হাতি সমাচার । হাতি বিভ্রাট । হাতিময় বাংলাদেশ

মাঝে মাঝে বড় দুঃখ লাগে, কেন যে মানুষ হয়ে জন্মালাম। আহা যদি হাতি হতাম! গত টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বড় হাতিকস্টে… না মনোকস্টে আছি। কেন হাতি হলাম না। পত্র পত্রিকায় “সেই হাতির” খবর দেখলেই চোখ ছল ছল করে উঠে। হাতির জন্য না, নিজের জন্য। হাতি না হতে পারার জন্য। এগুলো ভাবতেই ভাবতেই হঠাত বৃষ্টি। শুনেছি বৃষ্টিতে নাকি হাতিটির অনেক কস্ট হচ্ছে। বিদেশি হাতি। নতুন দেশে এসে তাই দিশেহারা। এমন সময় বাসের জানালার ফাকে একটা হাত ঢুকে গেল – “ভাইয়া, কিছু ট্যাকা দেন, সারাদিন কিসু খাইনি”। “যা বেটা দূর হ” বৃষ্টিতে ভেজা সেই বালককে বলা হলো। অদূরে, ফুটপাতের উপর তেরপলের ছাউনি দেয়া একটা “গরীবের” ঘরের ছাদ দমকা বাতাসে উড়ে গেল। ধুর! হাতির কথা ভাবার সময় এসব দৃশ্য ভাল লাগে?

সোজা কথা, বাংলাদেশ বড় অথিতি পরায়ন দেশ। দরকার হলে নিজেদের পেট খালি রাখব, তবুও অথিতিদের যেন কস্ট না হয়। শুনেছি পাশের দেশের দাদারা ক্রিম বিস্কুটের ক্রিমটা রেখে বাকী অংশ খেতে দেয় অথিতি আসলে। ক্রিম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য বোধহয়।

আচ্ছা, বিচ্ছিন্ন চিন্তায়, যখন হাতির কথা মনে পড়ে, তখন কেন জানি কাটাতারে ঝুলানো একটা লাশের কথা মনে পড়ে। ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে… কি এক ফেলানী না তেলানী… ভুলে গেছি। কারা জানি দুষ্টুমি করে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিল গুলি করে। ফেলানী মানুষ ছিল? আরে তাই তো! ফেলানী তো মানুষ ছিল। হাতি তো আর ছিল না। লাশ ঝুলবে না তো কি গড়াবে নাকি?

হাতি হাতি… হাতির কথায় ফিরে আসি। হাতি হওয়াটা খুব বেশী জরুরী। হাতি হলে কত সুবিধা। বিশেষ খাতির, বিশেষ যত্ন, বিশেষ বিশেষজ্ঞ, বিশেষ কাভারেজ – হোয়াট আ লাইফ! শুনেছি, দূর দেশ মালেশিয়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশী আটকা পড়েছে হাতিটার মত। মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে কোন বিশেষজ্ঞ দল যায় না। ওহো – তারা তো মানুষ! হাতি তো আর না! ড্যাম! হাউ ক্যান আই ফরগেট! দূর দেশে পড়ে আছে বেশ হয়েছে। ওরা হাতি হয়ে জন্ম নেয়নি সেটা তো তাদের দোষ। আমাদের না! তাই না!

হাতি – সে এক বিশাল হাতি। হাতির মন বোঝা বড় দায়। সে কখন কোনদিকে যে যায় বোঝা যায় না। সেলিব্রিটি বলে কথা। পিছে পিছে ক্যামেরা ঘুরছেই। সাংবাদিকদের জালায় সে বড় অস্থির। কথায় কথায় “আপনার অনুভূতি কেমন” টাইপের প্রশ্ন। অনেকেই জনাব হাতিটিকে অনুভূতি জিজ্ঞেস না করেই নিজেদের মতামত দিয়ে দিচ্ছে পত্রিকায়। হাতির অনুভূতি তো হাতিই প্রকাশ করবে। তাই না? ধূর। হাতির কস্ট আমরা সবাই ফিল করি। তাই না! আহা বেচারা হাতি। এমন সময় আবারো বাসের জানালার পাশ দিয়ে কর্কট ফাটা আওয়াজ “চিকিৎসা করাইতে হইব ভাইয়া, এই দেখেন প্রেসক্রিপশন, আর কাশতে পারতেছি না, বুকটা জ্বলে যাইতেছে, ওষুধ কেনার টাকা নাই, আল্লাহ আফনার অনেক মঙ্গল করবে”। “আরে! আপনার কাশি তো আমার কি! যান এখান থেকে, শান্তিতে জ্যামেও বসে থাকতে দিবেন না নাকি”? – এটা বলে বিদায় করলাম ৭০ বছরের কি এক বুড়া ক্রাচে ভর দিয়ে হেটে আসার আর জায়গা পায় নাই”।

কি জানি বলছিলাম, ওহো, হাতির কস্ট। আহা, হাতিটার কত কস্ট। পথ ভুলে চলে এসেছে। আমাদের সবাইকে ইমোশনাল করে ফেলেছে একেবারে। চোখের পানি নাকের পানি একাকার হয়ে যাচ্ছে। “ব্রেকিং নিউজঃ হাতি উঠে দাড়িয়েছে” – ওয়াও – লাইভ দেখানো হচ্ছে। ওহ মাই গড! ফাইনালি হাতির পায়ে শিকল, হাতি উঠে দাড়িয়েছে”। যাক শান্তি! মনে আরাম পেলাম। বাস চলে না কেন? ওমা! আবার ব্রেকিং নিউজ – “হাতি শেকল ভেঙ্গে পালিয়েছে”। ওহ, আল্লাহ, এখন কি হবে?

শুনেছি, কোথায় নাকি বন্যা হচ্ছে দেশে। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটা বিশেষ দল যদি করা যেতো ক্ষতি কমানোর জন্য…………… “চোপ বেটা, ওরা কি হাতি নাকি যে বিশেষ দল করবা? মগের মুল্লুক”?

আপনার মন্তব্য
(Visited 2 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in