অযথাই অলিম্পকে বাংলাদেশ!

43
SHARE

কিছুদিন আগে ইয়াহু নিউজ বাংলাদেশের অলিম্পক দল নিয়ে একটি খবর ছাপে। অলিম্পিকে বাংলাদেশের বিব্রতকর পরিস্থিতি নিয়েই তারা লিখেছিল সেদিন। নিউজ টাইটেলটির বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় – “জনসংখ্যার দিক থেকে ৮ম বৃহত্তম রাষ্ট্র বাংলাদেশ কেন আজ পর্যন্ত একটা মেডেলও জেতেনি”। জেফ আইন্সবার্গ নামক একজন ফিচার রাইটার এটি লিখেছেন। পুরো আর্টিকেলের আপাদমস্তক আসলে বাংলাদেশের বিব্রতকর অবস্থানের একটি প্রতিচ্ছবি। সে কারন খুজে বের করার চেষ্টা করছে কেন বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত একটা মেডেলও জেতেনি অলিম্পিকে।

শুধু পার্টিসিপেট করার জন্যই বাংলাদেশ অলিম্পিকে যায়। মেডেল জেতার জন্য না। আসলে এই কথাটা হয়তো অনেকাংশে সত্য। অলিম্পিক দল নিয়ে এদেশে তেমন একটা মাতামাতিও হয় না যেমনটা হয় ক্রিকেট নিয়ে। কিন্তু অলিম্পিকে তো আর ক্রিকেট নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাওয়ার আগে থেকেই বাংলাদেশ অলিম্পিকে যোগদান করছে নিয়মিত – ১৯৮৪ সাল থেকে। বাংলাদেশের প্রথম অলিম্পিয়ান ছিলেন সাঈদুর রহমান ডন যিনি ১০০ এবং ২০ মিটার দৌড়ে অংশগ্রহন করেছিলেন। সেসময় তার বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তার দৌড়ানোর জন্য এক জোড়া জুতো ছিল না, ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কোন ট্রেনিং পাননি। আর ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত সিনথ্যাটিক ট্র্যাকে দৌড়ানোর কোন সুযোগ পাননি।

এগুলো সবই ৩২ বছর আগের কথা। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই অবস্থার কোন পরিবর্তন হলো না। দেশের অলিম্পিক দলকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। অলিম্পকে যাবার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার তা তাদের কোনদিনও থাকেনা। না থাকে ট্রেনিং, না থাকে কোচিং। কোন পৃষ্ঠপোষকও নেই। কোন রকমে একটা দল পাঠানোর জন্য অলিম্পিকে বাংলাদেশ। আর প্রতিবারই ঠিক একই ব্যাপার। খালি হাতে দেশে ফেরা। অথচ দেশে কিন্তু প্রতিভাবান অ্যাথলেট আছেন। তাদের ট্রেইন-আপ করলে ভাল সুফল পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের কোন টার্গেট নেই। আমরা অলিম্পকে যাই শুধু একটু ঘুরার জন্য, একটু পার্টিসিপেট করার জন্য আর যাওয়ার পর পরই ফিরে আসি। এমনকি বার্মাও অলিম্পিকে মেডেল জিতে ফেলেছে কিন্তু আমরা এখনও পারি নি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলার এই আসরে বাংলাদেশের এমন অবস্থান আমাদের জন্য একটু বিব্রতকরও বটে। অলিম্পিক দলকে আরো প্রফেশনালি ট্রেইন করতে হবে। টার্গেট থাকতে হবে,পৃষ্ঠপোষক থাকতে হবে, ভাল কোচ থাকতে হবে। কিন্তু আপাতত এসবের কিছুই নেই। এবারের অলিম্পিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল গলফার সিদ্দিকুর রহমান্বী। একমাত্র তিনিই মেরিট লিস্টে অলিম্পিকে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। আর বাকী যারা গেছেন, তারা সবাই ওয়াইল্ড কার্ড সিলেকশনের মাধ্যমেই গিয়েছেন অলিম্পিকে।

যাই হোক, এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। আগামী অলিম্পিকও যেন এমন না হয়। আর কত এভাবে চলবে? এরকম দায়সারা গোছের হলে অলিম্পিকে বাংলাদেশের না গেলেও চলবে।

ও হ্যাঁ, আমরা নতুন একটি মিউজিক ভিডিও রিলিজ করেছি আজ। হারিয়ে যাওয়া একটি গানকে নতুন রুপে চিত্রায়িত করেছি। দেখতে চাইলে এই লিঙ্কে চলে যান – https://youtu.be/Lp0FvpRtlTg

 

আপনার মন্তব্য