জংগীদের সহজ টার্গেট চট্টগ্রাম !!!

34
SHARE

সাধারনত কাজ ছাড়া খুব একটা বের হওয়া হয় না। একেবারেই না বলতে গেলে। মাঝে মাঝে আউটডোর ইভেন্ট থাকলে বের হই। তাও কালেভদ্রে। বেশীরভাগ সময়ে অফিসেই সময় চলে যায় নানা কাজে। হঠাত করেই নিজের মোবাইল ফোনটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গতকাল একটু বের হতে হল, যেতে হলো চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন জায়গায় – সানমার ওসান সিটি শপিং সেন্টার, যেটি নগরীর ব্যস্ততম এলাকা  – জিইসি তেই অবস্থিত। তড়িঘড়ি করে বের হয়েছিলাম বিকেল ৫টায় হালিশহর এলাকা থেকে। জ্যাম ঠেলে সেখানে পৌছালাম সন্ধ্যা ৬ টা বেজে ৪৯ মিনিটে। চট্টগ্রামে এত জ্যাম ইদানীং কালের সাধারন ঘটনা, তাই এর বদনামি আর নাই বা করলাম।

সানমার শপিং সেন্টারে ভিড় লেগেই থাকে সবসময়। বেচারা চট্টগ্রামের কপালে জুটেছে এতটুকু শপিং সেন্টারটি যেখানে ঢাকায় কত শপিং সেন্টার আরবিশাল সব প্রজেক্ট হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের বেশীরভাগই এরকম শপিং সেন্টার। এটা দিয়েই চলে আর একেবারে সেন্টারে হবার কারনে সব জায়গা থেকেই মানুষ আসে। আর এই ঈদের সময় তো ভিড়ের ঠেলায় বাঁচার উপায়ই নেই। তাও গতকাল মনে হয় ভিড় একটু কম ছিল। গাড়ি থেকে নেমেই শপিং সেন্টারে ঢুকার সময় দেখলাম একজন নিরাপত্তা কর্মী হাতে একটা মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ আসছে যাচ্ছে পিপড়ার মত। আর মাত্র একজন নিরাপত্তা কর্মী একটা মাত্র মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিশাল গেট দরিয়ার মত খোলা। বেচারা নিরাপত্তা কর্মী কাউকে চেক করতে পারছেন তো কাউকে পারছেন না। প্রতি ৫০ জনে তিনি বেশী হলে একজনকে চেক করছেন। আর মহিলাদের তো চেক করার প্রশ্নই উঠেনা। আর মহিলাদের চেক করার জন্য বিশেষ বা আলাদা কোন ব্যবস্থা নেই। জংগী হামলা এবং হুমকির পর, চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম শপিং সেন্টারের এই হলো মোট্মাট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যখন আমি নিজেই ঢুকলাম আমাকেও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেক করা হলো না। কাউকে আসলেই করা হচ্ছিল না। কিভাবেই বা করবে। না, কোন সিকিউরিটি গেইট বা স্ক্যানার নেই। শুধু একজন মানুষ হাতে একটা মেটাল ডিটেক্টর – আর কিছু না।

ঢাকার বসুন্ধরা শপিং সেন্টার বা যমুনা ফিউচার পার্ক – কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিয়ে রাখে সবসময়। আর জংগী হামলার পর যারা এসব শপিং সেন্টারে গিয়েছেন তারা জানেন নিরাপত্তা কতটা কড়াকড়ি। এবং কড়াকড়ি হওয়াটাই স্বাভাবিক। শুধু শপিং সেন্টার না, ঢাকার নানা গুরুত্বপূর্ন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ জোরদার। কিন্তু চট্টগ্রামের একটা কী-পয়েন্ট সানমার শপিং সেন্টারে কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকে এই শপিং সেন্টারে। অন্যান সব শপিং সেন্টারেও একই গল্প। সব জায়গা ঘুরে দেখা না হলেও নিশ্চিত বলতে পারি, যেখানে সানমার শপিং এর মত জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই অবস্থা, তাহলে অন্যান্য জায়গায় আর কিইবা হবে।

ঢাকায় জংগী হামলার পর থেকেই সরকার এবং প্রশাসনের নানা মহল বার বার সাবধান করেছেন যে জংগী হামলা আরও হতে পারে বা করার চেষ্টা হতে পারে। প্রতিদিন নতুন নতুন জংগী ধরা খাওয়ার পর তাদের কাহচ থেকেও তথ্য পাওয়া যায় নতুন হামলার প্রস্তুতির। এরকম একটা অবস্থায় চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কি অবহেলা করা হচ্ছে না? নিরাপত্তা কি শুধু ঢাকায় প্রয়োজন? চট্টগ্রামে কি নিরাপত্তার কোন প্রয়োজন নেই? চট্টগ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষের কি নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই? কোন সন্ত্রাসী গোষ্টী যদি হামলা করতে চায় ভিড়ভাট্টা আছে এমন জায়গায়, তাহলে তারা খুব সহজেই সানমার ওসান সিটিতে হামলা করতে পারে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোন সমস্যাই নেই। এরকম চিত্র চট্টগ্রামের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার। চট্টগ্রামে যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা সিটির মত হাই-প্রোফাইল কোন শপিং সেন্টার নেই – মানলাম। কিন্তু যেগুলো আছে সেগুলো কোন প্রোফাইল জানিনা, কিন্তু পুরো চট্টগ্রামের মানুষ তো এসব জায়গাতেই যায়।

আমি জানিনা শপিং সেন্টার গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা কাদের কাজ – প্রশাসন নাকি শপিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ? যে পক্ষই হোক না কেন, মানুষের জীবনের মায়া তাদের করা উচিত। অন্তত কিছুদিন যখন সমানে মানুষ চিন্তিত জংগী ইস্যু নিয়ে। এমন না যে চট্টগ্রামে বড় কোন হামলার চেষ্টা করা হয় নি। কিছু মাস আগে চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর ঘাটির মসজিদে কিন্তু আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরন ঘটানো হয়েছিল। হতাহত তেমন একটা না হলেও এটা কিন্তু খুবই চিন্তার বিষয় যে নৌঘাটির মত হাইলি সিকিউরড জায়গায় যদি তারা বিস্ফোরন ঘটাতে পারে তাহলে সানমার ওসান সিটি তো কোন ছাড়! সানমার ছাড়াও আছে নিউমার্কেট, আফমি প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট – এসব জায়গাতে হরহামেশাই ভিড় লেগে থাকে। শপিং সেন্টার ছাড়াও ট্যুরিজম পয়েন্টগুলো যেমন পতেঙ্গা সৈকত, ফয়েস লেক এসব জায়গাগুলো কতটা নিরাপদ এই মুহুর্তে। আমরা জানি জংগী দল সবসময় নিরীহ সাধারন মানুষ মেরে নিজেদের “বীরত্ব” জাহির করে।

যাই হোক, এই আর্টিকেলের উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনের নজর কাড়া। হয়তো চট্টগ্রাম বলে কারো চোখে পড়েনি ব্যাপারটা। নিজেদের চোখে পড়ল তাই জানানোর চেষ্টা করলাম। জানার পর হয়তো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই আশায় রইলাম।

নিরাপদ থাকুন।

আপনার মন্তব্য