নাটের গুরু হাসনাত – হামলার আগাম বার্তা!

81853
SHARE

অবশেষে গুলশান হামলায় হাসনাত করিমের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরিস্কার হয়ে আসছে। এর আগে গুলশান হামলায় প্রথমবারের মত আসামী হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নতুন তথ্য হলো, গুলশান হামলার ১৫-১৬ ঘন্টা আগে নিজের ল্যাপটপে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে নিব্রাস ইসলামকে পরদিন ৮টায় হলি আর্টিজানে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেসময় তিনি প্রায় ১০ মিনিট ধরে তথ্য আদান প্রদান করেন নিব্রাস ইসলামের সাথে। যুগান্ততরের মতে, সেখানে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড মারজানের প্রসংগও উঠে আসে।

উইকার প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে হাসনার নিব্রাস ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। নর্থসাউথের এক সময়ের শিক্ষক হাসনাতের গুলশান হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি এখন অনেকাংশে নিশ্চিত। আর নিব্রাস ইসলামের সাথে সেই কথোপকোথন থেকে পুলিশ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য যোগাড় করতে পেরেছে। যদিও হাসনাত আর তার পরিবার বারবার বলে আসছিল মেয়ের জন্মদিন পালনের জন্যই সেদিন রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন, কিন্তু গত কদিন আগে গুলশান হামলার মামলায় প্রথমবারের মত তাকে গ্রেফতার দেখানোর পর থেকে সবার ধারনা পাল্টে যেতে শুরু করে। তাহমিদ খান আর হাসনাত এবং আরেক জঙ্গির কথোপকোথনের কিছু ছবিও ইন্টারনেটে চলে আসে। যদিও তাহমিদ খানের ব্যাপারে এখনও কিছু বলা হয়নি পরিস্কার করে। হাসনাত জড়িত আছে – এমনটা প্রায় নিশ্চিত হলেও তাহমিদ খানের ব্যাপারটা খুব ঘোলাটে হয়েই রয়ে গেল।

এর আগে হাসনাত আর তাহমিদকে গ্রেফতার এবং তাদের নিয়ে লেখালেখি করার বিপকক্ষে ফেসবুকে অনেক ধরনের কথিত “আন্দোলন” শুরু হয়। পরে অবশ্য তা থেমেও যায় হাসনাতকে গ্রেফতার করার পর। কল্যানপুরের জঙ্গী হামলার পরেও একটা মহল সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সেসময়।

হাসনার করিম এখনও রিমান্ডেই আছেন এবং তথ্য আদায় চলছে। কিন্তু তাহমিদের ব্যাপারে তেমন কোন তথ্য কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাহমিদ খানও রিমান্ডে থাকলেও গুলশান হামলার মামলায় তাকে এখনও গ্রেফতার করা হয় নি। তাহমিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৪ ধারায়।

এই ফাকে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড মারজানেরও পরিচয় পাওয়া গেছে আর তার বাবাকেও আটক করা হয়েছে বলে অন্তত দেশের সব মেইনস্ট্রিম পত্রিকাগুলো বলছে। সেখবর যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে মূল অপরাধীরা হয়তো খুব কম সময়ের মধ্যে ধরা দিবে।

আসলে বাংলাদেশের মত দেশে আইএস নামক কথিত হাস্যকর “বীর” সন্ত্রাসীরা তেমন কিছু করতে পারবে না। এধরনের গোষ্ঠিরা আগেও কিছু করতে পারে নি, এবারও পারবে না। হ্যাঁ, “জিহাদের” নামে নিরস্ত্র নিরীহ কিছু মানুষকে কাপুরুষের মত হত্যা করে নিজেদের জাহির করতে পারবে বৈকি। কিন্তু এর বেশী কিছু না।

সত্যি কথা বলতে, জঙ্গী দমনে প্রশাসনের ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের উচিত বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নেয়া। যাই হোক, এরকম অনেক হাসনাত-নিব্রাস আসবে যাবে আর তাদের স্থান হবে সরাসরি নরকে। এরা জীবনে বার বার মরবে। একবার দেশের মানুষের লাথি খেয়ে, আরেকবার নিজেদের পরিবারের হাতে মরবে, আরেকবাদ ফাসিতে ঝুলে মরবে। সেই মরার পর, মানুষের গালিতে মরবে।

আপনার মন্তব্য