চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরনের মত ঘটনা যদি রামপালে হয় তাহলে কি হতে পারে?

37
SHARE

গতকাল চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি কারখানায় গ্যাস বিস্ফোরনের কারনে আসে পাশে এলাকায় খুব দ্রুত অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। আশে পাশে বলতে ২০-৩০ কিমি রেডিয়াসের মধ্যে বা তারও বেশী এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে বাতাসের সাথে খুব দ্রুত। কারন পাশেই সমুদ্র। বাতাস খুব ভারী হয়ে উঠে। প্রচন্ড দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে চট্টগ্রামের বাতাস। কারখানার আশেপাশের মাছের ঘেরে মাছ মরে ভেসে উঠে। এসব ক্ষয়ক্ষতি কিন্তু একেবারে ইনিশিয়াল স্টেজে। নানা খবর মতে প্রায় ২৫০ টন অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরিত হয়। প্রথম দিকে যদিও তারা বলেছিলেন ৫০০টন গ্যাস ছিল সেই ট্যাংকে।

এখন, ব্যাপারটা যখন প্রথম ঘটেছিল, তখন কিন্তু নিয়ন্ত্রন করা যায়নি ছড়িয়ে পড়ার আগে। যখন কারখানা থেকেও অনেক দুরের এলাকাগুলতে বাতাসে অ্যামোনিয়া গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল, তখন সবে মাত্র শুরু হয়েছিল নিয়ন্ত্রনে আনার কর্মকান্ড।  যাই হোক, আশে পাশে খুব একটা বনায়ন নেই। সবই আবাসিক এলাকা অথবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা।

এরকম একটা ঘটনা বা দুর্ঘটনা যদি সুন্দরবনের রামপালে ঘটে তাহলে কি হতে পারে বলে আপনারা মনে করেন? বিদ্যুৎকেন্দ্রের খুব একটা দূরে নয় সুন্দরবন। কয়লা ভিত্তিক এক কেন্দ্রের বায়ূ দূষন ঠিক কতটা প্রকট হতে পারে? আর যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে তো?

এধরনের ঘটনা সাধারনত নিয়ন্ত্রনের বাইরে থাকে। সুন্দরবনে যখন তেলবাহী জাহাজ ডুবে যায়, তখন কিন্তু সেই পানি দূষব বা তেল ছড়িয়ে পড়া কেউ বন্ধ করতে পারেনি। ক্ষতি যা হবার কিন্তু হয়ে গিয়েছিল। এধরনের দুর্ঘটনার প্রসারতা এত বেশী থাকে যে মানুষের নিয়ন্ত্রনের অনেক বাইরে থাকে সবসময়। অন্তত অল্প সময়ে নিয়ন্ত্রনে আনার মত নজির আমাদের এই উপমহাদেশে নেই।

প্রশ্নটা সবার কাছে উন্মুক্ত। যদি চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরনের মত কোন ঘটনা রামপালে ঘটে তাহলে কি হতে পারে। উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে যাদের জানা আছে তারা কি বলতে পারবেন? সমীকরনটা কিন্তু খুব সহজ।

ছবি – বিডিনিউজ২৪

আপনার মন্তব্য