তবে কি আমাদের খাওয়া দাওয়া বন্ধ?

সকাল বাজে ৭টা। আর কিছুক্ষনের মধ্যেই খুব জরুরী কাজে বের হতে হবে। প্রতিযোগিতার যুগ। অনেকেই মনে হয় আরো আগেই বেরিয়ে গেছে। আজ একটু দেরী হয়ে গেল। প্রতিদিন আরো আগে উঠা হয়। গতরাতে রান্না হতে দেরী ছিল, তাই খেতেও দেরী, ঘুমোতেও দেরী। বড় থলেটা যে কোথায়! বেরিয়ে পড়তে হবে এখনই – লাকড়ি কুড়োতে, দুপুরে বাসায় রান্না করতে হবে। অপেক্ষা করছে মা। লাকড়ি না পেলে রান্না নেই। রাস্তাঘাটে কোন গাছই দেখা যায়না, না দেখা যায় শুকনো কাঠ। কাঠ-কয়লার দাম হঠাত করেই আকাশচুম্বী। তাই একমাত্র ভরসা – রাস্তাঘাটে ঘুরে যা পাওয়া যায়। অনেক আগে এমন ছিল না। রান্নাঘরে একটা পাইপ থাকত সেটা এক ধরনের চুলোর সাথে সংযুক্ত থাকত আর সেই চুলোয় আগুন জ্বলত দাউ দাউ করে আর রান্না হয়ে যেত নিমিষেই। এখন কি আর সেইদিন আছে? দিন বদলেছে না!

ঠিক এমনটাই কি হতে যাচ্ছে আমাদের সাথে ভবিষ্যতে। অর্থমন্ত্রীর কড়া কথা – রান্না-বান্নায় গ্যাস ব্যবহার করা কোনরকমেই যাবেনা আর এ নিয়ে কোনরকমের প্রতিবাদ-আন্দোলন এসবও করা যাবে না। মানলাম, গনতন্ত্রের দেশে প্রতিবাদ করা বেয়াদবী। তাহলে এখন উপায়? ইলেক্ট্রিকের চুলো? ওহো – ইলেক্ট্রিসিটি বড় দুর্লভ জিনিষ, মাঝে মাঝে আসে। তবে কি কাঠ পুড়িয়ে নাকি কয়লা? বাসাবাড়ির ১০ফিট/২০ফিট এর রান্নাঘরে কয়লার চুলো – ব্যাপারটা ভাবতেই রোমাঞ্ছ অনুভব করছি রীতিমত। পিকনিক পিকনিক একটা ভাব।

গ্যাস তো গেল জীবন থেকে তাহলে – এমনটাই কি ধরে নেব? আচ্ছা উনারা বড় কর্তা, মন্ত্রী মানুষ, অনেক বড় পোস্ট, ভিআইপি। রাস্তাঘাটে বের হলে সব বন্ধ হয়ে যায়। অনেক কিছু বুঝেন উনারা। নিশ্চয় কোন না কোন বিকল্প ভেবে রেখেছেন। অবশ্যই ভেবে রেখেছেন। এত বড় মানুষ। এত মানুষের দেশের মন্ত্রী। আচ্ছা সেই বিকল্প কি হতে পারে? কয়লার চুলো? নাহ, পরিবেশের ১২ টা বাজতে পারে। চিন্তাকরে দেখুন ঢাকা শহরের প্রতিটি গিজ গিজ করা ফ্ল্যাটবাড়ির জানালা দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে ইটের ভাটার মত। তাহলে? ইলেক্ট্রিকের চুলো? বিদ্যুৎ ঘাটতির এই দেশে না হয় মানলাম সুন্দরবন উড়িয়ে কিছু নতুন বিদ্যুৎ আসবে। তাও তো যথেষ্ট না। পুরো দেশের অর্ধেক মানুষ যদি রান্নার কাজে ইলেকট্রিকের চুলো ব্যবহার করে, তাহলে দেশে মোট বিদ্যুতের চাহিদা কত হবে। নাহ, এটাও না। নিশ্চয় মন্ত্রী মহোদয় কোন বিকল্প ভেবে রেখেছেন না হলে এমনভাবে কি কেউ বলতে পারে। তবে কি সেটা? সিলিন্ডার গ্যাস? সেটাও তো গ্যাসই। সিলিন্ডার প্রতি দাম মনে হয় অনেক হবে। আচ্ছা সিলিন্ডার কোন কোম্পানী তৈরী করছে? মানদন্ডের ব্যাপার আছে না? অবশ্যই সিলেক্টের কোম্পানীর হতে হবে। আচ্ছা। তো তারা আবার কে হবে? আচ্ছা থাক, বেশী কথা না বলি। সিলিন্ডার প্রতি গ্যাসের দাম তো তাহলে বাড়বে। ঠিক আছে, প্রতি পরিবারে ৬ মাসে একবারের বেশী গ্যাস পাবে না। ও হ্যাঁ, তাই তো, এমন তো হতে পারে! পারে না? হতেই পারে। গ্যাসের উপর চাপ কমে যাবে। তবে সেই সাথে মাটির উপরেও চাপ কমে যাবে। কারন না খেতে পেয়ে মানুষের যে ওজন কমে যাবে!

ওহো, আরো একটা অপশন তো মিস করে গেলাম? হাউ এবাউট ফ্রোজেন ফুড? একেবারেই ঝামেলা নেই অথবা টিনজাত খাবার! এক্কেবারে পারফেক্ট। অথবা, এটাও করা যায় – কোন ঘরে খাওয়া দাওয়া চলবে না। খেতে হলে শুধু রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেতে হবে। এই যা, রেস্টুরেন্ত ব্যবসায়ীরা তো লালে লাল হয়ে যাবে। তাহলে এইখানে আমি কি করছি এখন? আমি এখন লোকেশন খুজে বের করি। রেস্টুরেন্ট দিব একটা। মনে হচ্ছে সুদিন আসছে। এবার ব্যবসায় ছক্কা পেটাবো। আর হ্যাঁ, কিছু লাকড়ি, কয়লা স্টোর করে রাখি, ইম্পোর্ট করে রাখি, সাথে সিলিন্ডারও। সেই ব্যবসা হবে। টাটা! বাই বাই!

আর হ্যাঁ, আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। এই নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও আসছে। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in