সন্ত্রাস বিরোধী সহযোগিতার আড়ালে মার্কিন টোপ…

30
SHARE

স্বল্প সময়ের সফরে গত ২৯ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। যদিও এতে উচ্ছ্বাসিত হওয়ার মত তেমন কিছু ঘটেনি।  সকাল সোয়া ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি দুবার তার টুইট বার্তায় প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়ন গল্পের। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এক টুইট বার্তায় জন কেরি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের একটি অসাধারণ উন্নয়ন গল্প আছে। আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমি আনন্দিত।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সৌজন্য সাক্ষাতে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাঁদের অনেক বিশেষজ্ঞ আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গী হতে চায়। বেশ ভাল ইচ্ছাটা যদি নিঃস্বার্থ হত কিন্তু তাতো নয় উদ্দেশ্যতো অন্যকিছু, তিনারাতো সহযোগিতা বা সাহায্যের নামে কোন দেশে ঘাঁটি করে বসলে সে দেশের প্রেমে পড়ে আর যেতেই চাননা। এ পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক দেশেই এ নজির ভালভাবেই তারা স্থাপন করেছে, সেসব দেশগুলো ভালভাবেই তাদের সহযোগিতার গুরুত্ব উপলব্দি করছেন। না পারছেন গিলতে না পারছে উগলে দিতে, এই হল অবস্থা। আমাদের এওতো অজানা নয় যে যুদ্ধের নামে প্রতিপক্ষকে ভিন্ন কৌশলে অস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধকে দীর্ঘায়ীত করতে, যার ফলে যেসব দেশে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আছে সেখানে উল্টো বিপ্লব ও গৃহযুদ্ধ ত্বরান্বিত হয়েছে। সে যাই হউক অন্য দেশে কি হচ্ছে সেটা নাই বা ভাবলাম, কিন্তু ভয়টা এখন ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে এই কারনেই- যেইনা বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তার অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নেয়ার পথে হাঁটছে সেই মুহূর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মত মার্কিন প্রশাসনের একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ঝটিকা সফর করে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের নামে টোপ দিয়ে গেলেন। বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র, প্রকৃতি তার পুরুটাই উজাড় করে দিয়েছে এই দেশ মাতৃকায়। তাই এই সম্ভাবনাকে টার্গেট করে স্বাধীন পরবর্তী অনেক দেশই বিভিন্নভাবে চেয়েছে এদেশের অর্থনীতিকে গ্রাস করতে যা এখনো অব্যাহত কিন্তু পেরে উঠছেনা। হয়ত আমাদের রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতা ও কারিগরি দক্ষতার কিছুটা অভাবের কারনে সেভাবে আমরা এগুইনি কিন্তু আমাদের দেশের ভৌগলিক অবস্থান এবং দেশে সঞ্চিত প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে জাগিয়ে রেখেছে, ফলে অনেক দেশের কাছেই তা লোলুভ দৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে। যেটা বলতে চাচ্ছি- যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সাহায্য করার মন মানসিকতাসম্পন্ন হলে তারা অনেকভাবেই সেটা করতে পারত। তারাতো আমাদের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়ে আমাদের অর্থনীতির গতি একপ্রকার রুদ্ধ করে দিয়েছে। যদি এমন দরদ থাকতো তবে তাদের উচিৎ ছিল সবার আগে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিয়ে এদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করা, এখন সেই পথে না গিয়ে বলছে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সহযোগিতা করবে। কিন্তু কেন? বাংলাদেশতো সেই অর্থে এখনো সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকিতে পড়েনি…! যেমনটা পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক কিংবা সিরিয়ায় আছে, তবে কেন এমন আগ্রহ…?! হয়ত সাম্প্রতিক কিছু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে তবে আমাদের প্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতায় তা সহজেই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। আর এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই যে বাংলাদেশ সন্ত্রাসের চারণ ভুমিতে পরিণত হয়েছে। এদেশের সরকার এসব বিষয়ে তার বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে কোনরুপ আপোষ না করেই। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী তাই প্রমাণ করে। আর আমরা মনে করি বাংলাদেশ তার নিজস্ব শক্তি দিয়েই সন্ত্রাসবাদের এসব বীজ উৎপাটন করতে পারবে। তবে হ্যাঁ যদি সন্ত্রাসবাদে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতেই চায় সেটা তথ্য ও প্রযুক্তি দিয়েই করতে পারে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমনটি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। দেশের আপামর জনসাধারণ ও তাই চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহটা এখনো অস্পষ্ট- তারা কিভাবে সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে…!  তারা যদি তথ্য ও প্রযুক্তির বাইরে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদ রোধে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে চায় তবে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। স্বাভাবিকভাবেই উত্তরটা পরিস্কার, এমনটি হলে আমাদের ভৌগলিক এবং প্রাকৃতিক অপার সম্ভাবনাকেই গ্রাস করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। কেননা এশিয়ার ভৌগলিকগত অবস্থানে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় এশিয়ার উপর ক্ষমতায়ন ও প্রভাব বিস্তারে এদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হতে পারে উৎকৃষ্ট অঞ্চল। সুতরাং মার্কিনীদের কোন ছল চাতুরীতে পা না দিয়ে দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে মনোনিবেশ করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ, তাই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবেই দেখতে চাই।

আপনার মন্তব্য