রামপাল – পৃথিবীর ৮ম আশ্চর্য ! !

রামপাল নিয়ে তো কম মাতামাতি হলো না। আন্দোলনও কম হলো না। কেউ বড় করে, কেউ ছোট করে, যে যার মত আন্দোলন করেই গেল, এবং এখনও হচ্ছে। তবে, সেই আন্দোলন বস্তুত কোন পাত্তাই পাচ্ছে না। না পাচ্ছে তেমন একটা মিডিয়া কাভারেজ। তার চাইতে বরং বানের জলে ভেসে আসা হাতিটি সেলেব্রিটি কাভারেজ পেয়েছে প্রতিটি মিডিয়াতে। কিন্তু রামপাল বিষয়ক কোন আন্দোলনই কোন ধরনের ট্রেন্ড বা ওয়েভ সৃষ্টি করতে পারেনি। এমনকি কোনেক নায়িকার গোপন ভিডিও ফাসের খবরটি পর্যন্ত ভাইরাল হয়ে প্রতিটি স্যোশাল মিডিয়াতে উলটে ফেলছে – তাও আবার ভারতীয়, কিন্তু ট্রেন্ড চলছে এই দেশে। কিন্তু রামপাল, নাহ, সে তুলনায় পাত্তাই পায়নি। একেবারেই না। এমনকি রামপাল নিয়ে আমাদের কেস স্টাডিগুলোতেও মানুষ আসেনি এই ওয়েবসাইটে বরং সাধারন আর্টিকেলগুলোতে মানুষ গিজ গিজ করছিল।

রামপাল নিয়ে সবার এত অনীহা কেন? সুন্দরবন নিয়ে সবার এত অনীহা কেন? মিডিয়া কাভারেজও পাচ্ছে না তেমন একটা। এত বড় একটা ইস্যু, কিন্তু সে তুলনায় মানুষের পার্টিসিপেশন একেবারে নেই বললেই চলে। এমনকি রামপাল নিয়ে ফেসবুকে অনেক ইভেন্ট অনেক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানেও আসলে মানুষ যে খুব একটা এক্টিভ তা বলা যায় না। অন্তত ইস্যু ভেদে।

তবে কি মানুষ রামপাল নিয়ে চিন্তিত না? গায়ে উপরে এসে পড়েনি বলে মানুষ মোটেও গায়ে মাখছে না বাপারটি? সুন্দরবন গেলে কার কি? – এমন একটা মনোভাব নিয়েই কি আছে? নাকি আমরা সুন্দরবনের আশে পাশে থাকিনা দেখে এমনটা হচ্ছে? আমি নিজেই অনেক চিন্তা করে দেখেছি কেন এই অনীহা কিন্তু কোন উত্তর খুজে পায়নি।

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আসলে দুনিয়া উলটে গেলেও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হবেই হবে। সম্ভবত কারো বাপেরও সাধ্য নেই এটা ঠেকানোর। এসব আন্দোলনের সম্ভবত কোন মানে নেই কারো কাছে। রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপক্ষে অনেক ভাল ভাল ক্যাম্পেইন দেখেছি এর মধ্যে – কিন্তু কোন কাভারেজ নেই। কেন? ধরে নিলাম, মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ইন্টারেস্টেড না। ওকে, ফাইন। তো সাধারন মানুষের কি হয়েছে? তারাও তো পার্টিসিপেট করছে না! কেন জানি রামপাল বিষয় সবাই একটু স্থবির। সম্ভবত রামপাল হবেই। সুন্দরবন যাবেই।

এখন মনে সময় হয়েছে সুন্দরবনকে বিদায় দিয়ে দেয়ার। কি হবে? সুন্দরবনে কি আর আমরা থাকি? সেখানে তো বাঘরা থাকে। জংলীরা থাকে। আমাদের কি? সিডরের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে ঠেকিয়েছিল এই সুন্দরবন। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যের অনেকাংশে নির্ভর করছে এই সুন্দরবনের উপরেই। সুন্দরবনের মত জায়গা পৃথিবীতে আর ২য়টি নেই। পৃথিবীর প্রাকৃতিক ৭ম আশ্চর্যের ভোটে এই সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে উড়িয়ে ফেলেছিলাম। আজ সেই সুন্দরবনের ১২ টা বাজার পথে আর আমরা ভাবলেশহীন।

সুন্দরবন হয়তো পৃথিবীর প্রাকৃতিক ম আশ্চর্যের মধ্যে থাকতে পারেনি কিন্তু এটা নিশ্চিত, রামপালের বিদ্যুৎকেন্দ্র পৃথিবীর অস্টম আশচর্য হতে চলেছে। কোন বুদ্ধিতে কিসের ভিত্তিতে সুন্দরবনকে অনিশ্চিতের দিকে ঠেলে দিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কিভাবে গড়ে উঠছে – সেটা আসলেই অস্টম আশ্চর্যের মধ্যে পড়ে। আসুন আমরা রামপালকে পৃথিবীর ৮ম আশ্চর্য বানাতে ভোট দেই। ঠেকাতে যেহেতু পারিনি, তো একটু আশ্চর্য হওয়া তো আমাদের সাজেই!

এনিয়ে আমাদের কিছু ভিডিও আছে, আরো সামনে আসছে। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

আর যদি সিরিয়াসলি রামপাল ইফেক্ট নিয়ে জানতে চান এবং অন্যান্য পোস্ট গুলো পড়তে চান, তাহলে নীচের আর্টিকেল গুলো পড়ে দেখতে পারেন। ভয় নেই, মেগাবাইট শেষ হবে না খুব একটা।

রামপালের অভিশপ্ত চুক্তি

রামপালের সম্ভাব্য ১০টি বিপর্যয় ! !

রামপাল নিয়ে আমাদের কান্ড

দ্যা ‘রামপাল’ ইফেক্ট……

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in