কক্সবাজারে ইনফিনিটি সুইমিং পুল

হঠাত করেই ১০ মিনিটের প্ল্যানে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো একটা লং ড্রাইভ হয়ে যবে – চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার। কোরবানির ঈদের ঠিক ১ দিন পর। একেবারে পিক আওয়ার। এসময়ে কক্সবাজার একেবারে টুইটম্বুর থাকে। কিন্তু যেতে হবেই মাথায় ঢুকে গেছে ইতিমধ্যে। সাথে সাথেই রাত ৮টা থেকে হোটেল বুকিং এর জন্য ফোন দেয়া শুরু হলো। লংবীচ, সায়মন রিশোর্ট, মারমেইড, ওসান প্যারাডাইজ, কক্স টুডে – যত হোটেলের নাম মুখস্থ ছিল, গুগল করে ফোন নাম্বার বের করে বুকিং এর জন্য ফোন করা শুরু। কিন্তু বিধিবাম। কোন হোটেলেই জায়গা নেই। ১৭ তারিখের পরেই সবাই রুম দিতে পারবে – এর আগে কোন ভাবেই নয়। ইনফিনিটি পুল আছে এমন হোটেলের সংখ্যাও খুব কম। শুধু জানতাম সায়মনেই আছে।

যাই হোক এক ঘন্টা নানা জায়গায় ফোন করার পর নিসর্গ রিসোর্টে এক রাতের জন্য একটা এনসুইট রুম পাওয়া গেল। হোটেলের মান অনুযায়ী দাম আকাশচুম্বী ছিল কিন্তু আর কোন উপায়ও ছিল না। বুকিং কনফার্ম করলাম। শুনেছি এদের নাকি ইনফিনিটি পুল আছে। তবে কতটা ভাল তা নিয়ে কোন আইডিয়া নেই।

DSC_8610
চট্টগ্রাম কক্সবাজার হাইওয়ে

ভোর ৫ টায় যাত্রা শুরু করলাম। সবাইকে যার যার বাসা থেকে পিক করে করে কর্নফুলী ব্রীজ পর্যন্ত যেতে কিছু সময় চলে গেল। সকাল ৫ টা বেজে ৩০ মিনিটে হাইওয়েতে উঠলাম। রাস্তাঘাট বেশ খালি। ৩ ঘন্টার মধ্যে পোউছে গেলাম কক্সবাজার। মাঝখানে ফোর সিজন রেস্টুরেন্টে একটা ব্রেকও নিয়েছি। ৫ ঘন্টার রাস্তা ৩ ঘন্টায় পৌছে যাওয়ার সম্পূর্ন ক্রেডিট খালি হাইওয়ের উপর যায়।

No automatic alt text available.

DSC_8588

হোটেলে চেক-ইন করলাম। কলাতলী সৈকত থেকে মাত্র ১ কিমি দূরে এই নিসর্গ রিসোর্ট। হোটেলের বাইরের মানচিত্র খুব একটা খারাপ না। নতুন হোটেল বুঝাই যায়। আর এই হোটেলও একেবারে পরিপূর্ন। কক্সবাজারে আমার ফেভারিট লংবীচ হোটেল হলেও এবার তারা জায়গা দিতে পারেনি। তাই নিসর্গতেই উঠা। খুব একটা ছোট হোটেল না। সৈকতের পারেই বলা যায়। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। তবে লিফটদুটো বেশ ছোট। অন্তত হোটেলের স্ট্যান্ডার্ডে না। আর মাশাল্লাহ – এতটাই ধীর যে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেছিলাম প্রায় অপেক্ষা করতে করতে।

DSC_8668
নিসর্গ রিসোর্টের লবি
DSC_8673
নিসর্গ রিসোর্টের  লবি – ২

যাই হোক, বুক করা এনসুইট রুমে ঢুকে খুব একটা খারাপ লাগলনা। ছোট্ট একটা এপার্টমেন্টের মত, দুটো বেডরুম, একটা কমন স্পেস আর দুটো বাথরুম আর সমুদ্রমুখী দুটো ব্যালকনি। ভিউটা বেশ জটিল। পেছন দিকে পাহাড় আর সামনের দিকে সমুদ্র – মোটামুটি দুটো ভিউই পেয়ে গেলাম।

DSC_9082
পেছনের বারান্দা থেকে ভিউ
DSC_9001
সামনের বারান্দা থেকে ভিউ

নির্ঘুম রাত আর সকালের ড্রাইভিং – মোটামুটি ক্লান্ত। কিন্তু ঠিক করলাম সুইমিং পুলে নামব। হোটেলের ছাদেই তাদের ইনফিনিটি পুল। ছাদে গিয়েই ব্যাপারটা খুব একটা খারাপ লাগল না। যদিও পুল অতটা গভীর না, ২ ফিট আর ৪ ফিট গভীর। খুব আহামরী কিছু না। কিন্তু ভিউটা বেশ জটিল। একপাশে পাহাড় আর আরেকপাশে সমুদ্র। যদিও সায়মনের ইনফিনিটি পুলের মত না। আর সুইমিং পুলের পানি যে খুব পরিস্কার তাও বলতে পারছি না। মেইনটেনেন্স মনে হয় তেমন একটা হয় না। তবে খুব বেশী খারাপ না। যদি মার্কিং করা হয় তাহলে ৬ দেয়া যাবে ১০ এর মধ্যে। পুল এলাকায় কোন রেস্টুরেন্ট বা কিছু নেই। কয়েকটা চেয়ার টেবিল ছাড়া। আর পিক সিজন হওয়াতে মানুষের অভাব নেই। যাই হোক ইনফিনিটি পুলটা খুব একটা খারাপ আমি বলব না। নীচের ছবিগুলো দেখে নিজেরাই বলুন।

DSC_8787

DSC_8698
এটা আমি নিজেই – – 🙂

DSC_8689

DSC_8716

যাই হোক, একদিনের এই শর্টকাট ট্রিপে সমুদ্র সৈকত ছাড়া সব খানেই গিয়েছি। মারমেইড ক্যাফে, ঝাউবন রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। মূল প্ল্যান ছিল একটা লং ড্রাইভ আর হালকা রল্যাক্স। চট্টগ্রামে থাকি – সোইকত তো প্রতিদিনই দেখি। একটু রিলাক্স করার জায়গয়া তো চট্টগ্রামে তেমন নেই – তাই কক্সবাজার। খুব একটা যে খারাপ তাও না। তবে পিক সিজনে গেলে খরচ সবকিছুতেই একটু বেশী পড়ে। কিন্তু মাথায় একবার ভূত চাপলে কি আর কোনভাবে থামানো যায়। ফেরার সময় পাক্কা ৫ ঘণ্টা লেগেছে চট্টগ্রামে পোউছাতে। অনেক ট্রাফিক ছিল। খুব সম্ভব সকাল ১১ টায় রওনা দিয়েছি তাই। টানা ৫ ঘন্টা ড্রাইভ করা খুব বিরক্তিকর। স্পেশালি যদি অনেক ট্রাফিক থাকে। এবারে কক্সবাজার  হাইওয়েতে একটা বিরক্তিওকর ব্যাপার লক্ষ্য করেছি। সেটা হলো ছোট ছট কিছু সি এন জি টাইপের বাহন আর টেম্পু টাইপের গাড়ি হাইওয়ের যত্র তত্র কোন সিগ্ন্যাল ছাড়াই থেমে যাত্রী নামায় আর ওঠায়। এমনকি তারা একটু সাইড করেও রাখেনা। হাইওয়েতে অনেক বাক থাকে আর বেশীরভাগ গাড়িই দ্রুত গতিতে চলে- হঠাত করে এসব বাহন থেমে গেলে অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি আমরাও ২/৩ বার খুব হার্ড ব্রেক করতে হয়েছে। আমার মতে এটি খুবই বিপজ্জনক। আরও খেয়াল করলাম এসব বাহন গুলো চালাচ্ছে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিছু ছেলেমেয়ে যাদের ট্রাফিক সেন্স না থাকাটাই স্বাভাবিক। রাস্তায় অনেক হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি দেখেছি কিন্তু এদের দিকে কারও তেমন কোন নজর নেই।

যাই হোক, ২৮ ঘন্টার মাথায় আমাদের এবারের ট্রিপের সমাপ্তি টানা হলো। আগামীবার বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট থেকে কোথাও গেলে সেই জায়গা, হোটেল ইত্যাদির উপর পুরো রিভিউ আর ডকুমেন্টারি তৈরী করে আনব আশা করি। এবার করিনি কারন আগে অনেকবার কক্সবাজার নিয়ে মিনি প্রামান্যচিত্র তৈরী করেছি। এক জিনিষ আর কত বানাব। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে চলে যান – YouTube.com/bangladeshism

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

NahidRains Independent Film Maker, CEO of NahidRains Pictures & President of Bangladeshism Project

You might be interested in