ইসলাম ধর্মকে “সন্ত্রাসবাদ” ব্র্যান্ডিং । কারা লাভবান হচ্ছে ?
August 2, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

ইসলাম ধর্মকে “সন্ত্রাসবাদ” ব্র্যান্ডিং । কারা লাভবান হচ্ছে ?

ইতিমধ্যে অনেকেই হয়তো বুঝতে পেরেছেন যে কোন একটা বিশেষ কারনে একটা বিশেষ গোষ্ঠী একটা বিশেষ উপায়ে ইসলাম ধর্মকে রিব্র্যান্ডিং করছে সন্ত্রাসবাদের আচল ধরে। আমেরিকার টুইন টাওয়ার হামপার পর থেকে আজ পর্যন্ত একটা সুনির্দিষ্ট উপায়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। আর এটি কোন ছোটখাটো কর্মযজ্ঞ না। এখানে জড়িত আছে অনেক দেশ, এখানে জড়িত আছে অনেক ধরনের কন্সপিরেসি।

যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে পুরো বিশ্বে তাঁদের বেশীরভাগই সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ কোন কারনে। “প্রক্সি ওয়ার” ব্যাপারটাই সেই মূল কারন। আল-কায়েদার কথাই ধরেন। ওসামা-বিন লাদের তো একসময় আমেরিকার কাছের বন্ধু ছিল, বুশ ফ্যামিলির ব্যবসায়িক পার্টনারও ছিল। লাদেনকে ট্রেইন করেছিল আমেরিকার সিআইএ। সেই লাদেনই ছিল আল-কায়েদার প্রধান। এরপর টুইন টাওয়ার হামলা হলো। আক-কায়েদার পিছে উঠে পড়ে লাগল পুরো পশ্চিম। আফগানিস্তান শেষ হলো। ইরাক শেষ হলো অনেকটা সেই সূত্র ধরে একটা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে একের পর এক ঘটনা, যুদ্ধ এবং অশান্তি। ও হ্যা, এর মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশী তেল কোম্পানীতে ভরে গেল। অনেক জল্পনা, কল্পনা আর নাটক শেষে লাদেনকে হত্যা করা হলো, সাদ্দামকে ফাঁসি দেয়া হলো, লিবিয়ায় আর সিরিয়াতে আইএস নামের ভাইরাস ঢুকে গেল। এক সময় আল-কায়েদা ছিল আমেরিকার বন্ধু – রাশিয়াকে শায়েস্তা করার জন্য। এরপর সেই আল-কায়েদা হলো আমেরিকার শত্রু। আমেরিকার অস্ত্র-সস্ত্র দিয়েই চলত আল-কায়েদার যুদ্ধ। এরপর আইএস – তাঁদের অস্ত্র-সস্ত্র গুলো কোথা থেকে আসে এটা এখন সবাই জানে। তবে ব্যাপারে আমেরিকানদের বক্তব্য হলো তারা ইরাক যুদ্ধে যেসব অস্ত্র ফেলে এসেছিল, সেগুলোই এখন আইএস এর হাতে। মজার তাই না?

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর দিকে খেয়াক করে দেখেন। মুসলমানদের মধ্যে কোন ঐক্য নেই। এক দেশ আরেক দেশের পিঠে লেগে আছে। ইরান এখানে বেশ বড় একটা ফ্যাক্টর। ইরানকে বাগে আনা একটু কঠিনই বটে। ওদিকে সৌদি-আরব লেগে আছে ইয়েমেনের পেছনে। ইরাক কয়েকভাগে বিভক্ত। সিরিয়া, লিবিয়া – এসব দেশে তো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সবাই একটা প্রক্সি যুদ্ধে আছে। শান্তি নেই কোথাও। ইসলাম ধর্মকে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে যেভাবে খুশী। “ইসলাম”-কে “ত্রাস” বলে আখ্যায়িত করছে পশ্চিমা বিশ্ব। অথচ পাইকারী হারে মুসলমানরাই মরছে। বছরের পর বছর ধরে প্যালেস্টাইনে মরেছে কত মুসলমান। কিন্তু সেসব নিয়ে কথা বলার কেউ নেই। এদিকে ইসরায়েল যাই করে তাই রাইট। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র এই ইসরায়েল কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব তাঁদের বড় বন্ধু। আইএস এর বাগদাদী নাকি এই ইসরায়েলী মোসাদের কাছ থেকেই ট্রেনিং নেয়া – হ্যাক করা গোপন নথিতে এসব তথ্য বের হয়ে এসেছে যা করেছে স্নোডেন। আল্লাহর নাম নিয়ে মানুষ জবাই করে তারা ভিডিও ছাড়ে ইন্টারনেটে আর পুরো বিশ্বকে দেখানোর চেষ্টা করছে – দেখ ইসলাম কত ভয়ংকর! মানুষ এখন মুসলমান বললেই ভয় পায়। বিদেশের যেকোন এয়ারপোর্টে মুসলমানদের করা হয় স্পেশাল চেক। ভিসা দিতে করা হয় ইন্টেন্সিভ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক। গালে দাড়ি আর মাথায় টুপি দেখলে তো আর কথাই নেই। প্লেন থেকে নামিয়ে দেয়া হয় মুসলমানদের যাত্রীদের যদি তারা “আল্লাহর” নাম নেন একটু আওয়াজ করে।

ঠান্ডা মাথায়, বুঝে শুনে, ধীরে ধীরে আইএস এর মত নানা ধরনের সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরী করে ইসলামকে ঠিক এভাবেই আঘাত করে যাচ্ছে একটা পক্ষ। আর সেই পক্ষটাই নিয়ন্ত্রন করে বিশ্ব অর্থনীতি। যুদ্ধ যেখানে ব্যবসা সেখানে। সাপ্লাই সেখানে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র-গোলাবারুদ, মিলিয়ন ডলারের সাপ্লাই। সেই সাথে আছে নতুন এলাকার নিয়ন্ত্রন এবং সে এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরন। যেমন তেল! সৌদি-আরবকে দেখেন, আজ তারা আমেরিকার সবচেয়ে বড় গোলাম। আমেরিকা যা খুশি তাই করায় তাঁদের দিয়ে। তাঁদেরও কোন লজ্জা নেই। অবশ্য থাকার কারনও নেই। তাদের হয়তো অঢেল ধন-সম্পত্তি আছে কিন্তু অতটুকুই। না আছে জ্ঞান না আছে প্রযুক্তি। অন্যদিকে ইরানকে দেখেন। শিক্ষিত, জ্ঞানী আর বিচক্ষন ইরানের সরকার বা জনগন। জ্ঞান-বিজ্ঞান বা সাহিত্য চর্চা – সবকিছুতেই তারা এগিয়ে আর উন্নত। আর তাই এখন পশ্চিমা বিশ্বের চক্ষুশূল। সুতারাং ইরানকে দমাও – এই নীতিতে আছে তারা এখন। কিন্তু ইরান কি কম যায়?

আপনার মন্তব্য