সাফল্যের পথে বাংলাদেশ…

42
SHARE

সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসবাদ অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদে সহায়ক অপরাধগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ(ডিএমপি)’র নতুন ইউনিট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কার্যক্রম শুরু হয়েছে পুলিশের চৌকস ৬০০জনের ও বেশি সদস্য নিয়ে। সম্প্রতি যুগ্ম পুলিশ কমিশনার থেকে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মনিরুল ইসলাম এই ইউনিট এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে একজন ডিআইজির পাশাপাশি একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, চারজন উপকমিশনার, ১০ জন অতিরিক্ত উপকমিশনার, ২০ জন সহকারী কমিশনার, ৪০ জন পরিদর্শকসহ অন্যান্য অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে চারটি বিভাগে বিভক্ত হয়ে এই ইউনিট কাজ করবে। কাজের ক্ষেত্রগুলি হল- কাউন্টার টেররিজম, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম, ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম। এসব বিভাগ পূর্বে ডিবিতে ছিল যা এখন সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ইউনিটের কার্যক্রমে আছে ইন্টেলিজেন্স কালেকশন, অপারেশন পরিচালনা, মামলা রুজু, মামলা তদন্ত ও তদন্ত-পরবর্তী সন্ত্রাসীদের পর্যবেক্ষণে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ইউনিটটি গঠনের পাঁচদিনের মাথায় চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় রাজধানীর বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও টঙ্গিতে একই সময়ে একযোগে অভিযান চালায়। এর মধ্যে বাড্ডার সাতারকুল এলাকার জিএম বাড়ির একটি জঙ্গি আস্তানা থেকে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান সংলগ্ন একটি হাউজিংয়ের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক উদ্ধার করে ডিবি ও সিটি ইউনিট। এছাড়া ইয়াবা চালান ধরতে সিটি ব্যাপক অভিযান শুরু করে যা জনগণের কাছে বেশ প্রশংসা লাভ করে। পরবর্তীতে ছোট খাট আরো বেশ কিছু সফল অভিযান সিটি ইউনিট এর কার্যক্রমের দ্বার প্রশস্ত করে দেয়। ডিবির সব গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটই এখন সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন ডিবির কাউন্টার টেররিজম সেলকে সিটিতে ট্রান্সফার করা হয়েছে। তাছাড়া ডিবির সাইবার ক্রাইম টিম, অর্থ সংক্রান্ত অপরাধ টিম, বোম ডিস্পোজাল টিমসহ আরো ২০ থেকে ২২ টি টিম কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সোয়াত সিটিটিসি’র সাথে একীভূত হয়ে জঙ্গি দমন অপারেশনগুলো পরিচালনা করছে।

অপারেশন থান্ডারবোল্ট সফল হওয়ার পর গুলশান হামলার তদন্তের ভার সিটিটিসি’র উপর পড়ায় তারা ব্যাপক অনুসন্ধানে নামে জঙ্গি কানেকশন ও এর মূল উৎপাটনে। ফলশ্রুতিতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে কল্যাণ পুরের জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন স্টর্ম-২৬ পরিচালনা করে ৯জঙ্গি নিহত ও একজনকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ নারায়নগঞ্জের পাইক পাড়া নামক জনবহুল এলাকায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশ সদর দফতরের এলআইসি শাখা যৌথভাবে ‘অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭’ অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গিদের মাস্টার মাইন্ড তামিমকে তার জঙ্গি দুই সহযোগীসহ নিহত করে। মূলত ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার হওয়া এক জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতেই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মাস্টারমাইন্ড ও কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানার সদস্যদের ব্যাপারে জানতে পারে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) সদস্যরা, তারা নিশ্চিত হন নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায়  বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে একাধিক জঙ্গি। কালক্ষেপণ না করে শুরু হয় সিটিটিসি’র বিশেষ অভিযানের প্রস্তুতি এবং সাথে বিশেষ নজরদারি। টানা দুই দিন কড়া নজরদারির পর সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে অভিযান সফল করা হয়। সুতরাং এতটুকু নিশ্চিত যে, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) এমন অভিযানগুলো অব্যাহত থাকলে খুব বেশি সময় লাগবেনা বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের বীজ ধ্বংস করে দিতে। আর সিটিটিসি’তে এমন কিছু চৌকস অভিজ্ঞ সৎ পুলিশ কর্মকর্তা আছেন যাদের প্রতি জনগণের আস্থা শতভাগ। তাই দৃঢ়তার সাথে সবাই বলি জঙ্গিবাদ রুখে দিয়ে দেশ এগুবেই…

আপনার মন্তব্য