হাইওয়েতে সাবধান!

57
SHARE

ঈদের একদিন পর নিজের হাইওয়েতে ড্রাইভ করার অভিজ্ঞতাটা সবার সাথে শেয়ার করা জরুরী মনে করছি হঠাত করেই। গত কদিনে কম করে হলেও ১০ টা খবর পড়লাম সড়ক দুর্ঘটনার, ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখলাম – গাড়ির ভেতরে থাকা নিহতদের লাশ সহ। সবই হাইওয়েতে হয়েছে। ঈদের একদিন পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়েতে নিজেই ড্রাইভ করে যাওয়ার সময় অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম এমন কিছুর যা আদপে হতে পারে প্রানঘাতী। অন্তত আমার কাছে এটাই মনে হয়েছে।

ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়ের কথা আমি খুব বেশী বলতে পারব না কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ের কথাই আমি বলছি এবং ধরে নিচ্ছি বাংলাদেশের বেশীরভাগ হাইওয়েগুলো অন্তত এর কাছাকাছি হবে। এই সড়কে গাড়ি চালাতে গেলে দেখবেন অসংখ্য-অগনিত ধীর গতির বাহন। কিছু আছে নতুন ধরনের সিএনজি ট্যাক্সি টাইপ গাড়ি যাকে স্থানীয়রা টম টম বলে। আর কিছু আছে জিপ গাড়ির মত যাকে টেম্পু বানিয়ে ব্যবহার করছে। সম্ভবত পুরোন পিক-আপ ট্রাককে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বানিয়েছে। আর কিছু আছে Hiace টাইপের লক্কঝক্কর মার্কা মাইক্রোবাস যারা স্থানীয়ভাবে যাত্রী পরিবহন করে।

DSC_8588

এ স্থানীয় যাত্রী পরিবহনকারী গাড়িগুলো (যদিও কতটা বৈধ এ ব্যাপারে ধারনা নেই) যখন তখন, যেখানে সেখানে থেমে যায় যাত্রী নামানো এবং উঠানোর জন্য। না কোন সিগ্ন্যাল, না সাইড করে দাঁড়ানো। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বেশীরভাগ গাড়ী গড়ে ৮০ কিমি বেগে চলে, ১০০ কিমি বেগেও অনেক গাড়ি চলে বিশেষ করে প্রাইভেট কারগুলো। হাইওয়েতে গাড়ি একটু জোরে চলবেই। যদিও লিগ্যাল স্পিড লিমিট কত তা জানা নেই। তো, জোরে ছুটতে থাকা একটা কার বা বাস হঠাত করে যদি গতি কমাতে হয় বা থামাতে হয় এটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর ঠিক এ ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়েতে। স্লো-ভেহিক্যাল গুলো যত্র-তত্র হাইওয়ের উপর থেকে যায় কোন ধরনের সিগ্ন্যাল ছাড়াই। এমনকি বাঁকের উপরও থেমে যায় যা আগে থেকে দেখা যায় না। এবং তারা কিন্তু সাইড করেও দাঁড়ায় না। সরাসরি রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী নামায় বা ওঠায়। পেছনে থাকা দ্রুতগামী গাড়িটির পাশ কাটিয়ে যাওয়া ছাড়া তখন কোন উপায় থাকে না। কারন হঠাত করা ব্রেক করে জোরে ছুটতে থাকা একটা গাড়িকে থামানো অনেক কস্টসাধ্য এবং বিপদজ্জনক। আর এখানেই ভয়ানক বিপদ। এসব বাহনকে ওভারটেক করে যাওয়া ছাড়া চালকের কোন উপায় থাকে না কিন্তু অপর পাশ থেকে যদি কোন বাস বা ট্রাক বা গাড়ি আসে একই সময়ে তাহলে সংঘর্ষ অনিবার্য। হাইওয়ে অতটা চওড়া না যে একসাথে ৩/৪ টা গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারবে। উল্টোদিকের গাড়িগুলোও থাকে সমান গতিতে। আর এধরনের গতিতে যেকোন সংঘর্ষ যেকোনভাবেই প্রানঘাতী। বাঁচার সম্ভাবনা কারোরই থাকার কথা না।

আরো ভয়র ব্যাপার হলো, এসব ছোট ছোট যাত্রীবাহি গাড়িগুলো, বিশেষ করে টমটম গুলোর চালক হলো ১৪-১৮ বছর বয়সী কিছু কিশোর। এমনকি তার চাইতে কম বয়সী থাকতে পারে। এদের ট্রাফিক সেন্স না থাকাটাই স্বাভাবিক! আর এরাই হাওওয়েতে এসব গাড়ি চালাচ্ছে। এবং এদের লাইসেন্স যে নেই এটা বলার জন্য খুব বেশী প্রমানেরও দরকার হয় না। এই সড়কে অনেকগুলো হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি দেখা যায় কিন্তু এসব গাড়িগুলোর কোন চেকিং দেখলাম না। বরং পুলিশও পাশ কাটিয়ে চলে যায়। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যেতে মোটামুটি ৪ ঘণ্টা লাগে। এ চার ঘন্টায় অন্তত ৫০ বার এধরনের গাড়িগুলোর জন্য হয় হঠাত করে হার্ড ব্রেক করে গাড়ি ধীর করতে হয় নতুবা রিস্ক নিয়ে ওভারটেক করে চলে যেতে হয়। অন্তত আমাদের ক্ষেত্রে এধরনের ঘটনা ঘটেছে। বছর খানেক আগেও এরকম ছিল না। কিন্তু এখন অতিরিক্ত পরিমানে বেড়ে গেছে এসব। এবং যেকোন মুহুর্তে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং হচ্ছে না যে তাও বলা যাবে না।

এসবের পর, আরো একটি ভয়ের ব্যাপার হলো বেপরোয়া বাস। বাসগুলো যেভাবে খুশী সেভাবেই গাড়ি চালায়। না এদের আছে নিজের প্রানের মায়া না আছে যাত্রীদের প্রানের মায়া। বিশেষ করে নন-এসি বাসগুলো বিমানের গতিতে চালিয়ে যায়। বাঁকের মাঝে ওভারটেকিং তাদের জন্য প্রতিদিনকার ব্যাপার। আর যাত্রী নামানো ওঠানো তো আছেই।

এগুলো ছাড়াও হাইওয়ের উপর মানুষ হাটাহাটি করে, হঠাত করে রাস্তা পার হয়, রাস্তার ঠিক মাঝখানে সাইকেল চালানো বা রিক্সাগুলো যেভাবে খুশী সেভাবে চালানো। যেকোন হাইওয়ের জন্য এই ব্যাপারগুলো ভয়ংকর। এগুলো যদি কন্ট্রোল করা না যায়, তাহলে বড় বড় দুর্ঘটনা হওয়া প্রতিদিনকার ব্যাপার। জানিনা হাইওয়ে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশ এখানে কিভাবে হেল্প করতে পারবে তবে এসব জিনিষগুলো অতি সত্তর বন্ধ করা প্রয়োজন যদি মানুষের জীবনের মূল্য থেকে থাকে। যেকেউ যেকোন সময়ে ভিক্টিম হয়ে যেতে পারে।

আপনার মন্তব্য