেখানোর মধ্য দিয়ে হলি  এই প্রথম বারের মত আর্টিজানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কাউকে গ্রেফতার দেখানো হল ! পুলিশ আজ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ।

এই ঘটনায় তাহমিদ হাসিব খানকে  এখনও গ্রেফতার দেখানো না হলেও পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাহ্মিদের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে জানা যায় ।

উল্লেখ্য, ১লা জুলাই হামলার ঘটনার পরদিন তাদের অন্য সকলের সাথে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ! এরপর থেকে তাদের উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।

অবশেষে গত ৩রা আগস্ট ঢাকা থেকে তাদের ২ জনকে ৫৪ ধারায় আটক করার কথা পুলিশের পক্ষ থকে জানানো হয় । আর ৪ঠা আগস্ট পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২ জনের জন্যই ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল ।

 

ডিএমপির উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেছেন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় মিস্টার করিমের সংশ্লিস্টতা থাকার সম্ভাবনা থাকায় এ মামলায় তাকে গ্রেফতার তাকে দেখানো হয়েছে। তথ্য সূত্র ঃ বিবিসি

 

অন্য দিকে আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে  কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান যে ,

রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার দায়িত্বে ছিলেন মারজান নামের এক ব্যক্তি। এ হামলায় হাসনাত করিম, মেজর জিয়া ও তাহমিদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন।

মারজান

ছবির সূত্র ঃ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম

তিনি আরও বলেন যে, হামলার দিন যে পাঁচ জঙ্গি কমান্ডো অভিযানে মারা যায়, তারা বসুন্ধরার বাসা থেকেই এসেছিল। তারা ভিন্ন ভিন্ন পথে হেঁটে একে একে আর্টিজান হোটেলে প্রবেশ করে। তাদের সহযোগিতা করতে আরো দুজন সেখানে প্রবেশ করে। তাঁরা হলেন হাসনাত করিম ও তাহমিদ।

এ হামলার মূল হোতা তামিম ও জিয়া। তাঁরা বাইরে থেকে পুরো হামলার নেতৃত্ব দেন। আর তামিম ও জিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে ওই দিনের হামলার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মারজান।

 

ডি এম পি’র এই অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল  ইসলাম আরও বলেন, গুলশান হামলার বিভিন্ন সাক্ষী ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে মারজানের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্য অধিকতর যাচাই-বাছাই করে মারজান যে ওই হামলায় বাইরে ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

মারজানকে  ধরতে এরই মধ্যে পুলিশ অভিযানে নেমেছে বলেও তিনি জানান । তথ্য সূত্র ঃ এনটিভি

আপনার মন্তব্য