চাকমা রাজপরিবারের গোপন ইতিহাস ( ৪র্থ অংশ )

6138
SHARE

পূর্ব প্রকাশের পর  পর্ব – ১ | পর্ব ২ | পর্ব- ৩ 

♦সৈয়দ ইবনে রহমত♦

সূর্যবংশীয় প্রমাণের চেষ্টা

কিন্তু সতীশচন্দ্র ঘোষ বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কেন এসব দুর্বল সূত্র ব্যবহার করে একটি জাতির সুদূর অতীতকে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছেন সে বিষয়ে পূর্ণ ধারণা পাওয়া না গেলেও বইটির শুরুতে একটি ইঙ্গিত লক্ষ্য করা যায়। যেখানে তিনি লিখেছেন, “উপস্থিত চাকমাজাতির উৎপত্তি, স্থিতি বা পরিব্যাপ্তিমূলক এ যাবত যে সমুদয় বিবরণী প্রাপ্ত হওয়া গিয়েছে, তদ্বারা ইহারা যে অনার্য নহে, তাহা স্পষ্টতঃ প্রতিপন্ন করা যায়। সে সমুদয় বাদ-বিচার যথাক্রমে আলোচিত হইতেছে” (পৃ. ২)। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, সতীশ বাবুর ‘চাকমা জাতি’ রচনার পেছনে চাকমারা যে মুসলিম ও মোগল বংশধর -এই পরিচয় গোপন করে তাদেরকে আর্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটা তাড়না বা উদ্দেশ্য কাজ করেছে। আর এটা তৎকালীন চাকমা রাজা ভুবন মোহন রায়ের অজ্ঞাতে হয়েছে তা ভাবার কোন যুক্তি নেই। কেননা সতীশচন্দ্র ঘোষের বর্ণনামতে ভুবন মোহন রায় এই বই রচনার শুরু থেকে প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এমনকি তিনি নিজে পান্ডুলিপিও দেখে দিয়েছিলেন। তাই ইতিহাস নিয়ে এখানে যে ছেলেখেলা হয়েছে, তা চাকমা রাজপরিবারের আগ্রহেই হয়েছে। যার ফলে সতীশচন্দ্র ঘোষ চাকমা রাজ পরিবারে সংরক্ষিত সিল মোহর, দলিল-পত্র, সমরাস্ত্র, তাদের ভাষা এবং কৃষ্টিকালচারকে বাদ দিয়ে কিছু রূপকথা/উপকথাকে ইতিহাসের সূত্র ধরে এগিয়েছেন এবং রাজপরিবারের গুরুত্ব ও আভিজাত্য বাড়াতে মনের মাধুরী মিশিয়ে একের পর এক কল্পিত রাজার নাম এবং তাদের কীর্তিগাঁথা রচনা করে চাকমা রাজ বংশকে সূর্যবংশীয় তথা আর্যদের উত্তরাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন।

বিষয়টি অনুধাবন করে এবং ইতিহাস বিকৃতির এই চরম ধৃষ্টতা দেখে সত্য অনুসন্ধানী গবেষক অশোক কুমার দেওয়ান অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। আর তাই এ ইতিহাসকে চাকমা রাজাদের ফরমায়েশী ইতিহাস হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি লিখেছেন, “বংশ কেবল প্রাচীন হলেই হয় না, বংশ তালিকা দীর্ঘ না হলেও বংশের মান বাড়ে না, সে কারণে অভিরাজের পূর্বে অগণিত রাজার কথা উল্লেখ আছে, — The history of kings commencing from Maha Thamada upto the time of excellent `Para Gaudama’ there being 334, 569 kings in regular succession. (Capt, C. J. S. Forbes: Legendary history of Burma and Arakan, 1882). যাইহোক, মনে হয় চাকমা রাজ বংশের ফরমায়েসী ইতিহাস রচনাকালেও পূর্বোক্তর্ রাহ্মণ পন্ডিত বিশ্বব্যাপী প্রচলিত এই গতানুগতিক রীতিতে লংঘন করতে পারেননি। শাক্য বংশ থেকে উৎপত্তির কাহিনীটি কবে থেকে প্রচলিত ছিল ঠিক বলা যায় না তবে চাকমা রাজাগণের সূর্যোবংশো™ভূত ক্ষত্রিয়ত্বের দাবী সম্ভবতঃ খুব বেশী দিনের কথা নয়। হাচিনসন তাঁদের চন্দ্র বংশীয় বলে উল্লেখ করলেও সতীশচন্দ্র ঘোষ সে প্রসঙ্গে কিছুই বলেননি বরং ত্রিপুরা রাজবংশের ইতিবৃত্ত ‘রাজমালা’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পরোক্ষভাবে তাঁদের চন্দ্র বংশীয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন- ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা মঘ নরপতিগণ অল্পকালের মধ্যে চট্টগ্রামের ব্রাহ্মণ মহাশয়দিগের কৃপায় চন্দ্র বংশজ বলিয়া অ্যাখ্যায়িত হইয়াছেন’। মনে হয় গ্রহাচার্য প্রমূখ ব্রাহ্মণ মহাশয়গণ প্রথমদিকে তাঁদের চন্দ্র বংশজ বলে দাবী উত্থাপন করে বিশুদ্ধ হিন্দু প্রতিপন্ন করার চেষ্ট করেন, কিন্তু পরে বোধ হয় অন্য কোন ব্রাহ্মণ পন্ডিতের দ্বারা সেই অসংগতি সংশোধন করা হয়। যেহেতু বুদ্ধ শাক্যকুলজাত, শাক্যকুল আবার সূর্য বংশোজাত, সুতরাং এই মতকে প্রচলিত বিশ্বাসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সহজ। তাছাড়া সূর্যবংশের গৌরব চন্দ্রবংশের তুলনায় একটু বেশী হওয়ারই কথা-অতএব ডবল লাভ” (পৃ. ৩২-৩৩)।

রাজপরিবারের ধর্মান্তর

১৬৬০ সালের পর থেকে শাহ সুজার সেনাপতিগণ কর্তৃক বর্তমান বান্দরবান জেলার অন্তর্গত আলীকদমে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম জমিদারীতে তৎকালীন জমিদার এবং তাদের অধিকাংশ প্রজাই ছিলেন মোগল ও মুসলিম। যার প্রমাণ ইতিহাস ছাড়াও চাকমা রাজপরিবার এবং চাকমাদের জীবনাচার, ভাষা ও বিশ্বাসের সাথে এখনো জড়িয়ে আছে। ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারীতেও এই জমিদার পরিবার এবং তাদের প্রজাদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক মুসলমান হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে আজ আর সেই অবস্থা বিরাজমান নেই। বর্তমানে এই রাজপরিবার এবং তাদের প্রজাদের অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। মুসলিম জমিদারীতে অন্য ধর্মের প্রভাব কখন থেকে কিভাবে শুরু হয়েছিল তার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ এখন আর পাওয়া যায় না। তবে রাজপরিবারে রক্ষিত সিলমোহর থেকে রাজা জব্বর খাঁর (১৮০১-১৮১২ খ্রি.) মধ্যে হিন্দু ধর্মবিশ্বাসীদের নিকট পুঁজিত দেবী কালীর প্রতি ভক্তির প্রথম নিদর্শন পাওয়া যায়। এরপর রাজা ধরম বক্স খাঁর (১৮১২-১৮৩২ খ্রি.) সিলমোহরেও দেবী কালীর প্রতি ভক্তির নিদর্শন অব্যাহত থাকে। রানী কালিন্দীও (১৮৪৪-১৮৭৩ খ্রি.) প্রথমে হিন্দু ধর্মের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন। এ সম্বন্ধে সতীশ ঘোষ ‘চাকমা জাতি’ গ্রন্থে লিখেছেন, “… এক সময় আরাকান হইতে সংঘরাজ এবং হারবাঙের গুণামেজু নামক প্রসিদ্ধ ভিক্ষুদ্বয় আসিয়া তাঁহাকে বৌদ্ধধর্মে প্ররোচিত করেন (কেহ কেহ এ সম্বন্ধে সিংহলে অধীতবিদ্যা হরিঠাকুর নামক জনৈক চট্টগ্রামবাসী ভিক্ষুর দাবিই অগ্রগণ্য বলিয়া থাকেন।) তাঁহাদের প্রমুখাৎ ভগবান সম্বুদ্ধের চরিতামৃতকাহিনী শ্রবণ করিয়া তিনি বিমুগ্ধ হইলেন এবং অনতিকালবিলম্বে শুভদিনে যথাবিধি তদধর্ম্মে দীক্ষাগ্রহণ করিলেন। পরে ইহাদেরই উপদেশে রাজানগর রাজভবনের পূর্ব পাশে সুরমা ও লঙ্কাদেশের নানাভিক্ষুকে নিমন্ত্রণপূর্বক মহাসমারোহে বাঙ্গালা ১২৭৩ সনের ৮ চৈত্র দিবসে আরাকানের অনুকরণে ‘মহামুণি’ স্থাপন করেন।” (পৃ. ১১১-১১২)। বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে এরপর থেকে রানীর পৃষ্ঠপোষকতায় জমিদার পরিবার এবং প্রজাদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবল প্রচার শুরু হয় এবং ক্রমেই বিস্তার লাভ করে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায় এ মুসলিম জমিদারীতে এক সময় অভিজাত হিন্দুদের প্রভাব তৈরিতে ইংরেজরা সহায়তা করেছিল। ব্রিটিশরা কোন কোন সময় এ জমিদারীতে খাজনা আদায়ে হিন্দুদের ইজারাদারও নিয়োগ করেছিল। ধারণা করা হয় এসব ইজারাদার এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের সংস্পর্শে এসে রাজা জব্বর খাঁ (১৮০১-১৮১২ খ্রি.) তাদের পুঁজিত দেবী কালীর প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। মাধব চন্দ্র চাকমা কর্তৃক রচিত ‘শ্রীশ্রী রাজনামা’ গ্রন্থে এর ইঙ্গিত রয়েছে। গ্রন্থটিতে গ্রহাচার্য শঙ্করাচার্য নামে প্রভাবশালী একজন পণ্ডিতের নাম উল্লেখ রয়েছে যার প্রতি রাজার যথেষ্ট শ্রদ্ধা-ভক্তি থাকারও প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে এটা বোঝা যায় যে, রাজা জব্বর খাঁর মাধ্যমে জমিদার পরিবারে হিন্দু ধর্মের প্রভাব শুরু হলেও তা পাকাপোক্ত হওয়ার আগেই কালিন্দী রানী বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।

মুসলিম জমিদার পরিবারে প্রথম হিন্দু ধর্মের প্রভাব এবং পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার লাভ করলেও তা কখনোই পুরো পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারেনি। বরং এটা ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটি ক্ষুদ্র অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অপরদিকে রাজা জব্বর খাঁর (১৮০০-১৮০১ খ্রি.) পুত্র হোসেন খাঁ (মীর্জা হোসেন)-এর নেতৃত্বে জমিদার পরিবারের বৃহৎ অংশ তাদের মুসলিম ধর্মবিশ্বাসে সদা অবিচল ছিলেন এবং রাঙ্গুনিয়া ও তার আশাপাশ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা তাদের বংশধরগণ এখনো সম্ভ্রান্ত মুসলমান হিসেবেই সর্বজন মান্য হয়ে বসবাস করছেন। এক পর্যায়ে জমিদার পরিবারের এই দুই অংশের দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং তৎপরবর্তী মামলায় ২২ তালুকের জমিদারী লাভ করলে বর্তমান চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত রাঙ্গুনিয়া, রাজানগর, রাউজান, রানীর হাটসহ বিশাল এলাকার ওপর হোসেন খাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় যা আজো মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে বর্তমান। এবং তখন অভিজাত এবং সম্ভ্রান্ত মুসলমানগণ হোসেন খাঁর নেতৃত্বে এ অঞ্চলে অবস্থান গ্রহণ করেন। অপরদিকে তৎকালীন জমিদার হরিশ্চন্দ্র রায় রাজানগরের জমিদার বাড়ি ব্যতীত এ অঞ্চলের বিরাট অংশের ওপর কর্তৃত্ব হারিয়ে বেকায়দায় পড়েন। ফলে রাজানগর থেকে রাজবাড়ি সরিয়ে রাঙ্গামাটির গভীর জঙ্গলে নিয়ে যান। জমিদার পরিবারের দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে একাধিক ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারে ধর্মান্তরের বিষয়ে ধারণা করেন যে, হিন্দু ইজারাদার এবং পণ্ডিতদের সংস্পর্শ জব্বর খাঁর মধ্যে কালী ভক্তির জন্ম নেয়। জব্বর খাঁর মৃত্যুর ১৮ মাস পর তার স্ত্রীর গর্ভে ধরমবক্স জন্ম নেয়ার কারণে তিনি পরিবারে ‘আঠার মাস্যা ধরমবক্স’ হিসেবে নিন্দিত ছিলেন। যার কারণে সম্ভ্রান্ত মোগল মুসলিম পরিবারে তাকে মেনে নেয়ার কোন যুক্তি ছিল না। আর ধরমবক্স খাঁ (১৮১২-১৮৩২ খ্রি.) তার জন্মের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিজেও সন্দিহান ছিলেন। ফলে তিনি ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিনি জমিদার হলেও অভিজাতগণের আনুগত্য এবং তাদের নিকট থেকে সম্মান লাভ কোনদিনই সম্ভব না। তাই তিনি সামাজিকভাবে অনেকটা নিঃসঙ্গই ছিলেন। মুসলমানদের নিকট নিন্দিত হয়ে তাকে হিন্দুদের প্রভাবে থেকে জমিদারী পরিচালনা করতে হতো, অল্পবয়সী হওয়া এবং শুরু থেকেই জমিদারী নিয়ে লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি জব্বর খাঁর (১৮০১-১৮১২ খ্রি.) অনুকরণে সিলমোহরে কালী ভক্তির নিদর্শন অব্যাহত রাখেন। তাছাড়া মাত্র বিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করায় তার পক্ষে ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে খুব বেশি চিন্তার সুযোগও ছিল না বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে পরিণত বয়সে জমিদারী লাভ এবং দীর্ঘ সময় ধরে জমিদারী পরিচালনা করার কারণে রানী কালিন্দী (১৮৪৪-১৮৭৩ খ্রি.) এ বিষয়ে ভাবনার যথেষ্ট অবকাশ পেয়েছিলেন। তাই তিনি প্রথমে হিন্দু ধর্মের প্রতি অনুরক্ত থাকলেও পরে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা লাভ করেন। এক্ষেত্রে ধারণা করা হয়, অন্য ধর্ম থেকে এসে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়ে জাতে ওঠার কিংবা অভিজাত হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভের কোন সুযোগ না থাকার কারণে সুচতুর কালিন্দী রানী বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকতে পারেন। যার ধারাবাহিকতায় আজ চাকমারাও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তবে ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই জমিদারীতে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার পরম্পরায় হিন্দু ধর্ম এবং পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব তৈরির বিষয়টিকে রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরে তৎকালীন জমিদার বাড়ির সীমানায় মসজিদ, মন্দির এবং কেয়াং-এর বিদ্যমান স্মৃতিচিহ্ন আজো সাক্ষ্য বহন করছে। আর এই তিন ধর্মের কিছু না কিছু বিশ্বাস চাকমাদের মধ্যে এখনো বিদ্যমান। বৌদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও স্রষ্টার একক সত্তার প্রতি যেমন বিশ্বাস আছে; তেমনি কালী পূজা, লক্ষ্মী পূজা এবং সরস্বতী পূজাসহ হিন্দু ধর্মের নানা আচার-অনুষ্ঠানও তারা ভক্তিসহকারে পালন করে থাকে।

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক

( চলবে ……)

আপনার মন্তব্য