শুরু হয়ে গেছে জংগী তামিম হত্যার জন্য “চোখের পানির” গড়িয়ে পড়া

82
SHARE

যেমনটা ভেবেছিলাম ঠিক তেমনই। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে সকালের অভিযানে নিহত হওয়া গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড, ব্রেইনোয়াশ বাহিনীর পালের গোদা, তথাকথিত নিরীহ মানুষকে মেরে যারা নিজেদের বীর দাবি করে তাদের ত্যানা, না নেতা, জংগী তামিমের মৃত্যুর জন্য কান্না। অবাক হচ্ছেন? কদিন আগেই তো নারকীয়ভাবে গুলশানে এত মানুষকে মেরে ফেলল এই নরপশুরা। আজ সেই জংগীদের নেতার মৃত্যুতে কত মানুষের চোখের পানি একেবারে নাক দয়ে গড়িয়ে পড়ছে এই মুহুর্তে !

খবর যখন আসা শুরু করেছে তখন থেকেই স্যোশাল নেটওয়ার্কে কিছু সিলেক্টেড মানুষের সেই লেভেলের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। হঠাত করে তাদের মানবাধিকার চিন্তা আর সুশীল হয়ে উঠার ব্যাপারটা রীতিমত পৃথিবীর অস্টম আশ্চর্য বললেও ভুল হবে! নানারকম প্রশ্ন তুলছেন তারা। যেমন  –

কেন তামিমকে মেরে ফেলা হলো?

বাচিয়ে রেখে তথ্য কেন  বের করা হলো না?

তামিমকে মেরে ফেলে সরকার কি লুকোতে চাইছে?

কি কারনে তামিমকে মারা হলো?

অনেকেই এবার একটু সতর্ক পন্থা বেছে নিয়েছেন এবার। কারন গতবার কল্যানপুরের অভিযানে সেই ধরনের পাবলিক হ্যারেজমেন্টের শিকার হয়েছিলেন অনলাইন এমানুষ গুলো। তাদের সুর এখন অনেকটা এমন – “তামিমে মরেছে…ঠিক আছে… ভাল কথা…অভিনন্দন! তবে যে লাউ সেই কদুই। বাচিয়ে রাখলে ভাল হত”।

আবার অনেকেই আমাদের রিসেন্ট কয়েকটা পোস্টে নিজেদের লজ্জার বালাই না করে একেবারে নিজেদের অভিসন্ধি উগলে দিয়েছেন। বিশ্বাস না হলে গত ৬ ঘন্টায় আমরা যেসব পোস্ট করেছি তার কমেন্ট সেকশন চেক করে দেখতে পারেন। মজা পাবেন।

আবার অনেকেই গোয়েন্দাগিরি শুরু করে দিয়েছেন। জানেন নিশ্চয় এখন FID আছে অর্থাৎ ফেসবুক ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট। যারা অধিক লাইকের আশায় নিজেরাই গোয়েন্দা হয়ে উদ্ভট সব পোস্ট বের করেন। এদের বেশীরিভাগই আবার পত্রিকা চালায় – যেমন চুলকানি২৪ ডট কম, মলম২৪ ডট কম, কনস্টিপেশন৪৮ ডট কম ইত্যাদি ইত্যাদি। বিডিনিউজ ২৪ কি এক ২৪ লাগালো অমনি এই একই ২৪ লাগিয়ে দেশে এখন পত্রিকার সংখ্যা মানুষের সংখ্যার চাইতে বেশী হবার জোগাড়!

আরও মজার ব্যাপার হলো আমাদের ইনবক্স! এক ব্যাক্তি তো আমাদের পোস্টের জন্য রীতিমত বাপ-মা তুলে গালি! বলে “ওরা জংগী তোদের কে বলেছে”!!!! ড্যাম ইট। পরে আইডি চেক করে দেখলাম ভুয়া আইডি। আর লাইক দেয়া আছে “সানি লিওন”, সেলিনা গোমেজ, রাধিকা আপটে ইত্যাদি পেজে। মজার তাই না?

আবার ব্যাপারট অন্যখাতে নেয়ার জন্য কিছু বান্দার চেষ্টার অন্ত নেই। এখানে তারা রাজনীতির আশ্রয় নেয়। যেমন “আওয়ামীলীগ নেতার ছেলেও তো জংগী, তার কথা বলে না কেন” অথবা “শুধু কি জেএমবি জংগী।

আসলে এসব মানুষের সমস্যাটা ঠিক কোন জায়গায় বুঝিনা। এতটুকু বুঝি দুনিয়ার সবকিছুতেই তাদের কিছু একোটা বলতে হবে। কিন্তু তাই বলে এই অবস্থা! সমালোচনা ভাল কিন্তু এধরনের সমালোচনা কিন্তু লেজ বের করে দেয় কোনদিকে জানি।

যেদিন প্রথম গুলশান হামলার ঘটনা ঘটল, সেদিন থেকে আমরা বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট থেকে একটি দায়িত্ব নিয়েছিলেম নিজে থেকেই – সেটি হলো – মানুষের মন থেকে এসব আইএস বা জংগী ভীতি দূর করা। কারন আমরা একটা জিনিষ বুঝতে পেরেছিলাম – আইএস বা এধরনের সন্ত্রাসীদের মূল অস্ত্র মানুষের মনের ভীতি। এরা কোন সাহসী বীর পুরুষ না। সেদিন থেকে প্রায় প্রতিটি দিন আমরা মানুষকে উদবুদ্ধ করার চেষ্টা করে গেছি যাতে মানুষ এদের ভয় না পায়। এদের জন্য পাত্তাও না দেয়। কাজটাতে কতটুকু সফল জানিনা, কিন্তু এতটুকু জানি, একটূ হলেও কাজ হয়েছে।

আমরা সবসময় বলে এসেছি, এসব জংগীদের বাংলাদেশের মত দেশে কোন স্থান নেই। না তারা কোনদিন কিছু করতে পারবে না অতীতে পেরেছে। বাংলাদেশের মানুষ সরল কিন্তু জায়গাতে আঘাত করলে শুধু আই এস না, এদের মত ১০০ গোষ্টীর গুস্টি উদ্ধার করে প্যাকেট করে তাদের সোর্সে পাঠিয়ে দিতে পারে। এবং এসব জংগী অভিযান তারই উদাহরন।

আর যারা জংজ্ঞী তামিম হত্যার প্রতিবাদ করছেন, নানা গল্প ফাঁদছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি – দয়া করে নিজেদের এভাবে ছোট করবেন না। বাংলাদেশীরা অনেক গর্বিত জাতি। সবার গর্বে এভাবে পানি ঢেলে দিবেন না।

আর পুলিশ বাহিনীকে একটা বাংলাদেশীজম স্যালুট। ধন্যবাদ আমাদের একটু নিরাপদ করার জন্য।

এনিয়ে আমাদের কিছু ভিডিও আছে, আরো সামনে আসছে। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য