সাইবার আক্রমণের তীব্র ঝুঁকিতে বাংলাদেশ…!!

31
SHARE

সাইবার হ্যাকিং বিশ্বব্যাপী একটি আলোচিত নাম, হ্যাকিং হচ্ছে কারো কম্পিউটারে বা কম্পিউটারের নেটওয়ার্কে অবৈধ অনুপ্রবেশ করা।  চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেয় সাইবার অপরাধীরা। আর তখন থেকেই বেশ জোরে সোরে বাংলাদেশে এ বিষয়টি আলোচিত হয়। হ্যাকাররা এ অর্থ সরাতে আন্তব্যাংক অর্থ স্থানান্তরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত মেসেজিং সিস্টেম সুইফটের নেটওয়ার্ক হ্যাক করে অপরাধীরা।

গত ৭ই জুন মাইক্রোসফট এশিয়া প্রকাশ করছে তাদের ম্যালওয়্যার সংক্রমণ সূচক ২০১৬। একইসঙ্গে রয়েছে এই এলাকায় সাইবার আক্রমণ চালানোর জন্য ব্যবহৃত শীর্ষ ম্যালওয়্যারের তালিকা। এই সূচকে ম্যালওয়্যারের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়! এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ম্যালওয়্যার আক্রমণের মাত্রানুযায়ী এ তালিকা তৈরি করে মাইক্রোসফট এশিয়া। আর এই সূচকে উঠে এসেছে  বিশ্বব্যাপী ম্যালওয়্যারের আক্রমণের ঝুঁকিতে সবচেয়ে অগ্রগামী এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল। এশিয়ার অনেক সরকারী, আধা সরকারী বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেরই সাইবার হামলা ঠেকানোর যথেষ্ট সক্ষমতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ম্যানডিয়ান্ট বছরব্যাপী এক গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে। আগে চীনা সাইবার অপরাধীরা সবচেয়ে বেশি হামলা চালাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নেটওয়ার্কে। এখন তাদের পছন্দ এশিয়া কেননা এ অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তু অন্যদের তুলনায় সহজ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় বিগত ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলার ঘটনা ব্যাপক হারে কমেছে আর অন্যদিকে এশিয়ার উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা স্বাভাবিক এর তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। তবে এক্ষেত্রে ইউরোপ, আমেরিকার তুলনায় এশিয়ার কোম্পানিগুলোর নিজেদের নেটওয়ার্ক রক্ষা এবং এ ধরনের সাইবার হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা অনেকটাই কম। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানে মৌলিক কাঠামো, পরিকল্পনা, বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। ম্যানডিয়ান্ট তাদের গবেষণা অনুযায়ী বলছে, এশিয়ার কোনো নেটওয়ার্কে একটি সাইবার হামলা হলে এবং হ্যাক করলে তা বুঝতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সময় লাগে গড়ে অন্তত ৫০০ দিন। তাই বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে এশিয়া এখন সাইবার হামলার সহজ ক্ষেত্র। ম্যানডিয়ান্টের পরিচালিত গবেষণা ও কিছু পরীক্ষায় উঠে এসেছে- দক্ষ হ্যাকারদের দ্বারা একটি কোম্পানির নেটওয়ার্ক হ্যাক হতে সময় লাগে মাত্র কয়েক দিন কিন্তু হ্যাকিংয়ে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানের তা নজরে আসে প্রায় ৫০০ দিনের মত সময়ে। গবেষণায় আরো দেখা যায়,  প্রতিটি নেটওয়ার্কে সাইবার হামলা চালিয়ে গড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ জিবি ডেটা সরিয়ে নেওয়া যায়। বিষয়টি আমাদের মত ক্রমবর্ধমান উন্নয়নশীল দেশের জন্য কতটুকু ভয়াবহ হতে পারে চিন্তা করুন! ছয় বছর ধরেই বিশ্বের সাইবার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা করছে ম্যানডিয়ান্ট। এশিয়া নিয়ে এবছরই তারা বিশেষ গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি আছে- বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক,  আধুনিক শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার নেটওয়ার্ক এবং ব্যাংকিং সেক্টরগুলো। মূলত এগুলোই এখন হ্যাকারদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এর কমিউনিকেশন সুইফট সিস্টেমটি উন্নত হওয়া সত্ত্বেও অসাবধানতা বশত সিস্টেমের মধ্যে একটা ম্যালওয়্যার ঢুকেছিল। আর এই হ্যাকিং জালিয়াতির মাধ্যমে একই দিনে ২৩টি নির্দেশে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কাছেও এ ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও ম্যালওয়্যারের সাথে এখানে ইনসাইডাররা জড়িত থাকার সম্ভাবনাটাও জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফরেনসিক এক্সপার্টরা এ বিষয়ে ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই ম্যান্ডিয়ান্টের ফরেনসিক বিভাগ ঘটনাটির তদন্তে আছে। কিন্তু এই অসাবধানতার ধরুন পাচার হওয়া টাকার একটি বিরাট অংশ  রিজাল ব্যাংক থেকে চলে গেছে ক্যাসিনোতে আবার ক্যাসিনো থেকে গেছে ফিলরেমে(মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান)। ফিলরেম থেকে আবার চলে গেছে হংকংয়ে, আর এখন এটা আদায় করা অনেকটাই কঠিন। তাই সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে ভবিষ্যৎ কোন বিরাট ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে।

আপনার মন্তব্য