বাংলাদেশীদের প্রতি ভারতীয় বিএসএফ এর চরম বাড়াবাড়ি।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ ৪,০৯৬ কিলোমিটার এর আন্তর্জাতিক সীমানা আছে। কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে বসবাসকারী মানুষদের জন্য এই অঞ্চল একপ্রকার বধ্যভূমি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের জন্য এক আতংক। এর কারন টহলরত অবস্থায় দেখা যায় ছোট খাট বিষয়ে তারা বাংলাদেশীদের উপর নির্দয়ভাবে অবাদে গুলি চালিয়ে দেয়। এইতো আজ শুক্রবার ভোর রাতেই লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের বুড়িরহাট সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে মহিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী মালগাড়া গ্রামে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর বক্তব্য,  ৯১৫ নম্বর আন্তর্জাতিক মেইন পিলারের ৮ নম্বর সাব পিলারের কাছ থেকে গরু আনার সময় বিএসএফ তাকে গুলি করে।

দেখা যায় এমনিসব টুনকো বিষয়ে কোনরুপ দ্বিধা ছাড়াই তারা যথেচ্ছ গুলি চালিয়ে হত্যা করে বসে বাংলাদেশীদের। সীমান্তের লোকজনদের পালিত গবাদি পশু যদি কোন কারনে সীমান্ত অতিক্রম করে কিংবা সীমান্তের কাছাকাছি চলে যায় তখন তা আনতে গেলেই তারা কোনরূপ সতর্কতা প্রদর্শন ছাড়াই গুলি ছোড়ে। ভারত-বাংলাদেশের এমনও সীমান্ত আছে যা চলে গেছে কারো উঠান হয়ে, কারো কৃষি জমির পাশ দিয়ে,  খালের ধার দিয়ে কিংবা নদী পেরিয়ে। তাই সীমান্ত এ অঞ্চলের মানুষের কাছে নিজ আঙিনার মতই। দুপারের মানুষের মধ্যেই আছে যোগাযোগ আছে সুখ-দুঃখ আদান-প্রদান এবং খাদ্য সামগ্রির বিনিময়। এমনকি তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কও বিদ্যমান। দেশ দু’টি হলেও আছে ভাষার সামঞ্জস্য বেশ আর এখানকার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক এমনি। বন্ধুভাবাপন্ন মানুষের এই আবেগের যেন কোন মূল্যই নেই বর্বর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর। তারা বাংলাদেশের সীমান্তের ভেতরে বাংলাদেশী মানুষ দেখলেই যেন রক্ত পিপাসায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। বিগত বছরগুলির পরিসংখ্যান বলছে,  সীমান্ত হত্যা বাড়ছে৷ অথচ ভারতের শীর্ষ পর্যায় থেকে সীমান্তের এই হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা তেমন কার্যকর নয়৷ এক সময় বলা হত ভারতীয় গরুর চোরাকারবারিদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে তাদের এই পদক্ষেপ। ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু চোরাচালান প্রায় বন্ধ তাই গরু চোরাচালানের কারণে সীমান্ত হত্যা হচ্ছে – এই তত্ত্বটিও এখন আর টিকছে না৷ তাদের প্রতিশ্রুতির পরও কি সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়েছে? না হয়নি বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা বেড়েছে।

২০১১ সালে বিএসএফ ও বিজিবি পাচারকারী ও অবৈধপথে সীমান্ত পার হওয়া মানুষদের উপর প্রাণঘাতি কোন অস্ত্র ব্যবহার না করার চুক্তি স্বাক্ষর করে৷ এ চুক্তি পরবর্তী কয়েকবছর সীমান্তে হত্যা কমলেও,  বিগত বছরগুলোতে তা আবার বাড়ে দাঁড়িয়েছে৷  বিগত তিন বছরের পরিসংখ্যান বলছে- ২০১৩ সালে বিএসএফ সদস্যরা মোট ২৭জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে৷ এরপর ২০১৪ সালে হত্যা করেছে ৩৩ বাংলাদেশিকে৷ গত বছরে হত্যা করেছে ৪২ জনকে, আর  আহত হয়েছেন প্রায় শখানেক৷ এছাড়া বিএসএফ বিভিন্ন অজুহাতে ধরে নিয়ে গেছে ৫৯ জনকে৷ আর এ বছরের অন্যান্য হত্যার ধারাবাহিকতায় আজকেও তারা ঝরালও আরেকটি তাজা প্রান। কিন্তু কেন? কেন এই বর্বরতা? তাদের মধ্যে কি নেই নুন্নতম মানবিকবোধ…!

চোরাচালান বন্ধের অজুহাতে তাদের এহেন বর্বরতা অনেক বছর ধরেই, আমরা দেখেছি অসহায় নিরাপরাদ শিশু ফেলানিকে বিএসএফ নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করার পর তার লাশ কি জঘন্যভাবে সীমান্তের কাঁটা তাঁরে ঝুলে ছিল। ১৫ বছরের শিশু ফেলানী তার বাবার সাথে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টাকালে কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় জড়িয়ে পা ফসকে ঝুলে পড়েছিল সে। সাহায্যের জন্য ফেলানী চিৎকার করে আবেদন করলেও সাহায্যের বদল বিএসএফ-এর রক্ত পিপাসু ঘাতকরা আবেদনে সাড়া না দিয়ে সরাসরি গুলী করে তাকে হত্যা করেছিল ঐ ঝুলন্ত অবস্থায়ই। নরঘাতকরা হত্যার পরেও তার লাশ নামায়নি পর্যন্ত। হত্যা পরবর্তী ঐ অবস্থায় পাঁচ ঘণ্টা ফেলানীর লাশ ঝুলেছিল কাঁটাতারের বেড়ার ওপরই। দেশ-বিদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল ফেলানির লাশের সেই ঝুলন্ত ছবি।ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্বরতার একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় ফেলানি। স্বাভাবিকভাবে সবার ধারনা ছিল ফেলানির প্রতি অমানবিক এই ঘটনায় ভারতীয় রক্ত পিপাসু বর্বর বাহিনী বিএসএফ সাময়িকভাবে হলেও সীমান্তে নরহত্যা বন্ধ করবে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। এমনও ঘটেছে যে- কাঁটাতারের বেড়ার দুপাশে দাঁড়িয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দু’ বন্ধু হাসিঠাট্টার গল্প করছিল আর ভারতীর ঘাতক বাহিনী সেখানেই তাদের গুলী করে হত্যা করে। পৃথিবীতে এমন বর্বর বাহিনীর অস্তিত্ব কয়টা আছে কে জানে…! এরুপ কোন হত্যার পর বারংবার আমাদের বিজিবি পতাকা বৈঠকে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানাতেই সীমাবদ্ধ।

এর কি কোন প্রতিকার নেই? বন্ধু রাষ্ট্র ভারত কি আরেকটু বন্ধুভাবাপন্ন হতে পারে না?

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in