বঞ্চিত চট্টগ্রাম… কেন এই বৈষম্য?

1621
SHARE

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই চট্টগ্রাম শহর হয়ে উঠে ঘোটা দেশের ব্যাবসার প্রাণ কেন্দ্র। এই শহরকে ঘিরেই দেশ আশায় বুক বেঁধেছে প্রতিনিয়ত কেননা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সিংহভাগ যোগান দেয়া হয় এই চট্টগ্রাম থেকেই তাই চট্টগ্রামকে বলা হয় বাণিজ্যিক রাজধানী। বর্তমানে প্রায় ৬০লাখ লোকের বাস শুধু চট্টগ্রাম মহানগরিতেই আর এই বিপুল পরিমাণ লোকের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্তে আছে নগর প্রশাসন তথা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ১৮৬৩ সালের ২২ জুন  চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের ৩১  জুলাই চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাম পরিবর্তিত হয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নামে। এটি বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্ত শাসিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।  ১৯৯৪সালে কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান মহিউদ্দিন চৌধুরী মূলত সেই সময় থেকেই নানা চড়াই উতরাই পার করতে হয়েছে চসিক’কে, সরকারের অবহেলা ও বিমাতাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির ফলে তৎকালীন মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী অনেক লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভিত মজবুত করতে রাতদিন পরিশ্রম করেছেন।  তিনি সিটি কর্পোরেশনকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য নানা আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন, যেটা দেশ বিদেশে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। তার এসব প্রকল্প গোটা সিটি কর্পোরেশনের চিত্রই পাল্টে দেয়, নিজস্ব আয় হতেই কর্পোরেশন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যায়। আর সবার মাঝে অলিখিত একটি ধারনার জন্ম লাভ করে তাহল সরকারের আর্থিক অনুধান বা বরাদ্দ ছাড়াই চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই সিটি কর্পোরেশনের প্রকল্প জনবান্ধব হিসেবে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের বদান্যতায় পরিছন্ন নগরী হিসেবে দেশ বিদেশে বেশ প্রশংসা আছে চট্টগ্রামের, ফলশ্রুতিতে জাপানের টোকিওতে তৎকালীন মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী উপহারস্বরূপ স্বর্ণের চাবি লাভ করেন যেটা সেসময় দেশের ভাবমূর্তিকে অনেকটাই উজ্জ্বল করে। কর্পোরেশনের পরবর্তী মেয়র মঞ্জুর আলমও উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় চেষ্টা করেছেন কিন্তু সরকারের আন্তরিক স্বদিচ্ছার ঘাটতিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০১৫ এর চসিক নির্বাচনে সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বর্তমান মেয়র যখন নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন চট্টগ্রামবাসীর মেঘের কোণে আশার আলো সঞ্চারিত হয়। সবাই ভেবে নিয়েছে এই বুজি নগর উন্নয়নে গতি সঞ্চার হবে আর পেছন তাকাতে হবেনা। কিন্তু বিধিবাম চট্টগ্রাম বিদ্বেষীরা প্রায় সবখানেই তাদের কালো থাবা বিস্তার করে রেখেছে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রতি পদে পদে তারা একের পর এক বাঁধা সৃষ্টি করছে। (১৯৯৫-২০১৫) ২০ বছর মেয়াদী চট্টগ্রাম নগর মহাপরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হয়েছে গতবছরি তবে সিংহভাগ পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরিকল্পনার মধ্যে নগরীর প্রধান সমস্যা পানি নিষ্কাশনের প্রকল্পও যুক্ত ছিল কিন্তু সরকারের আর্থিক বরাদ্দ পর্যাপ্ত না থাকায় কাঙ্কিত উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরবাসীর উপর, বর্ষা মৌসুম এলেই একেবারেই নাকাল অবস্থা। দিন দিন নগরীর উপর বহিরাগত মানুষের চাপ বাড়ছে। চট্টগ্রাম নগরে ইপিজেড ও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করে। তার মধ্যে আছে কয়েক লক্ষ নারী শ্রমিক, আরো অনেক নিম্ন বিত্তের খেটে খাওয়া মানুষ যারা চট্টগ্রাম শহরে থাকে। একদিকে অপর্যাপ্ত বাসস্থান অন্যদিকে উচ্ছিষ্ট ময়লা নগরীকে বেহাল অবস্থায় দাড় করিয়েছে। ভৌগলিক বৈশিষ্টের কারণে আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব ভিত্তিক প্রকল্প এবং সরকারের থোক ও বিশেষ অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চসিক এখনো অনেকটাই পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে আছে জনবলের দিক থেকেও। যেখানে ঢাকা দক্ষিণের পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মী রয়েছে প্রায় ৫,২০০ জন, উত্তরে প্রায় ৩,৬০০ জন সেখানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে আছে মাত্র ১,৭০০জন মত।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো জনবল কাঠামো দিয়ে বর্তমানে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয় বলে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গত ২১ জুলাই জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় অস্থায়ী ভিত্তিতে ২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, কিন্তু সে নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ৩১ জুলাই সিসিসিকে চিঠি দেয়।

ঢাকার তুলনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দ প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ। বিগত অর্থবছরে ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশন বরাদ্দ পেয়েছে প্রায় ২০০০ কোটি টাকা মত। সেখানে আয়তন এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে কোন অংশে কম না হয়েও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভাগ্যে জুটেছে মাত্র সোয়া দুইশ কোটি টাকা।

গত ১০ইআগস্ট “চট্টগ্রাম নগর উন্নয়ন সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছেন,  নগরীর উন্নয়নে তাঁর চেষ্টা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই তারজন্য প্রয়োজন সর্বমহলের সহযোগিতা। তিনি আক্ষেপ থেকে বলেছেন- দাবিমতো কর্মকর্তাদের ঘুষ দিলে থোক থেকে ৩০০ হতে ৩৫০ কোটি টাকা পাওয়া যেত আর তা না দেওয়ায় বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৮০কোটি টাকা। তিনি কোন রাখ ঢাক ছাড়াই বলেন- তাঁর কাছে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কেউ কেউ পাজেরো জিপ এবং বরাদ্দের ৫শতাংশ ঘুষ দাবী করেছেন। কি সাংঘাতিক ব্যাপার বলুনতো…! আওয়ামী লীগের তৃতীয় সারির কোনো নেতা এ ধরনের অভিযোগ আনলে বুঝতাম কাজ না পেয়েই তিনি এ রকম অভিযোগ করছেন। কিন্তু অভিযোগটি এসেছে এমন একজন মানুষের কাছ থেকে, যিনি একদিকে ৬০ লাখ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন পাশাপাশি সরকারী দলের উচ্চ পর্যায়ে প্রভাব খাটানোর বিশেষ ক্ষমতাও রাখেন। তাঁর কাছে যদি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পাজেরো গাড়ি এবং কিছু আমলা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের ৫ শতাংশ ঘুষ চাইতে পারেন, তা হলে সাধারণ মানুষকে তাঁরা কতটা নাকাল ও নাজেহাল করতে পারেন, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

এখানে আরো লক্ষণীয় ঢাকার দুই মেয়রই মন্ত্রী পদমর্যাদা পেয়েছেন সেই ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মেয়র উপেক্ষিত থেকেছেন। এখানে মর্যাদার প্রশ্ন, সন্মানের প্রশ্ন- ঢাকার সাথে একই সময়ে নির্বাচন হওয়া দেশের প্রথমসারির একটি সিটি কর্পোরেশনকে অবজ্ঞা করার হীন চেষ্টা কেন প্রশাসনে? এদিকে রংপুরের মেয়রকে দেয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রী এবং নারায়নগঞ্জের মেয়রকে দেয়া হয়েছে উপমন্ত্রীর পদ মর্যাদা। সবকিছুই আসলে পরিস্কার, চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখার হীন চেষ্টা সর্বত্রই… তাহলে কি বুজব মন্ত্রী মর্যাদা পায়নি বলেই উনারা ঘুষ চাওয়ার মত সাহস দেখিয়েছেন?  এদেশের রাজনৈতিক নেতাদের বেশিরভাগই আমলাদের ম্যানেজ করে চলেন। সেক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম হলেন চসিক মেয়র নাছির। আজকাল অভিযোগ তোলাই কঠিন কেননা শয়তানরা সংঘবদ্ধ, ইতিমধ্যে কেউ কেউ বলছেন ঘুষকে ঘুষ না বলে স্পীড মানি বলতে। কাজের অগ্রগতির জন্য দেয়া এই স্পীড মানি নাকি কোন ঘুষের পর্যায়ে পরেনা। বুঝুন অবস্থা…! যদিও মেয়র তাঁর সততায় অটুট থেকে এই অনৈতিক কাজ করেননি।

অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মেয়র নাছির হয়ত আমলাদের রোষানলে পরতে যাচ্ছেন, প্রকল্পের পর প্রকল্প জমা দিয়ে যদি বরাদ্দই না পান তবে তিনি কাজ করবেন কিভাবে? যদি এমনটা হয় তবে বিষয়টি বেশ ভয়াভহ আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে হচ্ছে। কেননা চট্টগ্রামবাসীর সক্ষমতা ইতিহাসে বেশ ভালভাবেই প্রতিষ্ঠিত –  চট্টগ্রামের স্বার্থ নিয়ে যখনি কোন অপতৎপরতা হয়েছে ঐক্যবদ্ধভাবে চট্টলবাসী তা রুখে দিয়ে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছে সেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময়কাল থেকেই।

দেশে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিকতায় বরাবরি চট্টগ্রাম উপেক্ষিত হয়েছে তাই এখানকার জনগণ এসবের তোয়াক্কা না করে ভাল করেই জানে কিভাবে মাথা উঁচু করে সন্মানের সাথে বাঁচতে হয়। একদিকে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছে এবং শহরটাকে সাজিয়েছে তাদের স্বকীয় আদলেই। যখন চট্টগ্রামের জন্য সরকারী পর্যায়ে কোন বরাদ্দ ছিলনা তখনও চট্টগ্রাম প্রমাণ করে দেখিয়েছে সরকারী সাহায্য ছাড়াই কিভাবে এগুতে হয়, কিভাবে নগরোন্নয়ন করতে হয়। আর নগর পিতার গুরু দায়িত্ব চট্টগ্রামবাসী যাকেই দিয়েছে তাদের প্রত্যেকেই চট্টগ্রামের স্বার্থ সংরক্ষণে ধর্ম বর্ণ ও রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সচেষ্ট ছিল। বলা যায় স্বার্থের ব্যাপারে চট্টগ্রামবাসী কখনো আপোষ করেনি, মাথা উঁচু করে কিভাবে বাঁচতে হয় তা অন্যদেরও শিখিয়েছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে চট্টগ্রামের প্রতি বৈষম্য শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই আর তার ধারাবাহিকতা চলে আসছে এখনো অব্দি। সাড়ে ১৩শ বছরের ধারাবাহিক এই শহর দেশের অন্য যেকোন শহরের তুলনায় নানা সূচকে অনেক বেশি এগিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ, অবহেলাসহ নানা কারণে উন্নয়নের দিক দিয়ে এই শহর পিছিয়ে পড়েছে। আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় সব জায়গাতেই একই বিদ্বেষী মনোভাব। আর যুগ যুগ ধরেই বীর চট্টলা এর জবাবও দিয়েছে নিজেদের স্বনির্ভর করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করার মাধ্যমে।

দৃশ্যত চট্টগ্রাম মহানগরের সরকারি সংস্থাগুলি এমনভাবে কাজ করছে, দেখা যায় তাদের কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। একপ্রকার ঢিমে তালে চলছে সবকিছু…

অনেকেই হয়ত বলবে তবে কি চট্টগ্রামে কাঙ্কিত উন্নয়ন হচ্ছেনা? হ্যাঁ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক স্বদিচ্ছায় কিছুটা গতি পেয়েছে বটে তবে চট্টগ্রামের মত দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের জন্য তা খুবি নগণ্য ও অপ্রতুল। এর প্রধান অন্তরায় কতিপয় আমলা যাদের কারণে সেই আন্তরিকতা বাস্তবতায় রূপ পেতে যথেষ্ট বেগ পাচ্ছে। অন্যতায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একনেকের সভায় অনুমোদনকৃত প্রকল্প আটকে যায় কিভাবে…!

সাড়ে ১৩শ বছরের ধারাবাহিক এই শহরের বন্দর দিয়েই দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আয় হয়। যা সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করে সরকার। অপরদিকে ঢাকা শহরের ইতিহাস ৪শ বছরের। এই শহরকে ব্যাবহার করে দেশের অর্জিত রাজস্ব আয়ের প্রাপ্য অংশটুকু পেলেইতো মুহূর্তে ঘুরে দাড়াতে পারে প্রাচ্যের রাজধানী খ্যাত এই নগরী। এ নগরীতো কখনো দয়ার ধার ধারেনি, চট্টগ্রামকে ব্যাবহার করে দেশের উন্নয়ন করবেন আর এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করে পদে পদে বাঁধা সৃষ্টি করবেন তাতো হয়না। এদিকে আবার চট্টগ্রামকে বলছেন বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কিন্তু কাজে কারবারে প্রায়ই দেখা যায় পশ্চাদপদ করে রাখার অপচেষ্টাই শুধু। সরকারের সদিচ্চা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কাঙ্কিত উন্নয়ন করে চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুরের আদলে তৈরি করা এখন সময়ের দাবী। কেননা দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর, পাহাড়, নদী ও সমুদ্রের সম্মিলন সেই সম্ভাবনাকেই বারংবার জাগিয়ে তুলছে। তাছাড়া অপার সম্ভাবনাময় দেশের প্রধান পর্যটনশিল্প ও এই অঞ্চলকে ঘিরে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যাক্তিদের প্রতি আহ্বান- দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলে দেশ আরো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগুবে। অন্যথায় এই হীনমন্য বিদ্বেষী মনোভাব দেশকেই একদিন পিছিয়ে দেবে।

আপনার মন্তব্য