মেজর মুরাদ এর নাম রহস্য…!

43
SHARE

বাংলাদেশের দায়িত্বশীল দুটি সুত্রের পরস্পর সাংঘর্ষিক বক্তব্য জনমনে যথেষ্ট কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে নিহত হয় জেএমবির সামরিক শাখার প্রশিক্ষক মুরাদ, পুলিশের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ উল্লেখ করেছিলো, মুরাদ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। কিন্তু সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে মুরাদ নামে কোনও মেজর নেই। সামরিক গোয়েন্দারা এও উল্লেখ করেন,  প্রশিক্ষকদের জঙ্গিরা তাকে তাদের ‘মেজর’ বলে সম্বোধন করেন। হয়তো এ কারনেই সবাই তাকে সেনাবাহিনীর সদস্য বলে মনে করেছেন।

কিন্তু সমস্যাটা হল, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে জঙ্গি বিষয়গুলিতে ব্রিফ করা হলে জনগণ বিভ্রান্ত হয় তথা আমাদের প্রশাসনিক বাহিনীগুলোর সক্ষমতা ও সাফল্য দুটোই খর্ব এবং প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। এখন জনমনে প্রশ্নটা এমন- মুরাদ কী জেএমবির সামরিক শাখার ছদ্মবেশী মেজর নাকি সেনাবাহিনীর সাবেক কোনও সদস্য?  তার প্রকৃত নাম নিয়েও আছে ধোঁয়াশা অনেকের কাছে মেজর মুরাদ কোথাও জাহাঙ্গীর আবার কোথাও ওরফে ওমর… আসলে তার পরিচয় কি?

জঙ্গিদের নির্মূলের বিষয়ে আমাদের কোন প্রশ্ন নেই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের শক্তি-সামর্থ্যবান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রশংসার দাবী রাখে, কিন্তু ভয়টা এখানেই তারা যদি উচ্ছ্বাসিত হয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে অসমর্থ সুত্রের আলোকে দায়িত্বহীন বক্তব্য প্রেসগুলোর কাছে দিয়ে দেয় তবে তাদের সাফল্য বা অর্জন অনেক ক্ষেত্রেই ম্লান হয়ে যেতে পারে। উপরন্তু এমন পরিস্থিতি গোটা ব্যাপারটাই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে দেবে। হয়ত প্রশাসনে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে কারা আগে সন্ত্রাসী বা জঙ্গি দমন অভিযানের ক্রেডিট নেবে, কারা আগেই বলবে আমরাই করতে পেরেছি। সব কিছুই ঠিক আছে ক্রেডিট নিতে কোন সমস্যা নাই, আমাদের প্রশাসনের উপর সেই আস্থা মানুষ রাখে যে তারা চাইলেই সমাজের এই অসঙ্গতি ও প্রতিবন্ধকতাগুলি দূর করে দিতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তাদের বেফাঁস/অসমর্থ সুত্রের কোন কথাই যেন অযথা প্রশ্নের জন্ম না দেয়…!! জঙ্গিবাদ নিপাত যাক এটাই হউক পাথেয়…

বাংলাদেশীজম টিভির নতুন ভিডিও –

আপনার মন্তব্য